ব্রেকিং:
কর্ণফুলীতে নৌডুবি; নিখোঁজের ৪ দিন পর ভেসে উঠলো নিখোঁজ মা-শিশু পুত্রের লাশ
  • বুধবার   ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ||

  • ফাল্গুন ৬ ১৪২৬

  • || ২৪ জমাদিউস সানি ১৪৪১

সর্বশেষ:
রাঙামাটির বিভিন্ন জায়গায় চতুর্থদিনের মত বোট মালিক ও চালকদের সাবধান করতে জেলা প্রশাসনের মোবাইল কোর্ট পরিচালনা কাপ্তাইয়ে প্রাক-প্রাথমিক শিশু শিক্ষার্থীদের মাঝে খেজুর বিতরণ গুইমারায় প্রতিবন্ধীকে হুইল চেয়ার ও নগদ অনুদান প্রদান করলেন সেনাবাহিনী রাঙামাটি চট্টগ্রাম সড়কে বাস দূর্ঘটনায় আহত ৫ রাঙামাটিতে আন্তঃকলেজ গণিত উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠিত বাঙ্গালহালিয়ায় ব্লাড ব্যাংকের উদ্যোগে র‍্যালী ও ক্যাম্পেইন রাঙামাটিতে কর্ণফুলী আইটি লিঃ সদস্যদের প্রথম বেতন-ভাতা প্রদান বোট মালিক ও চালকদের সাবধান করতে রাঙামাটির বিভিন্ন জায়গায় জেলা প্রশাসনের মোবাইল কোর্ট পরিচালনা
২৯০

বাবা-মা নেই, তাই বৃদ্ধাশ্রমে সমাবর্তন উদযাপন সজিবের

আলোকিত রাঙামাটি

প্রকাশিত: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২০  


সজিব হোসাইন। বাসা বরিশালের উজিরপুরে। পড়ালেখা করেছেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি)। স্নাতক করেছেন কৃষি অনুষদ থেকে। স্নাতকোত্তর একই বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি রসায়ন থেকে। ছোটোবেলায় বাবাকে হারিয়েছেন। মাকেও হারিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার পর। 

সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ে হয়েছে দ্বিতীয় সমাবর্তন। ক্যাম্পাস মেতেছিল প্রাণের মেলায়। অনেকেই সঙ্গে নিয়ে এসেছিলো বাবা-মাকে। বাবা-মা’র সঙ্গে ক্যামেরাবন্দী করতে ব্যস্ত ছিলো সবাই। নিজের গাউন বাব-মাকে পরিয়ে দিচ্ছে অনেকে। 

কিন্ত সজিবেরতো বাবা-মা কেউ নেই। কার সঙ্গে ছবি তুলবে? কাকে গাউন পরিয়ে দিবে? বলবে এ অর্জন সব তোমাদের? তাই সমাবর্তন শেষ হওয়ার পর পটুয়াখালীতে অবস্থিত দক্ষিনবঙ্গ বৃদ্ধাশ্রমে চলে যান। সেখানে সময় কাটান তাদের সঙ্গে। 

এই ব্যতিক্রমী উদযাপন সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সমাবর্তনের কথা শোনার পর একটা সময় মাথায় আসে গাউন পরে কোথায় যাবো, কাকে পরাবো? তখন বিবেক উত্তর দিলো বৃদ্ধাশ্রমের মানুষগুলোর কথা। কারণ আমারতো বাবা-মা বেঁচে নেই। তাদের হয়তো সবাই থেকেও নেই। মনে হলো আমার সঙ্গে মানুষগুলোর এ এক অদ্ভুত মিল। তাই ছুটে গেলাম তাদের কাছে। তাদের কষ্ট বুঝবো আর তারাও আমার কষ্ট বুঝবে। হয়তো পৃথিবীর আর কোথাও এমন মিল খুঁজে পাওয়া যাবে কিনা জানি না। সমাবর্তন উদযাপনটা তাদেরসহ কিছুটা হলেও স্বার্থক করবার চেষ্টা করলাম। 

সজিব তার এই বৃদ্ধাশ্রমের উদযাপনের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করার পর বন্ধু, সহপাঠী, সিনিয়র, জুনিয়র সেই পোস্ট শেয়ার দিয়ে তাকে সবাই বিশেষ ধন্যবাদ জানিয়েছে। সেই সঙ্গে বৃদ্ধাশ্রমের নানান অসুবিধার কথাও বলেন তিনি। তাদের দেখাশোনা করার জন্য একজন লোক আছে কিন্ত তা দিয়ে তাদের ঠিকভাবে দেখাশোনা করাও সম্ভব হয় না। তাদের সন্তানরাও তাদের সঙ্গে দেখা করতে বা খোঁজ নিতেও যায় না। তাই প্রধানমন্ত্রী ও সমাজের বিশিষ্ট ব্যাক্তিবর্গের কছে আহবান জানান, এই অসহায় মানুষগুলোর পাশে থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করার জন্য। 

সেই সঙ্গে তিনি আরো বলেন, অভাগা জাতি তোমরা যারা তোমদের জান্নাতকে (বাবা/মা) বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসছো। তোমাদের ধ্বংস দেখার আগে বাবা/মাকে ঘরে নিয়ে আসো। মনে করে দেখো ছোটোবেলায় তাদের ছাড়া তোমরা ভালো ছিলে না একদিনও। আজ তোমদের ছাড়া তারা কি করে ভালো থাকবে? 

আলোকিত রাঙামাটি
আলোকিত রাঙামাটি
শিক্ষা বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর