আলোকিত রাঙামাটি
  • বৃহস্পতিবার   ০৬ আগস্ট ২০২০ ||

  • শ্রাবণ ২২ ১৪২৭

  • || ১৫ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

সর্বশেষ:
রাঙামাটির উপজেলা ভিত্তিক করোনা আপডেটঃ- রাঙামাটি সদর- আক্রান্ত ৪৩৫, কাপ্তাই- আক্রান্ত ১০২, কাউখালী- আক্রান্ত ৩০, বাঘাইছড়ি- আক্রান্ত ১৫, বরকল- আক্রান্ত ০৫, লংগদু- আক্রান্ত ১৫, রাজস্থলী- আক্রান্ত ১০, বিলাইছড়ি- আক্রান্ত ১৩, জুরাছড়ি- আক্রান্ত ২৩, নানিয়ারচর- আক্রান্ত ০৯। মোট আক্রান্ত- ৬৫৭, মোট সুস্থ- ৫৫০, মোট মৃত্যু- ১০ জন।
২৮৩

জুমার বিশেষ আমল ও দাজ্জালের ফিতনা থেকে বাঁচার রক্ষাকবচ

আলোকিত রাঙামাটি

প্রকাশিত: ১০ জুলাই ২০২০  

যে ব্যক্তি সূরা আল কাহাফ এর প্রথম দশটি আয়াত মুখস্থ করবে তাকে দাজ্জালের অনিষ্ট হতে নিরাপদ রাখা হবে। (মুসলিম, মিশকাত)।


আল কাহাফ (আরবি ভাষায়: الكهف) পবিত্র ধর্মীয় গ্রন্থ কোরআনুল কারিমের ১৫তম পারার ১৮তম সূরা। এর আয়াত সংখ্যা ১১০টি এবং রূকুর সংখ্যা ১১টি। আল কাহফ সূরাটি মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে।

হজরত আনাস (রা.) হতে বর্ণিত, এ পুর্ণাঙ্গ সূরাটি এক সঙ্গে নাজিল হয়েছে এবং এর সঙ্গে ৭০ হাজার ফিরিস্তা দুনিয়াতে আগমন করেছেন।

এ সূরায় আসহাবে কাহাফ তথা ওই সব মুমিন যুবক যারা দ্বীনকে সংরক্ষণের জন্য নিজেদের কোনো এক পাহাড়ের একটি গুহায় আত্মগোপনে রেখেছিলেন। তাদের ঘটনা বর্ণিত হওয়ায় এ সূরার নামকরণ করা হয়েছে সূরা আল কাহাফ।

জুমার বিশেষ আমল ও দাজ্জালের ফিতনা থেকে বাঁচার রক্ষাকবচ:

দাজ্জালের ফিতনা এই উম্মাতের ওপর সবচাইতে বড় ফিতনা। এই দাজ্জালের ফিতনা থেকে বাঁচার জন্য সূরা আল কাহাফ বার বার পড়ার উপদেশ এসেছে। যেহেতু সবচাইতে বড় ফিতনার রক্ষাকবচ হিসেবে এই সূরাকে নির্ধারণ করা হয়েছে সেহেতু বর্তমানে আমাদের সমাজে ঘটে যাওয়া অন্য যেকোনো ফিতনা ওই দাজ্জালের ফিতনা থেকে কম এটা স্বাভাবিক; আর যেহেতু দাজ্জালের ফিতনা থেকে বাঁচার জন্য সূরা আল কাহাফকে রক্ষাকবচ হিসাবে নির্ধারন করা হয়েছে সেহেতু আমাদের আশেপাশের সব ফিতনা থেকে বাঁচার জন্য এই সূরা অনেক কার্যকরী হবে এটাই বাস্তব সত্য। আর ৭ দিন পর পর এই সূরা পড়া, বোঝার মাধ্যমে একজন মুসলিম তার আশেপাশের ফিতনার মোকাবিলায় শক্তি পাবে এটাই আল্লাহ চান। 

সূরা আল কাহাফ সম্পর্কে অনেক হাদিস বর্ণিত হয়েছে। সেসব হাদিসগুলো থেকে কয়েকটি হাদিস তুলে ধরা হলো।

> যে ব্যক্তি জুমার দিন সূরা আল কাহাফ পড়বে, তার (ঈমানের) নূর এ জুমাহ হতে আগামী জুমাহ পর্যন্ত চমকাতে থাকবে। (মিশকাত ২১৭৫)।

> যে ব্যক্তি সূরা আল কাহাফ এর প্রথম দশটি আয়াত মুখস্থ করবে তাকে দাজ্জালের অনিষ্ট হতে নিরাপদ রাখা হবে। (মুসলিম, মিশকাত)।

> ‘যে ব্যক্তি সূরা কাহাফ পাঠ করবে, কিয়ামতের দিন তার জন্য এমন একটি নূর হবে, যা তার অবস্থানের জায়গা থেকে মক্কা পর্যন্ত আলোকিত করে দিবে। আর যে ব্যক্তি উহার শেষ দশটি আয়াত পাঠ করবে, তার জীবদ্দশায় দাজ্জাল বের হলেও সে তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।’ (সিলসিলায়ে সহিহা: ২৬৫১)।

> যে ব্যক্তি জুমার রাত্রিতে সূরা কাহাফ পাঠ করবে, তার জন্য স্বীয় অবস্থানের জায়গা হতে পবিত্র মক্কা পর্যন্ত একটি নূর হবে।’ (সহীহ তারগীব ওয়াত্ তারহীব - ৭৩৬)।

জুমার দিনে সূরা কাহফ পাঠ করিলে কিয়ামত দিবসে তার পায়ের নীচ থেকে আকাশের মেঘমালা পর্যন্ত নূর আলোকিত হবে এবং দুই জুমার মধ্যবর্তী গুনাহ মাফ হবে। (আত তারগীব ওয়াল তারহীব- ১/২৯৮)

> জনৈক ব্যক্তি সূরাহ আল কাহফ পড়ছিল। তখন লোকটি তাকিয়ে দেখতে পেল একখণ্ড মেঘ তাকে পরিবেষ্টন করে নিয়েছে। বারা ইবনু আযিব বর্ণনা করেছেন যে, লোকটি বিষয়টি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসালাম এর কাছে বললেন। তিনি তাকে উদ্দেশ্য করে বললেন, হে অমুক তুমি সূরাটি পড়তে থাক। কারণ এটি ছিল আল্লাহর রহমত বা প্রশান্তি যা কোরআন তেলাওয়াতের কারণে বা কোরআন তেলাওয়াতের জন্য অবতীর্ণ হয়েছিল। (মুসলিম- ১৭৪২)।

অর্থাৎ এটা হলো আল্লাহ  তায়ালার পক্ষ থেকে ওই ‘সাকিনা’ বা প্রশান্তি যা কোরআন পাঠের সময় অবতীর্ণ হয়ে থাকে।

আজ আমরা সূরা আল-কাহফের মূল আরবি থেকে বাংলা অনুবাদ (প্রথম ১০ আয়াত) জেনে নেব-

بِسْمِ اللّهِ الرَّحْمـَنِ الرَّحِيمِ     
বাংলা অনুবাদ: শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।

(১) 
الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَنزَلَ عَلَى عَبْدِهِ الْكِتَابَ وَلَمْ يَجْعَل لَّهُ عِوَجَا    
বাংলা অনুবাদ: সব প্রশংসা আল্লাহর যিনি নিজের বান্দার প্রতি এ গ্রন্থ নাজিল করেছেন এবং তাতে কোনো বক্রতা রাখেননি।

(২)    
قَيِّمًا لِّيُنذِرَ بَأْسًا شَدِيدًا مِن لَّدُنْهُ وَيُبَشِّرَ الْمُؤْمِنِينَ الَّذِينَ يَعْمَلُونَ الصَّالِحَاتِ أَنَّ لَهُمْ أَجْرًا حَسَنًا: 
বাংলা অনুবাদ: একে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন যা আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি ভীষণ বিপদের ভয় প্রদর্শন করে এবং মুমিনদেরকে যারা সৎকর্ম সম্পাদন করে-তাদেরকে সুসংবাদ দান করে যে, তাদের জন্যে উত্তম প্রতিদান রয়েছে।

(৩)    
مَاكِثِينَ فِيهِ أَبَدًا    
বাংলা অনুবাদ: তারা তাতে অনন্তকাল অবস্থান করবে।

(৪)   
وَيُنذِرَ الَّذِينَ قَالُوا اتَّخَذَ اللَّهُ وَلَدًا    
বাংলা অনুবাদ: আর যেন সতর্ক করে তাদেরকে, যারা বলে, আল্লাহ সন্তান গ্রহণ করেছেন।

(৫)    
مَّا لَهُم بِهِ مِنْ عِلْمٍ وَلَا لِآبَائِهِمْ كَبُرَتْ كَلِمَةً تَخْرُجُ مِنْ أَفْوَاهِهِمْ إِن يَقُولُونَ إِلَّا كَذِبًا    
বাংলা অনুবাদ: এ ব্যাপারে তাদের কোনো জ্ঞান নেই এবং তাদের পিতৃপুরুষদেরও না। বড় মারাত্মক কথা, যা তাদের মুখ থেকে বের হয়। মিথ্যা ছাড়া তারা কিছুই বলে না!

(৬)  
فَلَعَلَّكَ بَاخِعٌ نَّفْسَكَ عَلَى آثَارِهِمْ إِن لَّمْ يُؤْمِنُوا بِهَذَا الْحَدِيثِ أَسَفًا    
বাংলা অনুবাদ: হয়তো তুমি তাদের পেছনে পেছনে ঘুরে দুঃখে নিজকে শেষ করে দেবে, যদি তারা এই কথার প্রতি ঈমান না আনে।

(৭)  
إِنَّا جَعَلْنَا مَا عَلَى الْأَرْضِ زِينَةً لَّهَا لِنَبْلُوَهُمْ أَيُّهُمْ أَحْسَنُ عَمَلًا    
বাংলা অনুবাদ: নিশ্চয় জমিনের ওপর যা রয়েছে, তা আমি শোভা করেছি তার জন্য, যাতে তাদেরকে পরীক্ষা করি যে, কর্মে তাদের মধ্যে কে উত্তম।

(৮)    
وَإِنَّا لَجَاعِلُونَ مَا عَلَيْهَا صَعِيدًا جُرُزًا    
বাংলা অনুবাদ: আর নিশ্চয় তার ওপর যা রয়েছে তাকে আমি উদ্ভিদহীন শুষ্ক মাটিতে পরিণত করব।

(৯)  
أَمْ حَسِبْتَ أَنَّ أَصْحَابَ الْكَهْفِ وَالرَّقِيمِ كَانُوا مِنْ آيَاتِنَا عَجَبًا    
বাংলা অনুবাদ: তুমি কি মনে করেছ যে, গুহা ও রাকীমের অধিবাসীরা ছিল আমার আয়াতসমূহের এক বিস্ময়?

(১০) 
إِذْ أَوَى الْفِتْيَةُ إِلَى الْكَهْفِ فَقَالُوا رَبَّنَا آتِنَا مِن لَّدُنكَ رَحْمَةً وَهَيِّئْ لَنَا مِنْ أَمْرِنَا رَشَدًا    
বাংলা অনুবাদ: যখন যুবকরা গুহায় আশ্রয় নিল অতঃপর বলল, ‘হে আমদের রব! আমাদেরকে আপনার পক্ষ থেকে রহমত দিন এবং আমাদের জন্য আমাদের কর্মকাণ্ড সঠিক করে দিন’।

এই সূরায় আল্লাহ ৪টি সুন্দর কাহিনীর সমাবেশ ঘটিয়েছেন। এক একটা কাহিনী শিক্ষায় পরিপূর্ণ, হেদায়াতের আলোয় উদ্ভাসিত! তিনি কাহিনীর মাঝে মাঝে আবার কিছু উপদেশ দিয়েছেন। অসাধারণভাবে মিশিয়েছেন কাহিনী, বক্তব্য ও উপদেশ। এর একটি নমুনা দেয়া যাক।

১-৮ আয়াতে তিনি বক্তব্য দিয়েছেন।

৯-২৬ আয়াতে বর্ণনা করেছেন আসহাবে কাহাফের ঘটনা।

২৭-৩১ আয়াতে আবার বক্তব্য দিয়ে (৩২-৪৪) আয়াতে দুটি বাগানের মালিক এর ঘটনা বলেছেন।

এরপর আবার লম্বা বক্তব্য ও উপদেশ দিয়েছেন (৪৫-৫৯) আয়াতে।

যেহেতু বক্তব্য ও উপদেশ একটু লম্বা হয়েছে, সেজন্যই মনে হয় টানা ২টি কাহিনী বর্ণনা করেছেন তিনি (৬০-১০১) আয়াতে।

সে দুটি হলো- হজরত মুসা (আ.) এবং খিজির নামক জ্ঞানী ব্যক্তির ঘটনা ও যুলকারনাইন সম্পর্কিত ঘটনা। আবার সূরা শেষ করেছেন (১০২-১১০) নম্বর আয়াতের বক্তব্য ও উপদেশ দিয়ে।

এ এক অসাধারণ গাঁথুনি। ৪টি ঘটনা, ৪টি বক্তব্য ও উপদেশের অসাধারণ সমাবেশ।

মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালা মুসলিম উম্মাহকে যত্নসহকারে; বিশেষ করে জুমার দিন সূরা আর কাহাফের আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

আলোকিত রাঙামাটি
আলোকিত রাঙামাটি
ধর্ম বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর