আলোকিত রাঙামাটি
ব্রেকিং:
রাঙামাটি জেলায় নতুন করে করোনায় আক্রান্ত ৯ জন, মোট আক্রান্ত ৪৫১
  • সোমবার   ১৩ জুলাই ২০২০ ||

  • আষাঢ় ৩০ ১৪২৭

  • || ২২ জ্বিলকদ ১৪৪১

সর্বশেষ:
কাপ্তাইয়ে দুস্থ মহিলাদের মাঝে জেলা পরিষদের সেলাই মেশিন বিতরণ বাঘাইছড়িতে পাহাড়ধসে উপজেলা সদরের সাথে খেদারমারা ইউনিয়নের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ কাপ্তাইয়ে দুদকের বির্তক প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ সেলাই মেশিন, বাদ্যযন্ত্র ও নগদ অর্থ বিতরণ করলো দীপংকর তালুকদার করোনা জয় করে কাজে যোগ দিলেন কাপ্তাই থানার ওসি নাসির রাঙামাটিতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করলো জেলা প্রশাসন
২৩০

করোনার যুগে মসজিদে জামাত

আলোকিত রাঙামাটি

প্রকাশিত: ২২ মার্চ ২০২০  


করোনাভাইরাসের থাবায় আক্রান্ত গোটা বিশ্ব। সর্বত্র আতঙ্ক আর উৎকণ্ঠা। বিশ্বের চরম উৎকণ্ঠার প্রভাব পড়েছে মুসলিম বিশ্বেও। করোনার সংক্রমণ ছড়ানো ঠেকাতে জনসমাগম এড়ানোর লক্ষ্যে বিভিন্ন দেশে বন্ধ করা হয়েছে মসজিদের জামাত। ১৭ মার্চ সৌদি আরবের সর্বোচ্চ ওলামা পরিষদের অনুমতিক্রমে মক্কা ও মদিনার দুই মসজিদ (মসজিদে হারাম ও নববি) ছাড়া সারাদেশের সব মসজিদে মুসল্লিদের উপস্থিতি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ দুই মসজিদ ছাড়া অন্য কোথাও হবে না জুমার নামাজ। ওমরাহ ভিসা অনেক আগেই বন্ধ করা হয়েছিল।

পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে দেশটির সর্বোচ্চ ওলামা পরিষদের প্রধান আবদুল আজিজ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ আলে শায়খ আত তামিমি বলেছেন, কোরআনে কারিমে ইরশাদ হয়েছে, 'তোমরা নিজেদের ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিও না।' -সুরা বাকারা :১৯৫

কোরআনে কারিমের সুরা নিসার ২৯ নম্বর আয়াতে ইরশাদ হচ্ছে, 'তোমরা নিজেরা নিজেদের হত্যা করো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ব্যাপারে পরম দয়ালু।' আর হাদিস শরিফে এসেছে, হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, 'তোমরা কুষ্ঠ রোগী থেকে দূরে থাকো, যেভাবে তুমি বাঘ থেকে দূরে থাকো।' -সহিহ বোখারি : ৫৭১৭। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন, 'কেউ যেন রোগাক্রান্ত উট সুস্থ উটের সঙ্গে না রাখে।' -সহিহ বোখারি : ৫৭৭১

কোরআনে কারিমের এসব আয়াত ও রাসুলের বর্ণিত হাদিসের আলোকে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, মুসলমানদের জন্য নিজেদের প্রাণের শঙ্কা রয়েছে এমন কাজ থেকে বিরত থাকা ওয়াজিব। তাই করোনার কারণে জুমা ও অন্য ফরজ নামাজের জামাত মসজিদে আদায় স্থগিত করে উচ্চৈঃস্বরে আজান দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কেননা হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, 'যখন বান্দা অসুস্থ হয়ে পড়ে কিংবা সফরে থাকে, তখন তার জন্য তা-ই লেখা হয়, যা সে আবাসে সুস্থ অবস্থায় আমল করত।' -সহিহ বোখারি : ২৯৯৬। অন্য হাদিসে এসেছে, 'নিজের ক্ষতি করা যাবে না, অন্যের ক্ষতি করা যাবে না।' -ইবনে মাজাহ :২৩৩১। কোরআন ও হাদিসের এসব বর্ণনার দিকে তাকিয়ে সৌদি আরবে জুমা ও জামাত স্থগিত করে (হারামাইন ব্যতীত) ঘরে নামাজ পড়তে বলা হয়েছে।

করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশে মসজিদ বন্ধের উদাহরণ সামনে টেনে বাংলাদেশে মসজিদ বন্ধের পক্ষে-বিপক্ষে জোরালো তর্ক ও আলোচনা চলছে। কিন্তু বাংলাদেশের সার্বিক পরিস্থিতি আমরা যতটুকু জানি, তাতে জুমা ও জামাতের ব্যাপারে ভিন্ন সিদ্ধান্তে আসার মতো পরিস্থিতি এখনও সৃষ্টি হয়নি। বাইরের যেসব দেশের কথা উল্লেখ করা হচ্ছে তাদের মতো পরিস্থিতির অবনতি হয়নি।

আর ইসলামি শরিয়তে সাধারণভাবে জুমা ও জামাত স্থগিত করার অবকাশ নেই। কোনো এলাকায় পরিস্থিতির অবনতি হলে শুধু সেখানে ভিন্ন হুকুম প্রযোজ্য। কারও ভেতর রোগের লক্ষণ দেখা দিলে সে অপারগ হিসেবে ঘরে নামাজ পড়বে এবং জুমার পরিবর্তে জোহরের নামাজ আদায় করবে। তবে করোনা প্রতিরোধে অভিজ্ঞ ডাক্তাররা যেসব পরামর্শ দিচ্ছেন তা মেনে চলতে কোনো সমস্যা নেই। ইসলামি শরিয়ত তা সমর্থন করে। এর পরও মসজিদে যারা যাবেন তারা সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে যাবেন। আর মসজিদ কর্তৃপক্ষ মসজিদ পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেবেন।

মানছি, বিশ্বায়নের প্রভাবে করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট মহামারি নিয়ে মানুষের ভেতর আতঙ্কের পরিমাণ অনেক বেশি। গত তিন-চার মাসে এই ভাইরাসে কয়েক হাজার মানুষ মারা গেছে। আর বাংলাদেশের জনজীবন এখনও স্থবির হয়ে পড়েনি। মিল-কারখানা ও গার্মেন্ট ফ্যাক্টরিতে হাজার হাজার মানুষ একত্রে কাজ করছে, মার্কেট ও শপিংমল চালু আছে। বাস, জাহাজে একত্রে বহু মানুষ চলাচল করছে। বাজারেও মানুষের উপস্থিতি কম নয়। অপ্রয়োজনীয় আড্ডা ও জমায়েত এখনও বন্ধ হয়নি। সে তুলনায় মসজিদে জনসমাগমের পরিমাণ খুবই কম। তাই মসজিদের জনসমাগম নিয়ে প্রশ্ন তোলার সময় এখনও হয়নি। আমরা যতটুকু জানি, বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশের আলেমরা ইতিবাচক। ইতোমধ্যে তাদের তত্ত্বাবধানে চলা আবাসিক-অনাবাসিক কওমি মাদ্রাসাগুলো ছুটি ঘোষণা করেছেন। আর মসজিদ বন্ধের ঘোষণা দিলেই করোনা নিয়ন্ত্রণ হয়ে যাচ্ছে এমনও নয়। বিষয়টি আলেমদের পর্যবেক্ষণে রয়েছে। তাদের অনেকেই বলেছেন, সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় প্রয়োজনে করোনা বিস্তাররোধে মসজিদ বন্ধের নির্দেশনা দেওয়া যেতে পারে। তবে এটা যেন মানুষকে আল্লাহমুখী হতে গাফেল না করে দেয়। আর মসজিদ বন্ধের দাবিও যেন কোনো বিদ্বেষ থেকে উচ্চারিত না হয়। মুসলিম হিসেবে আমাদের এই বিশ্বাস রাখতে হবে, রোগ-ব্যাধি থেকে রক্ষার ক্ষমতা কেবল আল্লাহর। এটা শুধু মসজিদে না গেলে বেঁচে থাকা যাবে তা নয়, বরং অন্য কোনোভাবেও মানুষ তাতে আক্রান্ত হতে পারে।

ইসলামবিষয়ক লেখক

সূত্রঃ সমকাল

 

আলোকিত রাঙামাটি
আলোকিত রাঙামাটি
ধর্ম বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর