আলোকিত রাঙামাটি
  • বুধবার   ১২ আগস্ট ২০২০ ||

  • শ্রাবণ ২৮ ১৪২৭

  • || ২১ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

সর্বশেষ:
রাঙামাটির উপজেলা ভিত্তিক করোনা আপডেটঃ- রাঙামাটি সদর- আক্রান্ত ৪৭২, কাপ্তাই- আক্রান্ত ১০৩, কাউখালী- আক্রান্ত ৩০, বাঘাইছড়ি- আক্রান্ত ১৬, বরকল- আক্রান্ত ০৫, লংগদু- আক্রান্ত ১৮, রাজস্থলী- আক্রান্ত ১১, বিলাইছড়ি- আক্রান্ত ১৩, জুরাছড়ি- আক্রান্ত ২৩, নানিয়ারচর- আক্রান্ত ০৯। মোট আক্রান্ত- ৭০০, মোট সুস্থ- ৫৯০, মোট মৃত্যু- ১০ জন।
৪৫৪

কবর খোঁড়ার কোদালও দিলো না কেউ, এগিয়ে এলো ছাত্রলীগ

আলোকিত রাঙামাটি

প্রকাশিত: ৯ জুন ২০২০  

ফাইল ছবি


শ্বাসকষ্ট নিয়ে মারা যান জালাল আহমেদ নামে এক বৃদ্ধ। কিন্তু করোনা উপসর্গ থাকায় দাফনে আসেনি কোনো প্রতিবেশী। এমনকি কবর খোঁড়ার জন্য একটি কোদাল দিতেও আপত্তি তাদের। শেষ পর্যন্ত এগিয়ে এলেন দুই ছাত্রলীগ নেতা। তাদের সঙ্গে যোগ দেন মৃতের ছেলে করোনাজয় করা আইসোলেশনে থাকা পুলিশ সদস্য। রোববার রাতে এমনই ঘটনা ঘটে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার সৈয়দপুর ইউপির উত্তর বগাচতর গ্রামে।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে জ্বর-সর্দি ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন জালাল। রোববার সকালে তার শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে হাসপাতালে নিতে একটি অটোরিকশাকে খবর দেয়া হয়। কিন্তু ভয়ে কোনো গাড়ি আসেনি। পরে তাকে কোলে করেই বেশ কিছু পথ হেঁটে অ্যাম্বুলেন্সে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে দুপুরে তিনি মারা যান।

সন্ধ্যায় জালালের মরদেহ বাড়িতে আনা হয়। কিন্তু কোনো প্রতিবেশী তার মরদেহের কাছে যাননি। এছাড়া কবর খোঁড়ার জন্য একটি কোদাল দিতেও তারা আপত্তি জানান। এভাবেই মরদেহ দীর্ঘক্ষণ পড়ে থাকে। পরে খবর পেয়ে দুই ছাত্রলীগ নেতা আসেন।

উপজেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক মো. শায়েস্তা খান বলেন, আশপাশে কেউ আসছিলেন না। এতই নিস্তব্ধ পরিবেশ যেন দিনেও ভুতুড়ে পরিবেশ। একজন বৃদ্ধ মারা গেছেন, অথচ দাফনে পাশে নেই প্রতিবেশী। এমনকি একটি কোদাল দিতেও রাজি হননি কেউ। পরে কোদালের ব্যবস্থা করে ছাত্রলীগের কয়েকজনকে দিয়ে কবর খোঁড়া হয়। কিন্তু গোসল করানোর জন্য কেউ নেই। সেটিও আমাকে করতে হয়েছে।

তিনি বলেন, গোসল করানোর জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. নূর উদ্দিন রাশেদের কাছ থেকে পরামর্শ ও ইউএনও মিল্টন রায়ের কাছ থেকে পিপিই নেই। পরে সৈয়দপুর ইউপি ছাত্রলীগের সভাপতি মেজবাহ উদ্দিন রানাকে ডেকে নেই। এছাড়া গোসলের জন্য একজনকে আগে থেকে প্রস্তুত রেখেছি। যিনি সবসময় গোসল করান। খবর দিলে তিনিও আসেননি। পরে জানলাম, বাড়ির লোকজন তাকে আসতে দেননি। বাধ্য হয়ে আমি, রানা ও মৃতের ছেলে করোনাজয় করে আইসোলেশনে থাকা পুলিশ সদস্যকে নিয়ে গোসল দেই। পরে অল্প কয়েকজন নিয়ে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. নূর উদ্দিন রাশেদ বলেন, মৃত বৃদ্ধ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কিনা তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবু ভয়ে কেউ গোসল করাতে যাননি। তবে ছাত্রলীগ নেতা শায়েস্তা খানসহ কয়েকজনের ভূমিকা সত্যিই প্রশংসনীয়।

আলোকিত রাঙামাটি
আলোকিত রাঙামাটি
সারাদেশ বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর