ব্রেকিং:
স্বাস্থ্যবিধি মেনে আগামী ১লা জুন থেকে রাঙামাটির ৬ টি উপজেলায় লঞ্চ চলাচল শুরু
  • রোববার   ৩১ মে ২০২০ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ১৭ ১৪২৭

  • || ০৭ শাওয়াল ১৪৪১

সর্বশেষ:
লংগদুতে ১০টি মাদ্রাসার ৪শত ছাত্রদের মাঝে `প্রধানমন্ত্রীর উপহার` শিশু খাদ্য বিতরণ ‘হাসপাতাল গুলোতে পর্যাপ্ত চিকিৎসা সরঞ্জাম নিশ্চিত করা হবে’ কাঁচামাল সংকটে একসপ্তাহ ধরে কেপিএমের উৎপাদন বন্ধ
৩৫১৮

তুচ্ছ ঘটনায় পুলিশের নির্মমতার শিকার এক উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা 

আলোকিত রাঙামাটি

প্রকাশিত: ১১ এপ্রিল ২০২০  


নিজস্ব প্রতিবেদকঃ- রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের হাতে প্রকাশ্যে নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন উপজেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তের এক উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ ফরহাদ মিঞা (৪০)। তিনি বাঘাইছড়ি পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ড এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা অবসর প্রাপ্ত সরকারী কর্মচারী মোঃ ফরিদ মিঞার বড় ছেলে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মাদ্রাসা শিক্ষক মোহাম্মদ আলী বলেন, দুপুর আনুমানিক ১ঃ৩০ ঘটিকায় বাঘাইছড়ি থানার ইউনুছ নামের এক এএসআই সেকান্দার আলীর বাসায় এসে সেকান্দার আলীকে খোঁজে না পেয়ে তার স্ত্রী পারভিন আক্তার (৩৫) কে নিয়ে যাওয়ার জন্য টানা হেচড়া শুরু করে গাড়ীতে তুলে নেয়। এ সময় পারভীনের চিৎকারে আশ পাশের লোকজন ছুটে আসে।

পরে গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী (ভিডিপি)র পিসি মোঃ শরিফ স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোঃ পারভেজ আলীকে ফোন দিয়ে বিষয়টি জানালে এ এসআই ইউনুছের সাথে কথা বলতে চায়। ইউনুছ কথা না বলে শরিফের মোবাইলটি মাটিতে ছুরে মারে এবং কাউন্সিলর কে গালিগালাজ করতে থাকে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত কাউন্সিলরের বড় ভাই উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফরহাদ মিঞা গালিগালাজের কারণ জানতে চেয়ে কাউন্সিলরের ভাই পরিচয় দিলে এএস আই ইউনুছ তার উপড় প্রকাশ্যই এলোপাতাড়ি লাঠিচার্জ শুরু করে। পরে তার বাবা ফরিদ মিঞা স্থানীয়দের সহায়তায় ছেলেকে উদ্ধার করে চিকিৎসা দিতে নিয়ে যায়। পরে সেকান্দার আলীর স্ত্রীকে পুলিশ থানায় নিয়ে আটকে রাখে।

কৃষি কর্মকর্তার বাবা ফরিদ মিঞা বলেন পুলিশ, বিনা কারণে আমার ছেলেকে পিটিয়ে মারাত্মক জখম করেছে। আমার ছেলের হাত পাঁ ফুলে গেছে এখন হাটতে পারছে না।  আমি এর বিচার চেয়ে পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ করবো।

অভিযুক্ত এএসআই ইউনুছ মারধরের বিষয়টি সিকার করে বলেন, টিউবওয়েলের পানি নেয়াকে কেন্দ্রকরে টিউবওয়েলের মাথা খুলে ফেলায় বদি আলমের স্ত্রী থানায় একটি অভিযোগ করে। ওসি স্যারের নির্দেশক্রমে আসামী সেকান্দার আলীকে ধরতে গিয়ে তাকে না পেয়ে তার স্ত্রীকে নিয়ে আসার সময় এই ঘটনার সৃষ্টি হয়। মেজাজ ঠিক ছিলোনা, তাই কয়েটা বাড়ি দিয়েছে কনেস্টেবলরা।

বাঘাইছড়ি থানার ওসি এম এ মনজুর উক্ত ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে এফব্লক এলাকায়  নলকুপ থেকে পানি নিতে নিষেধ করা নিয়ে দুই পক্ষের সৃষ্ট ঝামেলা মীমাংসার জন্য থানার এক এ এসআই ইউনুছ ও দুই কনেস্টেবল কে পাঠাই, তারা ওখানে গিয়ে আরো নতুন সমস্যার সৃষ্টি করে। কেও লিখিত অভিযোগ দিলে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে  আমরা প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহণ করবো। 

এদিকে, সেকান্দর আলি বলেন, ঘটনার পরপরই ওসি তাকে ফোন দিয়ে থানা থেকে তার স্ত্রীকে নিয়ে আসতে বলেন। কিন্তু এই ঘটনার সুষ্ঠ বিচার না হলে তার স্ত্রীকে থানা থেকে আনবেন না জানান তিনি।

স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোঃ পারভেজ মিঞা বলেন, এখন দেশের পরিশ্রিতি ভালো না। সবাই করোনা আতঙ্ক নিয়ে আছে। এক সাথে ৮/১০ জন পানি আনতে সেকান্দারের বাড়ীতে যায় সে নিষেধ করলেও শুনেনা। ১/২ জন গিয়ে পানি আনার জন্য বলেও কাজ হচ্ছেনা। তাই আমি নিজেই বলেছি টিউবওয়েলের মাথাটি খুলে রাখতে। বিষয়টি নিয়ে পুলিশের এত বাড়াবাড়ির কি আছে আমার মাথায় আসে না। আমি এর সঠিক বিচার দাবী করছি। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

আলোকিত রাঙামাটি
আলোকিত রাঙামাটি
রাঙ্গামাটি বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর