আলোকিত রাঙামাটি
ব্রেকিং:
প্রথম বারের মতো রাঙামাটি পিসিআর ল্যাব থেকে ৮ জনের করোনা শনাক্ত, এ নিয়ে জেলায় মোট করোনা রোগী ৭২২
  • বৃহস্পতিবার   ১৩ আগস্ট ২০২০ ||

  • শ্রাবণ ২৯ ১৪২৭

  • || ২২ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

সর্বশেষ:
রাঙামাটির উপজেলা ভিত্তিক করোনা আপডেটঃ- রাঙামাটি সদর- আক্রান্ত ৪৮৯, কাপ্তাই- আক্রান্ত ১০৭, কাউখালী- আক্রান্ত ৩১, বাঘাইছড়ি- আক্রান্ত ১৬, বরকল- আক্রান্ত ০৫, লংগদু- আক্রান্ত ১৮, রাজস্থলী- আক্রান্ত ১১, বিলাইছড়ি- আক্রান্ত ১৩, জুরাছড়ি- আক্রান্ত ২৩, নানিয়ারচর- আক্রান্ত ০৯। মোট আক্রান্ত- ৭২২, মোট সুস্থ- ৬২৮, মোট মৃত্যু- ১০ জন।
৭৮৪

যেসব লক্ষণে বুঝবেন আপনি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত

আলোকিত রাঙামাটি

প্রকাশিত: ২৫ জানুয়ারি ২০২০  

ফাইল ফটো


নতুন আতঙ্ক করোনা। যা গত ডিসেম্বর থেকে চীনে বিরাট ভীতি সৃষ্টি করেছে। এরইমধ্যে এই ভাইরাস সংক্রমণে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪১ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে বেশিরভাগই হুবেই প্রদেশের বাসিন্দা। শুক্রবার পর্যন্ত রাজ্যটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ৭৫২ জনে দাঁড়িয়েছে। আর দুনিয়াজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা এরইমধ্যেই এক হাজার ছাড়িয়েছে।

যদিও কিছু স্বাস্থ্য বিশ্লেষকের ধারণা যে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রায় দুই হাজারের কাছাকাছি। ভাইরাসটিকে এক ধরনের করোনা ভাইরাস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং এটি একটি কমন ভাইরাস যা নাক, সাইনাস বা গলার উপরিভাগে সংক্রমণ ঘটায়। কিন্তু এই ভাইরাস সংক্রমণ কতটা উদ্বেগজনক এবং কতটা দ্রুত ছড়ায় এই ভাইরাস?

এই ভাইরাসের উৎপত্তি

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ধারণা ভাইরাসটি উৎস কোনো প্রাণী। যতটুকু জানা যায়, মানুষের আক্রান্ত হবার ঘটনাটি ঘটেছে চীনের উহান শহরে সামুদ্রিক মাছ পাইকারি বিক্রি হয় এমন একটি বাজারে।

এ ধরনের ছয়টি ভাইরাস আগে পরিচিত থাকলেও এখন যেটিতে সংক্রমিত হচ্ছে মানুষ সেটি নতুন। বেশিরভাগ করোনা ভাইরাসই বিপজ্জনক নয় কিন্তু আগে থেকে অপরিচিত এই নতুন ভাইরাসটি ভাইরাল নিউমোনিয়াকে মহামারীর দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে।

করোনা ভাইরাসের লক্ষণসমূহ

রেসপিরেটরি লক্ষণ ছাড়াও জ্বর, কাশি, শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যাই মূলত প্রধান লক্ষণ। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব অনেককে সার্স ভাইরাসের কথা মনে করিয়ে দিয়েছে। যা ২০০০ সালের শুরুতে প্রধানত এশিয়ার অনেক দেশে ৭৭৪ জনের মৃত্যুর কারণ হয়েছিল। নতুন ভাইরাসটির জেনেটিক কোড বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে এটি অনেকটাই সার্স ভাইরাসের মতো।

এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর মার্ক উলহাউস বলেছেন, আমরা যখন নতুন কোনো করোনা ভাইরাস দেখি, তখন আমরা জানতে চাই এর লক্ষণগুলো কতটা মারাত্মক। এ ভাইরাসটি অনেকটা ফ্লুর মতো কিন্তু সার্স ভাইরাসের চেয়ে মারাত্মক নয়।

কত দ্রুত ছড়াতে পারে এই ভাইরাস?

ডিসেম্বরে উহান শহরে প্রথম এ ভাইরাসটি তার অস্তিত্ব জানান দিয়েছিল এবং এ পর্যন্ত মারা গেছে ১৭ জন। কিন্তু কর্তৃপক্ষের উদ্বেগের কারণ হলো লুনার নিউ ইয়ার বা চান্দ্র নববর্ষ উপলক্ষে যখন লাখ লাখ মানুষ বিশ্বজুড়ে ভ্রমণ করে, সেই সময়ে নতুন এই ভাইরাসে বেশি মানুষ আক্রান্ত হওয়ার আশংকা থাকবে।

দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও থাইল্যান্ডে নতুন ভাইরাসে আক্রান্ত হবার খবর নিশ্চিত করেছে।

লন্ডনে ইমপেরিয়াল কলেজের এমআরসি সেন্টার ফর গ্লোবাল ইনফেকশাস ডিজিজ এনালাইসিস এর এক রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, তারা মনে করেছে ইতোমধ্যেই এক হাজার ৭০০ মানুষ নতুন ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে।

এটি কি মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমিত হতে পারে?

এখন পর্যন্ত বিজ্ঞানীদের ধারণা মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমিত হওয়ার কিছু ঘটনা ঘটেছে। সিঙ্গাপুরের ডিউক-নুস মেডিকেল স্কুলের ওয়াং লিন ফা সম্প্রতি উহান সফরে করে এসেছেন। তিনি বলছেন, মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণের লক্ষ্মণগুলোর দিতে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি দেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, চাইনিজ নিউ ইয়ার আসছে। চীনে অন্তত ৪০ কোটি মানুষ এ সময় ভ্রমণ করবে বিভিন্ন জায়গায়। প্রত্যেকেই উদ্বিগ্ন। এটার দিকে ভালো ভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে আমাদের।

আক্রান্ত হওয়া ঠেকানো যাবে যেভাবে

ইতোমধ্যেই সংক্রমিত ব্যক্তিকে আলাদা করে রেখে চিকিৎসা দিতে হবে অন্যকে সংক্রমিত করার ঝুঁকি পার হওয়া পর্যন্ত। ইতোমধ্যেই উহান প্রদেশের সেই মাছের বাজার বন্ধ করে দেয়া হয়েছে এবং সেখানে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলছে।

মানুষজনকে অরক্ষিত প্রাণী থেকে সাবধানতার পাশাপাশি ডিম ও মাংস রান্না এবং ঠাণ্ডা বা ফ্লুতে আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে থাকার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। চীনা নববর্ষের সময় যারা ভ্রমণ করবে তাদের শরীরের অতিরিক্ত তাপমাত্রা আছে কিনা সেটি দেখা হবে।

উহান থেকে আসা যাত্রীদের স্ক্রিনিং শুরু করেছে সিঙ্গাপুর ও হংকং। যুক্তরাষ্ট্রও বড় বিমানবন্দরগুলোতে একই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের ভালো যোগাযোগ থাকায় বিশেষ সতর্কতা নেয়া হয়েছে ঢাকার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও। বিশ্বজুড়ে এটি ছড়িয়ে পড়ার আশংকা নিয়ে হাসপাতালগুলোকে সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

আমাদের কী উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত?

ওয়েলকাম ট্রাস্ট এর ড. জোসি গোল্ডিং বলেন, নতুন করে সংক্রমণের খবর না পাওয়া পর্যন্ত এটা বলা কঠিন যে এ মূহুর্তে আমাদের কতটা উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত। তিনি বলেন, সার্সের বিষয়টা আমাদের ভালোভাবেই মনে আছে এবং সেজন্যই বেশি ভয় হচ্ছে। কিন্তু এখন আমরা অনেক বেশি প্রস্তুত এ ধরনের রোগের সঙ্গে লড়াই করার জন্য।

নটিংহ্যাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর জোনাথন বল বলছেন, আমাদের উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত এ কারণে যে, যেকোনো ভাইরাসই মানুষকে আক্রমণ করতে পারে। আর একবার মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারলে এটি বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। ভাইরাসকে সে সুযোগ দেয়া উচিত নয়।

আলোকিত রাঙামাটি
আলোকিত রাঙামাটি
স্বাস্থ্য বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর