আলোকিত রাঙামাটি
  • শুক্রবার   ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ||

  • ফাল্গুন ১৫ ১৪২৭

  • || ১৪ রজব ১৪৪২

সর্বশেষ:
রাঙামাটিতে করোনায় মোট আক্রান্ত- ১২৫৮, মোট সুস্থ- ১২১১, মোট মৃত্যু- ১৬ জন।

বিমানবন্দর টার্মিনালে যুক্ত হচ্ছে উড়াল সড়ক

আলোকিত রাঙামাটি

প্রকাশিত: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১  

বিমানবন্দর টার্মিনালে যুক্ত হচ্ছে উড়াল সড়ক- ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর যানজট নিরসনে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে (উড়াল সড়ক) নির্মাণকাজ চলছে। সেই এক্সপ্রেসওয়েটি নির্মাণাধীন হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। আর পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় জানায়, বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিমানবন্দরে যত সুযোগ-সুবিধা রয়েছে তা হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালে থাকবে।

চার লেন বিশিষ্ট ১৯ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার দীর্ঘ ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। এক্সপ্রেসওয়েটি এয়ারপোর্ট রোডের কাওলা থেকে শুরু হয়ে কুড়িল, মহাখালী, তেজগাঁও, মগবাজার, কমলাপুর হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুতুবখালী পর্যন্ত পৌঁছাবে।

সূত্র জানায়, সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের সঙ্গে ছয়টি কানেকটিং পয়েন্টে ডিজাইন ও নির্মাণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তবে পিপিপির আওতায় নির্মাণাধীন এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে টার্মিনালের কানেকটিভিটির ডিজাইনটি রিভিউ করার প্রয়োজন রয়েছে। রিভিউ শেষে তা মন্ত্রণালয়কে জানানোর জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় ২ লাখ ৩০ হাজার বর্গমিটার আয়তনের তিনতলা বিশিষ্ট নতুন প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল ভবন নির্মাণকাজ এগিয়ে চলছে। এ টার্মিনালের বাৎসরিক যাত্রী ধারণ ক্ষমতা হবে ১২ মিলিয়ন। তাছাড়া টানেলসহ ৬২ হাজার বর্গমিটার আয়তন বিশিষ্ট মাল্টি লেভেল কার পার্কিংয়ে ধারণ করতে পারবে এক হাজার ২০০ গাড়ি।

সূত্র আরো জানায়, প্রকল্পের মোট অগ্রগতি ১১ দশমিক ২৭ শতাংশ। প্রকল্পের আওতায় আলাদা এক্সপোর্ট এবং ইমপোর্ট কার্গো কমপ্লেক্স এবং রেসকিউ ও ফায়ার ফাইটিং সুবিধা ইত্যাদি নির্মাণ সম্পন্ন হবে। জুলাই ২০১৬ থেকে জুন ২০২৫ পর্যন্ত মেয়াদের প্রকল্পটি বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। এই প্রকল্পের মোট ব্যয় ২১ হাজার ৩৯৯ কোটি টাকা। ২০২০-২০২১ অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) ২ হাজার ৮৫৬ কোটি ৭৪ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে। ২০২১ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ৪৮৪ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। বর্তমানে প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি হয়েছে ১১ দশমিক ২৭ শতাংশ।

প্রকল্পের আওতায় টার্মিনাল ভবন নির্মাণ অংশের ৩ হাজার ৪৯টি পাইলিং কাজ সম্পন্ন হয়েছে। টানেল অংশের ৪৬৮টি পাইলিংয়ের মধ্যে শেষ হয়েছে ২৯০টি। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ২৯৪টি পাইলিংয়ের মধ্যে ১৫৬টির কাজ শেষ হয়েছে। মোট ৬৮৬টি পাইলিং ক্যাপের মধ্যে ৩২২টি পাইল ক্যাপ পরানোর কাজ করা হয়েছে। প্রকল্পের অধীনে হাইস্পিড ট্যাক্সিওয়ে (সাউথ) এবং মূল এপ্রোন অংশের ভূমি উন্নয়ন, ড্রেনেজ, ডাক্ট লাইনের কাজও চলমান রয়েছে। এক্সপোর্ট কার্গো কমপ্লেক্স অংশের টেস্ট পাইল ওয়ার্কের পর পাইলিং কাজ শুরু হয়েছে। ৯০৯টি পাইলিংয়ের মধ্যে ৩০৮টির কাজ শেষ হয়েছে। ইমপোর্ট কার্গো কমপ্লেক্স অংশের পাইলের লোড টেস্টিং কাজও সমাপ্ত হয়েছে। এ অংশে মূল পাইলিং কাজ শিগগিরই শুরু হবে। ইমপোর্ট কার্গো কমপ্লেক্স অংশের মূল কাজ শুরুর লক্ষ্যে ভূমি উন্নয়ন কাজও চলছে।

সূত্র জানায়, পূর্ত কাজের আওতায় ট্যাক্সিওয়ে সার্ভিস রোড, এলিভেটেড রোড, পার্কিং এপ্রোন এবং ড্রেনেজ সিস্টেম পানি সরবরাহ, স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট, পাওয়ার প্ল্যান্ট, হাইড্রেন্ট ফুয়েল সাপ্লাই সিস্টেম, কমিউনিকেশন সিস্টেম ও ভবনের যন্ত্রপাতি ইত্যাদি সংগ্রহ করা হবে।

প্রকল্পের প্রথম পর্যায় শেষ হলে ১২টি বোর্ডিং ব্রিজ, ১১৫টি চেকিং কাউন্টার, ২৫৮টি বহির্গমন সিকিউরিটি ক্লিনিং, ৬৭টি ব্যাগেজ এক্সরে স্ক্রিনিং মেশিন, ১১টি বডি স্ক্যানার, ৫২টি মেটাল ডিক্টেটর, ১২৮টি পাসপোর্ট কন্ট্রোল কাউন্টার, ৩৫টি এসকেলেটর এবং ৪৩টি লিফট সংযোজিত হবে।

সূত্র জানায়, প্রকল্পের নির্মাণ কাজের স্থলে মেডিকেল সুবিধাদিসহ মেডিকেল সেন্টার, ২৪ ঘণ্টা ডাক্তার ও অ্যাম্বুলেন্স সুবিধাসহ জরুরি ওষুধের সুবিধা রয়েছে। করোনাভাইরাস (কোডিড-১৯) টেস্টের জন্য স্যাম্পল কালেকশন বুথ ও টেস্ট করানোর ব্যবস্থাও রয়েছে। এ পর্যন্ত সাইটে ২০ হাজার ৯৭৬ জনকে করোনার টেস্ট করানো হয়েছে। এরমধ্যে ২৯০ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ১১১ জন। এছাড়া করোনাকালীন নির্মাণ শ্রমিকদের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে ৯০০ জনের সাময়িক লেবার শেড।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন, পর্যটন ও পরিকল্পনা) মিজানুর রহমান জানান, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ চলছে। একইভাবে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের কাজও চলছে। যাত্রীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে ঝামেলা ছাড়াই বিমানবন্দরে প্রবেশের পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে। সেজন্য সেতু বিভাগ ও সড়ক পরিবহন, মহাসড়ক বিভাগের সঙ্গে আলোচনা চলমান রয়েছে।

আলোকিত রাঙামাটি
আলোকিত রাঙামাটি