আলোকিত রাঙামাটি
  • শুক্রবার   ৩০ অক্টোবর ২০২০ ||

  • কার্তিক ১৫ ১৪২৭

  • || ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

সর্বশেষ:
রাঙামাটিতে মোট করোনায় আক্রান্ত- ৯২৯, মোট সুস্থ- ৯০২, মোট মৃত্যু- ১৪ জন।
১২৬

মাদকপাচার রোধে শাহজালালে ডগ স্কোয়াড

আলোকিত রাঙামাটি

প্রকাশিত: ১৫ অক্টোবর ২০২০  


হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ডগ স্কোয়াড মোতায়েন করবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয় করে মাদকপাচার রোধে এই পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ আহসানুল জব্বার।

বুধবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ডিএনসির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি। সম্প্রতি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজ থেকে ইয়াবার কাঁচামাল এমফিটামিন উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার তদন্তের অগ্রগতি জানাতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ডিএনসি মহাপরিচালক বলেন, আন্তর্জাতিক মাদকপাচারকারী চক্র বাংলাদেশকে মাদক পাচারের রুট হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা করছে। চক্রটি অসাধু কেমিক্যাল ব্যবসায়ীর মাধ্যমে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও আন্তর্জাতিক কুরিয়ার সার্ভিসকে ব্যবহারের চেষ্টা করেছে। এ কারণে মাদকচক্রের মাদকপাচার প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট কুরিয়ার সার্ভিস কর্র্তৃপক্ষকে স্ক্যানার মেশিন বসানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়। ইতিমধ্যে তারা সেটি বসিয়েছে।

গত ৯ সেপ্টেম্বর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজ থেকে ১২ কেজি ৩২০ গ্রাম এমফিটামিন উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরদিন বিমানবন্দর থানায় এনডিসির পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হয়। মামলার আসামি হিসেবে আন্তর্জাতিক কুরিয়ার সার্ভিস ফেডেক্স ও ইউনাইডেট এক্সপ্রেসের দুই শীর্ষ কর্মকর্তাসহ ৬ জনকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরবর্তী সময়ে মামলার তদন্তে নেমে ডিএনসির কর্মকর্তারা আন্তর্জাতিক মাদক পাচারকারী চক্রের অন্তত ১৫ জনকে শনাক্ত করেন। তাদের মধ্য ইতিমধ্যে ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তারদের মধ্যে মিটফোর্ডের কেমিক্যাল ব্যবসায়ী আবুল কালাম আজাদ ওরফে বান্টি এবং মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা জুনায়েদ ইবনে সিদ্দিক তদন্তকারী কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, ভারতের চেন্নাই থেকে এমফিটামিন সংগ্রহ করে বাংলাদেশকে ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহার করে অস্ট্রেলিয়া পাঠানোর চেষ্টা হয়েছিল।

ডিএনসি মহাপরিচালক আহসানুল জব্বার বলেন, বান্টি এই মাদক ভারতীয় কেমিক্যাল ব্যবসায়ী হাবীব মাস্টারের কাছ থেকে সংগ্রহ করেছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। হাবীবের সহযোগী রাজখানের মাধ্যমে এই মাদক অবৈধভাবে বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে ঢাকায় আনা হয়। পরবর্তী সময়ে বান্টি এই মাদক দীন ইসলাম ও সাইফুল নামে দুজনের কাছে বিক্রি করে। তারপর সেটি জুনায়ের ইবনে সিদ্দিকের মাধ্যমে কুরিয়ার সার্ভিস ব্যবহার করে তৈরি পোশাকের আড়ালে বিদেশে পাচারের চেষ্টা হয়। দীন ইসলাম ও সাইফুলকে গ্রেপ্তারের জন্য চেষ্টা চলছে।

মাদক পাচারে কুরিয়ার সার্ভিসের সংশ্লিষ্টতা বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ডিএনসি মহাপরিচালক বলেন, এই ঘটনার তদন্ত চলছে। এটাই প্রথম নয়, এর আগেও তারা এ ধরনের চালান একই কৌশলে বাইরে পাঠিয়েছে বলে জানিয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে আহসানুল জব্বার বলেন, ভারতীয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার সঙ্গে তাদের চুক্তি আছে। সেই অনুযায়ী ভারতীয় সংস্থাকে বাংলাদেশে ভারত থেকে এমফিটামিনের চালান ঢোকার বিষয়টি অবগত করে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে।

ইয়াবা তৈরির কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার হওয়ায় ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে এমফিটামিন বাংলাদেশে নিষিদ্ধ করা হয়।

আলোকিত রাঙামাটি
আলোকিত রাঙামাটি
সারাদেশ বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর