ব্রেকিং:
রাঙামাটিতে নতুন আরো ২ জন করোনা রোগী সনাক্ত, এই নিয়ে জেলায় মোট করোনা রোগীর সংখ্যা ৫৫ জন
  • সোমবার   ২৫ মে ২০২০ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ১২ ১৪২৭

  • || ০২ শাওয়াল ১৪৪১

সর্বশেষ:
করোনা ভাইরাসের মাঝে রাঙামাটিতে ঈদুল ফিতর পালিত লংগদুতে স্বামী ও স্ত্রীর করোনা রিপোর্ট ২য় ধাপে নেগেটিভ এসেছে কাউখালীর ঘাগড়ায় দুস্থদের মাঝে উপহার সামগ্রী বিতরণ কাপ্তাইয়ে লোকালয় থেকে অজগর উদ্ধার, ন্যাশনাল পার্কে অবমুক্ত লংগদুতে আরো একজনের করোনা পজেটিভ রিপোর্ট এসেছে বাঘাইছড়িতে সামাজিক দূরত্ব বজায় না রাখায় ২৬ মামলায় ১৮ হাজার ৪ শত টাকা জরিমানা করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের ঘরে ঘরে ঈদ উপহার পৌঁছে দিলেন রাঙামাটি জেলা প্রশাসন
১৩৭২

ক্যালেন্ডারে ২০১৯

পার্বত্য চট্টগ্রামে চাকমা সন্ত্রাসীদের তৎপরতা

আলোকিত রাঙামাটি

প্রকাশিত: ১১ জানুয়ারি ২০২০  

ছবি- সংগৃহীত


২০১৯ সাল বিগত হয়েছে, রেখে গেছে নানা স্মৃতি। মূলত পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিস্থিতিতে সালটি ছিলো নানা ঘটনাবহুল। উপজাতি তথা চাকমা সন্ত্রাসীদের তান্ডবে অস্থির ছিলো গোটা পার্ব্ত্য চট্টগ্রাম। বছরের শুরুতেই ১৪ জানুয়ারি পার্বত্য খাগড়াছড়ির রামগড়ে প্রতিপক্ষের গুলিতে মোহন কুমার ত্রিপুরা (৩৫) নামে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস-এমনএন লারমা) এক নেতাকে হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে ২০১৯ সাল। এছাড়া মানিকছড়িতে ৩৮০ রাউন্ড ৬২ মিমি (চায়না) গুলির খোসা উদ্ধারের ঘটনার পাশাপাশি সেনাবাহিনীর সাথে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে পাহাড়ি জনপদ খাগড়াছড়িতে। রামগড়ের দুই আলোচিত হত্যকাণ্ডের রায় ঘোষণা ছাড়াও খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিল সম্পন্ন হয়েছে গেল বছরের শেষ দিকে। বছরের শেষ দিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিস্পত্তি কমিশনের শুনানিকে কেন্দ্র করে খাগড়াছড়ি উত্তাল হয়ে উঠে। আর গত বছরের শুরুতেই ৪ জানুয়ারি বাঘাইছড়ির বাবু পাড়ায় ব্রাশ ফায়ারে হত্যা করা হয় বসু চাকমাকে। এরপর থেকে ২০১৯ সালটি কেটেছে একের পর এক হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে। গেল বছর সবচেয়ে বড় যে হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটেছে তাহলো, ১৮ মার্চ বাঘাইছড়ি উপজেলায় নির্বাচনী কাজ শেষে করে ফেরার পথে নির্বাচনী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গাড়িতে ব্রাশ ফায়ার করে সন্ত্রাসীরা। এতে ৮ জন নিহত হন, আহত হন অন্তত ১৬ জন। মোট কথা উত্তাল ছিলো রাঙামাটিও। 

এসব ঘটনার মধ্যে চাকমা জনগোষ্ঠীর সশস্ত্র সন্ত্রাসীগোষ্ঠী দ্বারা সংগঠিত হয়েছিলো বেশীর ভাগ ঘটনা। 

১। গত ২৬ আগস্ট খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় সেনাবাহিনীর টহলে ইউপিডিএফ প্রসীত গ্রুপের সন্ত্রাসীদের হামলা, পাল্টা গুলিতে তিন সন্ত্রাসী নিহত হয়। এসময় বেশ কিছু ভারী আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়। ঐদিন সকালে খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালার বড়াদমে সোনাবাহিনী টহলে সন্ত্রাসীরা গুলি চালালে এ ঘটনা ঘটে। সেনাবাহিনীর পাল্টা গুলিতে পার্বত্য শান্তিচুক্তি বিরোধী ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) প্রসীত গ্রুপের তিন সন্ত্রাসী বুজেন্দ্র চাকমা, জ্যোতি চাকমা ও রশিল চাকমা নিহত হয়। ঘটনার দিন সকালে সেনাবাহিনীর একটি টিম হিসেবে দিঘীনালা উপজেলার বরাদম এলাকা থেকে আর ৬ কি. মি. গভীরে নিয়মিত টহলের অংশ হিসেবে মোতায়েন ছিলো। এ সময় পার্শ্ববর্তী পাহাড় থেকে ওঁৎপেতে থাকা উপজাতীয় সন্ত্রাসীদের একটি টিম সেনাবাহিনীর উপর অবিরাম গুলি ছুঁড়তে থাকে। সেনাবাহিনীও পাল্টা জবাব দিতে শুরু করে। উভয়পক্ষে টানা ৪৫ মিনিট গুলি বিনিময়ের পর টিকতে না পেরে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে তিন উপজাতীয় সন্ত্রাসীর লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশের পাশ থেকে গুলিসহ একটি আমেরিকান এম-৪ অটোমেটিক কারবাইন রাইফেল ও দুটি পিস্তল উদ্ধার করে।

২। খাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে সেনাবাহিনীর সঙ্গে ইউপিডিএফের সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের গোলাগুলির ঘটনার একদিন পর ২৬ সেপ্টেম্বর ঘটনাস্থল থেকে ৬২ মিমি ৩৮০ রাউন্ড (চায়না) গুলির খোসা ও ২ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনার দিন সকালে মানিকছড়ির বড়ডলু মুসলিমপাড়া এলাকা থেকে সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মো. মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল এসব গুলি ও খোসা উদ্ধার করে।

ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট-ইউপিডিএফের (প্রসীত গ্রুপ) সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা অস্ত্রসহ বড়ডলু এলাকায় অবস্থান করছে- এমন সংবাদের ভিত্তিতে ২৫ সেপ্টেম্বর বিকালে লক্ষ্ণীছড়ি জোনের সেনা সদস্যরা অভিযান চালায়। এ সময় সন্ত্রাসীরা সেনাবাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। তখন আত্মরক্ষার্থে সেনা সদস্যরাও পাল্টা গুলি চালায়। এছাড়া গুলিবিদ্ধ অবস্থায় জনপ্রিয় চাকমা (৪৫) নামে এক সশস্ত্র সন্ত্রাসীকে আটক করে সেনাবাহিনী। পরে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে একটি এসএমজি এবং ২৬ রাউন্ড গুলিভর্তি একটি ম্যাগজিন উদ্ধার করে তারা। ১ জানুয়ারি খাগড়াছড়ি লক্ষ্ণীছড়িতে অভিযানে অস্ত্রসহ ইউপিডিএফ’র (প্রসীত) গ্রুপের ২ সন্ত্রাসীকে আটক করে যৌথবাহিনী। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়, আমেরিকার তৈরি এম-ফোর রাইফেল ১টি, ম্যাগজিন ১টি, তাজা ৫৩ রাউন্ড গুলিসহ চাঁদা আদায়ের রশিদ ও অন্যান্য কাগজপত্র উদ্ধার করা হয়।

৩। পার্বত্য খাগড়াছড়িতে একের পর এক হত্যাকান্ডের ধারাবাহিকতায় প্রতিপক্ষের গুলিতে তুষার চাকমা (২৫) নামে এক ইউপিডিএফ সমর্থক খুন হয়েছেন। ১৯ ফেব্রুয়ারি-২০১৯ সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে খাগড়াছড়ি জেলা শহরের নারায়ণখাইয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তুষার চাকমা জেলার লক্ষ্ণীছড়ি উপজেলার বাসিন্দা। পেশায় তিনি ব্যাটারিচালিত আটোরিকশা (টমটম) চালক ছিলেন।

৪। গত বছরের শুরুতেই ৪ জানুয়ারি বাঘাইছড়ির বাবু পাড়ায় ব্রাশ ফায়ারে হত্যা করা হয় বসু চাকমাকে। এরপর থেকে ২০১৯ সালটি কেটেছে একের পর এক হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে। গেল বছর সবচেয়ে বড় যে হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটেছে তাহলো, ১৮ মার্চ বাঘাইছড়ি উপজেলায় নির্বাচনী কাজ শেষে করে ফেরার পথে নির্বাচনী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গাড়িতে ব্রাশ ফায়ার করে সন্ত্রাসীরা। এতে ৮ জন নিহত হন, আহত হন অন্তত ১৬ জন। এর মধ্য দিয়ে শান্তিচুক্তির পর প্রথম সরকারি কর্মকর্তাদের উপর হামলা হলো। সরকারি তদন্ত কমিটি এ ঘটনার জন্য শান্তিচুক্তি সাক্ষরকারী জেএসএসকে দায়ী করেছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল এসএম মতিউর রহমান এ ঘটনাকে শান্তিচুক্তি শর্ত লংঘন বলে আখ্যায়িত করেছেন। ঘটনার সূত্রে জানা যায়, নির্বাচন বয়কটকারী জেএসএস নেতা বড় রিষি চাকমা ও তার দলের চাকমা সন্ত্রাসীরাই এ হত্যাকান্ড ঘটায়। 

এছাড়া সরকারি প্রভাবশালী গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালের জানুয়ারির ৪ তারিখে বাঘাইছড়ির বাবু পাড়ায় ব্রাশ ফায়ারে হত্যা করা হয় বসু চাকমাকে। বাঘাইছড়ি থানার মামলা নং-০২, তারিখ-০৫/০১/২০১৯ইং।

২৯ জানুয়ারি লংগদুতে পবিত্র কুমার চাকমাকে হত্যা করা হয়। লংগদু থানার মামলা নং-০৬, তারিখ-৩০/০১/১৯ইং।

ফেব্রুয়ারির ৩ তারিখে চন্দ্রঘোনার পূর্ব কোদালায় হত্যা করা হয় মিতালী মারমাকে। চন্দ্রঘোনা থানার মামলা নং-০১, তারিখ: ০৩/০২/১৯।

৪ তারিখে চন্দ্রঘোনার ভাল্লুকয়ায় গুলি করে মো. জাহেদ (২৫) ও মংসুইনু মারমা (৪০)কে হত্যা করা হয়। চন্দ্রঘোনা থানার মামলা নং-০২, তারিখ: ০৫/০২/১৯।

একইদিনে রাঙামাটি সদরের বালুখালী ইউপিস্থ ২নং ওয়ার্ডের মধ্যপাড়া গ্রামস্থ কাপ্তাই হ্রদ থেকে তাকে ভোতা অস্ত্র দিয়ে হত্যা করা অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ পাওয়া যায়। কোতয়ালী থানার মামলা নং-০৭, তারিখ-০৪/০২/১৯।

মার্চের ৭ তারিখে বাঘাইছড়ির বঙ্গলতলী বি-ব্লকে উদয় বিকাশ চাকমা ওরফে চিক্কোধন চাকমা (৩৮)কে গুলি করে হত্যা করা হয়। বাঘাইছড়ি থানার মামলা নং-০২, তারিখ: ২২/০৪/২০১৯।

১৮ মার্চে নির্বাচন শেষে ফেরারপথে বাঘাইছড়ির নয়কিলো এলাকায় পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের অতর্কিত ব্রাশ ফায়ারে মো. আমির হোসেন (৩৭), মো. আলা আমিন (১৭), মিহির কান্তি দত্ত (৪০), জাহানারা বেগম (৪০), বিলকিস আক্তার (৪০), মন্টু চাকমা (২৫) ও আবু তৈয়বসহ মোট ৮ জনকে হত্যা করা হয়। বাঘাইছড়ি থানার মামলা নং-০২, তারিখ-২০/০৩/২০১৯ ইং।

মার্চের ১৯ তারিখে বিলাইছড়িতে আওয়ামী লীগের নেতা সুরেশ কান্তি তঞ্চঙ্গ্যাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। বিলাইছড়ি থানার মামলা নং-০১, তারিখ-২৩/০৩/২০১৯ ইং।

এপ্রিলের ৩ তারিখে রাজস্থলীর পোয়াইতু পাড়ায় মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের মধ্যে গোলাগুলিতে ৭ জন নিহতের খবর পাওয়া গেলেও প্রশাসন বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। তবে স্থানীয় একাধিক সূত্র থেকে সেদিন গোলাগুলির খবরটি জানা গিয়েছিলো।

মে মাসের ৮ তারিখে রাঙামাটির বরকল উপজেলায় হত্যার শিকার হয় আপ্রুসে মারমা (৩২)। ১৯ মে চন্দ্রঘোনায় আ’লীগের নেতা ক্যহলাচিং মারমা (৪৭) কে গুলি করে হত্যা করা হয়। চন্দ্রঘোনা থানার মামলা নং-০১, তারিখ: ২০/০৫/১৯ইং।

জুন মাসের ২৭ তারিখে শুভলংয়ে সৃতিময় চাকমা ওরফে কোকো (৩২)কে গুলি করে হত্যা করা হয়। বরকল থানার মামলা নং-০৪, তারিখ-২৯/০৬/২০১৯।

জুলাইয়ের ১ তারিখে চন্দ্রঘোনায় ম্রাসাং খই মারমা (৬০) ও মেয়ে মে সাংনু মারমা(২৯)কে নিজ বাসার ভেতরে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। চন্দ্রঘোনা থানার মামলা নং-১, তারিখ-০৩/০৭/২০১৯।

১১ আগস্ট ২০১৯ বাঘাইছড়িতে এ্যানো চাকমা এবং তার সহযোগী স্বতঃসিদ্ধি চাকমাকে গুলি করে হত্যা করে। বাঘাইছড়ি থানার মামলা নং-০২, তারিখ-১৪/০৮/২০১৯।

১৮ আগস্ট ২০১৯ রাজস্থলীর পোয়াতু পাড়ায় সেনাবাহিনীর সৈনিক মো. নাসিমকে গুলি করে হত্যা করা হয়। রাজস্থলী থানার মামলা নং-০২, তারিখ-২৬/০৮/২০১৯।

২৩ আগস্ট তারিখে বাঘাইছড়ির সাজেকে কসাই সুমন ওরফে লাকির বাপ (৪৫) কে গুলি করে হত্যা করা হয়। সাজেক থানার মামলা নং-০৪, তারিখ-২৩/০৮/২০১৯।

সেপ্টেম্বর মাসের ১৭ তারিখ বাঘাইছড়িতে হত্যা করা হয় রিপেল চাকমা (২৫) ও বর্ষণ চাকমা (২৪) নামে দুইজনকে।

অক্টোবর মাসের ৯ তারিখ ভোররাতে সন্ত্রাসীদের গুলিতে বাঙ্গালহালিয়ার কাকড়াছড়ি সুইচ গেট এলাকায় অংসুইঅং মারমা (৪৫) নিহত হয়।

২৩ অক্টোবর রাজস্থলী উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি হেডম্যান দ্বীপময় তালুকদারকে গুলি করে হত্যা।

সর্বশেষ গত মাসের গত ১৮ নভেম্বর ২০১৯ সোমবার সন্ধ্যারাতে গাইন্দ্যা ইউনিয়নের বালুমুড়া মারমা পাড়া এলাকায় গুলি করে হত্যা করা হয় তিনজনকে। রাজস্থলী থানায় দায়েরকৃত মামলা নাম্বার-১। তারিখ: ২০/১১/২০১৯ইং।

এদিকে ১৫ মার্চ ইউপিডিএফ প্রসীত গ্রুপের চিফ কালেক্টর তারাবন চাকমা পানছড়িতে নিহত হয়। ৪ ডিসেম্বর ইউপিডিএফ প্রসীত গ্রুপের সহকারী পরিচালক সুবাহু চাকমা ওরফে গিরি নিহত হয়।

এর আগে দলটির কেন্দ্রীয় নেতা আনন্দ প্রকাশ চাকমা গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় গ্রেফতার হয়ে কারান্তরীণ রয়েছে।

অন্যদিকে গত ৯ এপ্রিল ঢাকায় অপহৃত হন ইউপিডিএফের কেন্দ্রীয় সংগঠক মাইকেল চাকমা। এসব কারণে বর্তমানে সংগঠন দুটি বেশ কোণঠাসা অবস্থায় রয়েছে বলে জানা গেছে।

২০১৯ সালের আরেকটি বহুল আলোচিত ঘটনা হচ্ছে জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত মহিলা সদস্য বাসন্তি চাকমার বিতর্কিত ভাষণ। গত বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদে দেয়া ভাষণে বাসন্তি চাকমা সেনাবাহিনী ও বাঙালিদের বিরুদ্ধে চরম আপত্তিকর ও বিতর্কিত কিছু অভিযোগ উত্থাপন করে। ফলে পার্বত্য চট্টগ্রাম উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বাঙালিরা তার এ বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবীতে ব্যাপক আন্দোলন করে।

২০১৯ সালে উপজাতীয় আঞ্চলিক দলের সশস্ত্র শাখার হাতে জাতীয় রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতা নিহত হয়। স্থানীয়ভাবে এর জন্য একটি আঞ্চলিক সংগঠনের সশস্ত্র শাখাকে দায়ী করা হয়। এমনকি আওয়ামী লীগ এর প্রতিবাদে হরতালও পালন করে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন এসব ঘটনায় সরাসরি চাকমা সন্ত্রাসীরাই জড়িত, কখনো স্বগোত্রীয়দের কিংবা কখনো মতের অমিল থাকা বিরোধীদের হত্যা, অপহরণের মাধ্যমে পাহাড়কে অস্থির করে রেখেছে চাকমা সন্ত্রাসীরা। এর মূল রহস্য হলো- চাঁদাবাজি, এলাকা নিয়ন্ত্রণ এবং নিজেদের শক্তি জানান দিতে সন্ত্রাসী দলগুলো প্রতিনিয়ত সশস্ত্র যুদ্ধে লিপ্ত হয়। পাহাড় থেকে যদি অবৈধ অস্ত্র বন্ধ করা না যায় তাহলে এ হত্যাকাণ্ড কোনভাবে বন্ধ করা সম্ভব নয় বলে তারা অভিমত ব্যক্ত করেন।

আলোকিত রাঙামাটি
আলোকিত রাঙামাটি
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর