আলোকিত রাঙামাটি
  • মঙ্গলবার   ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০ ||

  • আশ্বিন ৮ ১৪২৭

  • || ০৪ সফর ১৪৪২

সর্বশেষ:
রাঙামাটির উপজেলা ভিত্তিক করোনা আপডেটঃ- রাঙামাটি সদর- আক্রান্ত ৬১৯, কাপ্তাই- আক্রান্ত ১১৬, কাউখালী- আক্রান্ত ৩১, বাঘাইছড়ি- আক্রান্ত ২৫, বরকল- আক্রান্ত ০৫, লংগদু- আক্রান্ত ২৫, রাজস্থলী- আক্রান্ত ১১, বিলাইছড়ি- আক্রান্ত ১৩, জুরাছড়ি- আক্রান্ত ২৩, নানিয়ারচর- আক্রান্ত ১০। মোট আক্রান্ত- ৮৮৫, মোট সুস্থ- ৮২৫, মোট মৃত্যু- ১২ জন।
১৪২৫

তিন পার্বত্যাঞ্চলে পিসিআর ল্যাব ও আইসিইউ স্থাপনের জোর দাবি

আলোকিত রাঙামাটি

প্রকাশিত: ১৪ জুন ২০২০  


রাঙ্গামাটি প্রতিনিধিঃ- বৈশ্বিক মহামারি কোভিড-১৯ করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধ থেকে বাঁচতে তিন পার্বত্যাঞ্চল যথা (রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি) তে পিসিআর ল্যাব ও আইসিইউ স্থাপনের জোর দাবি উঠেছে। তিন পার্বত্যাঞ্চলের সর্বস্তরে মহামারি করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধ থেকে রক্ষা পেতে এখন পিসিআর ল্যাব ও আইসিইউ স্থাপনে সময়ের দাবি। 

তিন পার্বত্য জেলায় করোনাকালিন সময়ে সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব পবন চৌধুরী সফরকালে পাহাড়ি এলাকার ডিসি, এসপি, সেনাকর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধিও বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তার সাথে সমন্বয় সভায় সচিবের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর বরাবরে এসব দাবি উপস্থাপন করা হয়েছে। ইতি মধ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ৬৪ জেলায় আইসিইউ বেড স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন কিন্তু পিসিআর ল্যাবের ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত দেননি। তবে পার্বত্যাঞ্চলে সর্বস্তরের দাবি শুনে তিন জেলার জেলা প্রশাসকগণ পিসিআর ল্যাবের ব্যাপারে স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

তিন পার্বত্য জেলার স্থানীয়রা বলেন, তিন পার্বত্য জেলায় প্রায় ১০ লক্ষের অধিক পাহাড়ি বাঙালি বসবাস করে। এখানকার পরিবেশ পরিস্থিতি ও সব কিছু সমতলের মত নয়। প্রত্যন্ত পাহাড়ি অঞ্চল হিসেবে বিবেচনায় এনে তিন জেলায় তিনটি পিসিআর ল্যাব স্থাপনের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানাই। সাথে আইসিইউ বেড তো থাকবেই। এই দাবির সাথে তিন জেলার পাহাড়ি বাঙালি সকলেই একমত। এদিকে নমুনা সংগ্রহের রিপোর্ট আসতে সময় লাগে ৮-১০ দিন। দেখা গেছে নমুনা সংগ্রহের রিপোর্ট আসার আগেই রোগি মারা গেছে। অন্যদিকে নমুনা সংগ্রহে বিভিন্ন প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

এ ব্যাপারে রাঙ্গামাটি আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার বলেন, সম্প্রতি করোনা বিষয় নিয়ে বিশেষ সভায় রাঙ্গামাটি সদর জেনারেল হাসপাতালে পিসিআর ল্যাব ও আইসিইউ বেড সংক্রান্ত দাবি উঠেছে ওই দাবির সাথে আমিও একমত। জরুরী ভাবে তিন পার্বত্য জেলা তিনটি পিসিআর ল্যাব স্থাপনসহ স্বাস্থ্য খ্যাতকে আরো ঢেলে সাজানোর জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানান দীপংকর তালুকদার এমপি।

রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক এ কে এম মামুনুর রশিদ বলেন, রাঙ্গামটিতে পিসিআর ল্যাব, আইসিইউ বেড সংক্রান্ত ব্যাপারে স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এলাকাবাসীর সময় উপযুগি দাবি বলে আমি মনে করছি। প্রত্যন্ত অঞ্চল হিসেবে রাঙ্গামাটিতে পিসিআর ল্যাব স্থাপন জরুরী বলে মনে করি।

রাঙ্গামাটি সিভিল সার্জন ডাঃ বিপাশ খীসা বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ে আমি যোগাযোগ করেছি। পিসিআর ল্যাবের জন্য আবেদন করেছি। আশা করছি পিসিআর ল্যাব পেয়ে যাব। তিনি বলেন, সম্প্রতি জেলায় ২ জন করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে। মৃত্যুর পর তাদের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। রাঙ্গামাটিতে করোনায় মোট আক্রান্ত ১০৪ জন। সুস্থ্য হয়েছে ৫০ জন।

চেম্বার অব কমার্স সভাপতি বেলায়েত হোসেন ভুইয়া বলেন, রাঙ্গামাটিবাসীর গণদাবি পিসিআর ল্যাব ও আইসিইউ বেড চাই। এছাড়া সদর হাসপাতালে অনেক জরুরী যন্ত্রপাতি ও পর্যাপ্ত টেষ্ট নেই। একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হিসেবে ২৫০ শয্যা বেডে যে সকল মেডিকেল সরঞ্জামাদি থাকার কথা তা নেই। অন্যদিকে কোভিড-১৯ করোনা ভাইরাসের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকা চট্টগ্রাম পাঠালে রিপোর্ট আসতে আসতে দেখা যায় রোগি মারা গেছে। সম্প্রতি শহরের ভেদভেদি ও কাপ্তাই রাইখালী করোনা উপসর্গ নিয়ে ২ রোগি মারা যাওয়ার পরে পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে। মাদার ডিস্ট্রিক হিসেবে রাঙ্গামাটিতে পিসিআর ল্যাব স্থাপন করলে সেবা পাবেন বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলা।

বান্দরবান সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও প্রবীণ সাংবাদিক মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, খাগড়াছড়িসহ তিন পার্বত্য জেলায় পিসিআর ল্যাব স্থাপন এখন সময়ের দাবি। পার্বত্যাঞ্চলের করোনা পরিস্থিতি দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে। আর তিন জেলার স্বাস্থ্য বিভাগ শুধু নামেই আছে। করোনা চিকিৎসা দেওয়ার মত কিছুই নেই এসব হাসপাতালে। স্বাস্থ্য খ্যাতে বেসামাল পরিস্থিতি। তাই অতিব জরুরী ভাবে তিন জেলায় পিসিআর ল্যাব ও আইসিইউ বেড স্থাপন বান্দরবান, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়িবাসীর গণদাবি। সম্প্রতি পার্বত্যমন্ত্রী মহোদয়, বান্দরবান জেলা প্রশাসকসহ বেশ কয়েক জন করোনায় আক্রান্ত। আজ যদি পার্বত্যাঞ্চলে করোনা চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকতো তাহলে আর কষ্ট করে মানুষ ঢাকা ও চট্টগ্রাম যেতে হতো না। 

খাগড়াছড়ি প্রেস ক্লাবের সভাপতি জিতেন বড়ুয়া বলেন, পিসিআর ল্যাবও আইসিইউ বেডের ব্যাপারে অনেক বার লেখালেখিও হয়েছে। এছাড়া পার্বত্যাঞ্চলের যে কোন জেলাতে পিসিআর ল্যাব স্থাপন অতিব জরুরী। এই পরিস্থিতিতে করোনায় এটি সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়ে। সরকারের উচিৎ পিছিয়ে পড়া প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের জন্য তিন জেলায় তিনটি পিসিআর ল্যাব স্থাপন করা।

আলোকিত রাঙামাটি
আলোকিত রাঙামাটি
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর