ব্রেকিং:
রাঙামাটিতে সেনা-পুলিশের টহল জোড়দার
  • রোববার   ২৯ মার্চ ২০২০ ||

  • চৈত্র ১৫ ১৪২৬

  • || ০৪ শা'বান ১৪৪১

সর্বশেষ:
দ্বিতীয় দিনেও ত্রান নিয়ে জনগণের দুয়ারে কাপ্তাইয়ের ইউএনও রাজস্থলীতে জনসাধারণের জন্য জনস্বাস্থ্যর উদ্যোগে হ্যান্ড স্যানিটাইজার স্থাপন কর্মহীন মানুষের ঘরে ঘরে খাবার পৌঁছে দিচ্ছে রাঙামাটি জেলা প্রশাসক খাদ্য সামগ্রী নিয়ে কর্মহীনদের পাশে দাঁড়ালেন রাঙামাটি জেলা প্রশাসক রাঙামাটিতে দুঃস্থ ও অসহায় পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ
৭৯৫

আজ মহান বিজয় দিবসের মাস

আলোকিত রাঙামাটি

প্রকাশিত: ১ ডিসেম্বর ২০১৮  


আসছে ১৬ই ডিসেম্বর, মহান বিজয় দিবস। দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে অগণিত প্রাণের বিনিময়ে ১৯৭১ সালের এই দিনে বাঙালি জাতির মহান বিজয় সূচিত হয়। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতার ডাকে সাড়া দিয়ে বাঙালি জাতি মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এরপর দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে ১৬ই ডিসেম্বর তার পরিসমাপ্তি ঘটে। ৩০ লাখ শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত বিজয়ের ৪৮ বছর পূর্ণ হবে আর কয়েক দিন পরেই। মুক্তির জয়গানে মুখর বাঙালি জাতি স্মরণ করবে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান সেই অকুতোভয় বীরদের।

জাতীয় জীবনের নানা সংকট আর সম্ভাবনা থাকলেও কাল ভোরে পূর্বাকাশে যে নতুন সূর্য উঠবে তা স্মরণ করিয়ে দেবে দিনটি গৌরবের, আনন্দে, বিজয়ের। এমনই এক দিনের প্রতিক্ষায় কেটেছে বাঙালির অনেক বছর।

১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসন থেকে দেশ মুক্ত হলেও ফের বাঁধা হিসেবে দেখা দেয় পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর অন্যায় শাসন। শোষণ ও নিপীড়ন সাথে বাঙালি বঞ্চিত হতে থাকে তার ন্যায্য অধিকার থেকে। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমান বাংলাদেশ) থেকে সম্পদ লুট করে নিয়ে পশ্চিম পাকিস্তানের গড়ে তোলা সম্পদের পাহাড়। তাদের অত্যাচার নির্যাতনের প্রতিবাদ ধীরে ধীরে গড়ে উঠে দামাল বাঙ্গালির মাঝে। ৫২-র ভাষা আন্দোলন, ৫৪-র নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট বিজয়, ৫৭-র স্বায়ত্তশাসন দাবি, ৬২ ও ৬৯ এর গণআন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালে বাঙালির মাঝে তীব্রভাবে জেগে উঠা মুক্তির আকাঙ্ক্ষা।

১৯৭১ সালের ৭-ই মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঢাকার রেসকোর্স ময়দান (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) বাঙ্গালীর প্রতি এক ভাষণে বাংলাদেশকে স্বাধীন ঘোষণা করে মুক্তিযুদ্ধের ডাক দেন। যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে প্রস্তুত থাকতে বলেন তিনি। মূলত সেদিন থেকে শুরু হয় স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার চূড়ান্ত অধ্যায়। বঙ্গবন্ধুর ডাকে শুরু হয় অসহযোগ আন্দোলন। চলে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি।

২৫-শে মার্চ গভীর রাতে নিরিহ ও নিরস্ত্র বাঙ্গালির উপর নেমে আসে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর এক আতর্কিত নারকীয় হত্যাযজ্ঞ। এক রাতের মধ্যেই বাঙালীকে নিশ্চিহ্ন করার প্রয়াস চালায় পাকিস্তান। ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বাঙালি জাতির কাণ্ডারি বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশকে স্বাধীনত ঘোষণা করেন।
এরপর লাখো প্রান আর মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে দীর্ঘ নয় মাস চলা যুদ্ধের অবসান ঘটে ১৬ই ডিসেম্বর। বাঙালি পায় তাদের নিজস্ব পরিচয়, ভূমি আর এক স্বপ্নের পতাকা।

অনেক ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে যে স্বাধীনতা, সেই বিজয়ের পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল এদেশেরই কিছু মানুষরূপী নরপশু। বর্তমানে তাদের ছায়া অনুসরণ করে চলছে এদেশেরই রাজনৈতিক দল বিএনপি-জামায়াত জোট। এই লজ্জা আমাদের, এই অপমান আমাদের মায়ের মতো দেশের।
বিজয় দিবসের প্রাক্কালে শপথ হোক এই, ‘মুক্তিযোদ্ধাদের রক্তে কেনা লাল-সবুজের বাংলাদেশের কোনো যুদ্ধাপরাধীর দল বা তাদের শরিকদের জায়গা হবেনা’। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার হাত ধরে এগিয়ে যাক বাংলাদেশ, স্বপ্নের সোনার বাংলার পথে। বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা সকলকে।

আলোকিত রাঙামাটি
আলোকিত রাঙামাটি
সম্পাদকীয় বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর