আলোকিত রাঙামাটি
ব্রেকিং:
বাঙ্গালহালিয়ায় সড়ক দূর্ঘটনাঃ কাপ্তাইয়ের শিক্ষার্থী নিহত, আহত ২ রাঙামাটিতে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া ঘর পাচ্ছেন আরো ৬২৩ গৃহহীন পরিবার
  • শনিবার   ১৯ জুন ২০২১ ||

  • আষাঢ় ৭ ১৪২৮

  • || ০৮ জ্বিলকদ ১৪৪২

সর্বশেষ:
রাঙামাটিতে করোনায় নতুন আক্রান্ত আরো ৮ জন। মোট আক্রান্ত হয়েছেন- ১৬০৩, মোট সুস্থ- ১৫১৯, মোট মৃত্যু ১৯ জন।

রাঙামাটিতে ভারী বর্ষণে পাহাড় ধ্বসের আশঙ্কা, তবুও ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস

আলোকিত রাঙামাটি

প্রকাশিত: ৭ জুন ২০২১  

রাঙামাটিতে ঝুঁকি নিয়ে পাহাড়ের পাদদেশে মানুষের বসবাস কমেনি বরং আগের চেয়ে আরো বেড়েছে। ফাইল ছবি

রাঙামাটি (সদর) প্রতিনিধিঃ- রাঙামাটিতে অতি ভারী বৃষ্টি শুরু হলে আবারো বড় ধরনের পাহাড় ধ্বসের আশংকা করা হচ্ছে। কারণ পাহাড়ের পাদদেশে মানুষের বসবাস কমেনি বরং আগের চেয়ে আরো বেড়েছে। পাহাড়ের নীচে মানুষ পূণরায় ঘরবাড়ি করে পরিবার নিয়ে বসবাস করছে। ২০১৭ সালের ১৩ জুন রাঙামাটিতে পাহাড় ধ্বসে ১২০ জনের প্রাণহানী ঘটে। এবারো অতি ভারী বৃষ্টির আগাম সতর্কতায় সে আশংকা সকলকেই ভাবাচ্ছে। 

এদিকে, এই বিষয়টি মাথায় রেখে করোনা প্রতিরোধের পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে পাহাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করে সাইন বোর্ড টাঙিয়ে বসবাসের উপর সর্তকতা জারী করা হয়েছে এবং বর্ষার শুরু হলেই মানুষ যাতে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে আসে তা নিয়ে আগাম প্রচারণা শুরু করেছে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন। 

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে ১৩ জুন ভারী বর্ষণের ফলে পাহাড় ধ্বসের ঘটনায় ৫ সেনা সদস্যসহ ১২০ জনের মৃত্যু হয়। এছাড়া ২০১৮ সালে নানিয়ারচর উপজেলার বুড়িঘাটে ১১ জন এবং ২০১৯ সালে কাপ্তাই উপজেলায় ৭জন প্রাণ হারায়। প্রতিবারই বর্ষায় পাহাড় ধ্বসে প্রাণহানীর ঘটনা ঘটছে। কিন্তু সেই মৃত্যুরকূপে পূণরায় ঘরবাড়ি নির্মান করে বসবাস করছে লোকজন। প্রতি বর্ষা মৌসুমের সময় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাস ও স্থাপনা নির্মাণ না করতে নিষেধ করে সাইন বোর্ড টাঙিয়ে দিয়ে সর্তক করে দিলেও সেই নিষেধাজ্ঞা মানছে না লোকজন। ফলে শহরের রূপনগর, শিমুতলী, ভেদভেদীসহ বিভিন্ন এলাকায় ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে কয়েক হাজার পরিবার। 

রাঙামাটি জেলা প্রশাসক মোঃ মিজানুর রহমান জানান, ইতিমধ্যে রাঙামাটি পৌর শহরে ৩৩টি স্থানকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করে সচেতনামূলক সাইন বোর্ড টাঙিয়ে দেয়াসহ নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া ঝুঁকিতে বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্রে থাকার জন্য ২৯টি অস্থায়ী আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। আর কোথাও যদি পাহাড় ধ্বসের দূর্ঘটনা ঘটে তার জন্য ৯টি ওয়ার্ডের পৌর কাউন্সিলরদের নিয়ে একটি করে কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাঙামাটিসহ ৯টি উপজেলায় সকল ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। 

রাঙামাটি পৌর মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরী বলেন, ২০১৭ সালের পাহাড় ধ্বসের অভিজ্ঞতার আলোকে আমরা রাঙামাটি পৌর এলাকায় ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। যাতে করে পাহাড় ধ্বসের কারণে প্রাণহানি আর না ঘটে। ইতিমধ্যে আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। ভারী বৃষ্টিপাত হলে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে সরে গিয়ে যাতে আশ্রয় কেন্দ্রে চলে যায় তার জন্য পৌরসভার পক্ষ থেকে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। তবে অনেকেই সচেতন হলেও তাদের অবস্থান থেকে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস গড়ে তুলছে। এতে করে ভারী বৃষ্টিপাত হলে ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে।

বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ের পাদদেশে যেসব স্থান নিরাপদ নয় সেইসব এলাকার মানুষরা যদি ভারী বৃষ্টিপাতের সময় অস্থায়ী আশ্রয় কেন্দ্রে চলে আসে তা হলে পাহাড় ধ্বসের প্রাণহানি রোধ করা সম্ভব বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ মহল

আলোকিত রাঙামাটি
আলোকিত রাঙামাটি