আলোকিত রাঙামাটি
ব্রেকিং:
খাগড়াছড়িতে মোটরসাইকেল চালককে কুপিয়ে হত্যা
  • বুধবার   ২০ জানুয়ারি ২০২১ ||

  • মাঘ ৭ ১৪২৭

  • || ০৫ জমাদিউস সানি ১৪৪২

সর্বশেষ:
রাঙামাটিতে নতুন করে আরো ৬ জন করোনায় আক্রান্ত, মোট আক্রান্ত- ১২০৫, মোট সুস্থ- ১১২৫, মোট মৃত্যু- ১৬ জন।
১০৭

পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্প

তৈরি হচ্ছে ৩ লাখ ৭০ হাজার স্লিপার

আলোকিত রাঙামাটি

প্রকাশিত: ৩ ডিসেম্বর ২০২০  


ফরিদপুরের ভাঙ্গায় পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের স্লিপার কারখানায় যেন দম ফেলারও ফুরসত নেই শ্রমিকদের। সুবিশাল এ কারখানায় ৩ লাখ ৭০ হাজার স্লিপার তৈরির কাজ চলছে। প্রকল্পের আওতায় ঢাকা থেকে যশোর পর্যন্ত ১৭৩ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণে এসব স্লিপার ব্যবহৃত হবে।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, করোনা ও বন্যাসহ কিছু জটিলতার কারণে যে সময় নষ্ট হয়েছে তা পুষিয়ে নিতে এখানে জনবল আরও বাড়ানো হয়েছে। কারণ পদ্মা সেতুতে একই দিন সড়ক ও রেলপথ উদ্বোধন করতে চান সংশ্লিষ্টরা।

বুধবার বিকালে মূল সেতুর রেলওয়ের দু’পাশ এবং স্পিলার নির্মাণ কারখানা পরিদর্শন করেন রেলপথমন্ত্রী মো. নুরুল ইসলাম সুজন। এ সময় তিনি বলেন, আমরা আশা করছি এবং প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের জানিয়েছি, পদ্মা সেতু উদ্বোধনের দিন যেন সড়ক পথের পাশাপাশি ঢাকা থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত রেল চলাচল করতে পারে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে।

জানা গেছে, ইতোমধ্যে মূল সেতুর কাজ ৯৮ শতাংশ শেষ হয়েছে। ৪১টি পিলারের মধ্যে ৩৯টিতে স্প্যান বসানো হয়েছে। অপরদিকে রেলওয়ে সংযোগ প্রকল্পের ৩৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। মাওয়া থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত কাজের অগ্রগতি ৫৫ শতাংশ।

এদিন সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, ভাঙ্গা চৌরাস্তার কাছে সুবিশাল স্লিপার কারখানা। প্রায় ১.৮১৫ একর জায়গায় অবস্থিত কারখানাটি পুরোপুরি স্টিল স্ট্রাকচারে ঘেরা। অটোম্যাটিক অ্যাসেম্বলি লাইন অপারেশনের মাধ্যমে এর কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এশিয়া ও ইউরোপের স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করা এ কারখানা থেকে প্রতিদিন গড়ে ৫শ’রও বেশি স্লিপার তৈরি হচ্ছে।

প্রকল্পের জন্য প্রয়োজন প্রায় ৩ লাখ ৭০ হাজার স্লিপার। এর মধ্যে রয়েছে ১ হাজার ৬৭৬ মিমি. ব্যালেস্টেড ব্রড গেজ (বিজি) স্লিপার, ব্যালাস্ট-লেস ব্রড গেজ স্লিপার এবং ডুয়াল গেজ স্লিপার। কারখানাটি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অত্যাধুনিক ইক্যুইপমেন্ট, স্ট্যান্ডার্ডাইজেশন ও অটোমেশন সমৃদ্ধ বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

‘পদ্মা রেল লিংক সংযোগ প্রকল্প’র চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিআরইসির প্রকল্প পরিচালক ওয়াং কুন জানান, বাংলাদেশ রেলওয়ের অনুমতি সাপেক্ষে বর্তমান প্রতিকূল পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক প্রকিউরমেন্ট অনিশ্চয়তা দূর করা, গুণগতমানের স্লিপার প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করা, দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্লিপার তৈরি ও সরবরাহ এবং নির্মাণ ব্যয় কমাতে সিআরইসি স্লিপার কারখানাটি স্থাপন করেছে।

তিনি বলেন, এখানে বর্তমানে ২০০ স্থানীয় কর্মী কাজ করছেন। যারা সিআরইসির সিনিয়র চীনা বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে পেশাদার প্রশিক্ষণ লাভ করেছেন। চলতি বছরের ২২ আগস্ট থেকে কারখানাটি ছোট পরিসরে উৎপাদন শুরু করে।

কারখানায় সফলভাবে নির্মাণ কাজে সহায়তা প্রদানের জন্য ওয়াং কুন বাংলাদেশ রেলওয়ে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে থাকা কনস্ট্রাকশন সুপারভিশন কনসালট্যান্ট, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ, বাংলাদেশে অবস্থিত চীনা দূতাবাস ও চায়না এক্সিম ব্যাংকে ধন্যবাদ জানান। এক প্রশ্নের উত্তরে ওয়াং কুন বলেন, বৈশ্বিক মহামারীর শুরু থেকে বাংলাদেশ ও চীনা কর্মীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতে সিআরইসি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

জানা যায়, মাওয়া থেকে ভাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত ৪০ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণ কাজে পদ্মা সেতুর দুই পাশে ৬.৮ কিলোমিটার উড়াল সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে। তবে ৪ মাস আগে পদ্মা সেতু কর্তৃপক্ষের আপত্তির কারণে সেতুর দুই পাশে ১৪ ও ১৫ এবং ২৫-১ এবং ২৫-২ পিলার এলাকায় কাজ বন্ধ হয়ে পড়েছিল। এ বিষয়ে রেলপথমন্ত্রী বলেছেন, ত্রুটি সমাধানে সর্বোচ্চ পর্যায়ে কাজ চলছে। আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যে এর সমাধান হবে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা জানান, ৪০ কিলোমিটার রেলপথের মধ্যে ইতোমধ্যে ২৬.৯৭৮ কিলোমিটার এমব্যাংকমেন্ট করা হয়েছে। ১২টি মেজর ব্রিজের মধ্যে ৫টি সম্পন্ন করা হয়েছে। ৭টির কাজ চলমান রয়েছে। ৬৯টি কালভার্ট/ আন্ডারপাসের মধ্যে ৪০টি সম্পন্ন হয়েছে।

১৭০৩টি ওয়াকিং পাইল নির্মাণ করা হয়েছে। ২০৮৪টি প্রিকাস্ট বক্সগার্ডার সেগমেন্টের মধ্যে ২০৩৬টি সম্পন্ন হয়েছে। ৬৮টি ভায়াডাক্ট-২ এর পিয়ার ও এব্যাটমেন্টের মধ্যে ৬১টি সম্পন্ন হয়েছে। ১০৮টি ভায়াডাক্ট-৩ পিয়ার ও এব্যাটমেন্টের মধ্যে ৯০টি হয়েছে। ৬৭টি ভায়াডাক্ট-২ স্প্যানের মধ্যে ৩৮টি বসানো হয়েছে। ১০৭টি ভায়াডাক্ট-৩ এর স্প্যানের মধ্যে ২৮টি বসানো হয়েছে।

সূত্র:- যুগান্তর

আলোকিত রাঙামাটি
আলোকিত রাঙামাটি
জাতীয় বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর