• সোমবার   ০৬ এপ্রিল ২০২০ ||

  • চৈত্র ২২ ১৪২৬

  • || ১২ শা'বান ১৪৪১

সর্বশেষ:
রাঙামাটিতে হোম কোয়ারেন্টাইনে ১৮৬ জনের মধ্যে ছাড়পত্র পেয়েছে ১৩৬ জন, বর্তমানে হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছে ৫০ জন কাপ্তাই নৌ-বাহিনী ঘরে ঘরে পৌঁছে দিল ত্রাণ সামগ্রী বাঘাইছড়িতে কাচালং নদীতে গোসল করতে নেমে এক পাহাড়ী মেয়ে নিখোঁজ কাপ্তাইয়ে ইউএনও এবং সেনাবাহিনীর গাড়ী দেখে পালিয়ে গেল দোকানীরা
১৩৫

করোনার চেয়েও ভয়াবহ ‘গুজব ভাইরাস’

আলোকিত রাঙামাটি

প্রকাশিত: ২৩ মার্চ ২০২০  


করোনাভাইরাসে আতঙ্কিত গোটা দেশ। করোনাভাইরাসের ভয়াবহতায় সারাবিশ্ব স্থবির হয়ে পড়েছে। ইউরোপ থেকে শুরু করে নর্থ আমেরিকা, এমনকি দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় করোনা ছড়িয়ে পড়েছে। পুরো বিশ্ব বিচ্ছিন্ন, জনজীবন আতঙ্কিত এবং করোনাভাইরাসের মহামারী ঠেকাতে কোন পথ খুঁজে পাচ্ছে না বিজ্ঞানের নবযুগে প্রবেশ করা উন্নত রাষ্ট্রগুলো পর্যন্ত। বাংলাদেশেও করোনার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এখন পর্যন্ত ২৭ জন করোনা রোগী শনাক্ত করা হয়েছে।

কিন্তু বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের চেয়েও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে গুজব ভাইরাস এবং বিএনপি-জামায়াতের সুনির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তি দেশ এবং বিদেশ থেকে নানারকম অসত্য গুজব ছড়িয়ে জনমনে আতঙ্ক আর বিভ্রান্তির সৃষ্টি করছে। বাংলাদেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু এসব আইনকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে গুজবের ডালপালা বিস্তার লাভ করছে এবং এই গুজবের প্রধান লক্ষ্য জনগণকে বিভ্রান্ত, আতঙ্কিত করা এবং জনগণকে সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তোলা। দৃশ্যত এইসব গুজব সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বিএনপি-জামায়াত প্রথমবারের মতো সরকারকে কিছুটা কোণঠাসা করেও ফেলেছে।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে যে, বাংলাদেশে করোনাভাইরাস নিয়ে যে গুজবগুলো ছড়ানো হচ্ছে, সেগুলো মূলত ছড়াচ্ছে বিএনপি-জামায়াত এবং গুজবের কিছু জায়গা রয়েছে। যেমন লন্ডন থেকে গুজব ছড়ানো হচ্ছে বেশি, আমেরিকা থেকে কিছু গুজব ছড়ানো হচ্ছে, বাংলাদেশেও কিছু ব্যক্তি ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই গুজবগুলোকে ছড়িয়ে দিচ্ছে। আপতদৃষ্টিতে অতি উৎসাহী মানুষের অপপ্রচার মনে হলেও, ক্রমশ এটা যে পরিকল্পিত তথ্য সন্ত্রাস তা প্রমাণিত হচ্ছে। বিশেষ করে এইসব গুজবগুলোর সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য যখন সরকারের উপর সাধারণ মানুষের আস্থা নষ্ট করে দেয়া, তখন বোঝাই যাচ্ছে যে, এটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে গুজব ছড়ানো হচ্ছে।

ইতিমধ্যে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা গুজবসন্ত্রাস সৃষ্টির জন্য কয়েকজনকে আটক করেছে এবং যাদেরকে আটক করা হয়েছে তাঁদের পরিচয় খুঁজতে গিয়ে দেখা গেছে যে, এরা প্রত্যেকেই বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্কিত। এসমস্ত গুজবগুলো এমনভাবে ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে যে, অর্থ খরচের মাধ্যমে এসব গুজব সামাজিক মাধ্যমে বুস্ট করা হচ্ছে যাতে সাধারণ মানুষের কাছে এটা পৌঁছায় সেটা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

করোনাভাইরাস যখন বাংলাদেশে প্রথম সংক্রমিত হয়, তাঁর পর থেকেই এই গুজব সন্ত্রাস শুরু হয়। প্রথমে এই গুজব শুরু হয়ছিল করোনাভাইরাস ছড়ানোর আগে থেকেই। যখন বলা হচ্ছিল যে, বাংলাদেশে করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী রয়েছে, কিন্তু ১৭-ই মার্চের আগে প্রকাশ করা হবেনা এবং বিএনপির কিছু নেতারা প্রকাশ্যেই এই গুজবকে বৈধতা দিয়েছিল বিভিন্ন সভা-সমাবেশের মাধ্যমে। যতই দিন যাচ্ছে ততই এই গুজব ভাইরাস লাগামহীন আকার ধারণ করছে।

সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্রগুলো মনে করছে, এখনই যদি এই গুজবগুলোকে বন্ধ করা না যায়, তাহলে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে যে, মূলধারার গণমাধ্যমের বদলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের গুজবকেই মানুষ বেশি প্রাধান্য দিবে। ইতিমধ্যেই মানুষ মনে করছে যে, এগুলোর কিছু না কিছু হয়তো সত্য। বিশেষ করে যে মৃত্যুর সংখ্যা এবং আক্রান্তের  সংখ্যা নিয়ে জনমনে গুজবকারীরা সফলভাবে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে। অথচ এর বিপরীতে প্রকৃত অবস্থা নিয়ে সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করার প্রচারণা একেবারেই নেই।

করোনাভাইরাস বাংলাদেশে শনাক্ত হবার পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় শুধুমাত্র পত্রিকায় কিছু সতকর্তামূলক বিজ্ঞাপন দিয়েই ক্ষান্ত হয়েছে। কিন্তু টেলিভিশন এবং বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কোন উপস্থিতি নেই।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছে যে, অপরিকল্পিত অপপ্রচার হচ্ছে, সেই অপপ্রচারকে বন্ধ করার জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও প্রচারণা দরকার। বিশেষ করে যে সমস্ত অপপ্রচার, মিথ্যাচার যেই ফেসবুক একাউন্ট বা পেজ থেকে প্রচার করা হচ্ছে সেগুলোর বিরুদ্ধে অবিলম্বে রিপোর্ট করা দরকার অথবা সেগুলো বন্ধ করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার।

অনেকেই মনে করছে যে, সাম্প্রতিক সময়ে জনগণের চলাফেরা যেমন সীমিত করা হয়েছে তেমনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও নজরদারি এবং সীমিতকরণ করা প্রয়োজন। বিশেষ করে কিছু সময়ের জন্য ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম- যেগুলোতে গুজব ছড়ানো যায়, সেগুলো বন্ধ রাখা উচিত বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ গুজব যদি মূল সত্য সংবাদের উপর প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হবেই। তখন করোনাভাইরাস মোকাবেলার সাথে দেশের শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষা করাও জটিল হয়ে যাবে। করোনাভাইরাস মোকাবেলার পাশাপাশি গুজব ভাইরাসও মোকাবেলা করা উচত বলে রাজনৈতিক সচেতন মহল মনে করছে।

আলোকিত রাঙামাটি
আলোকিত রাঙামাটি
রাজনীতি বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর