আলোকিত রাঙামাটি
ব্রেকিং:
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ৩০ টি অত্যাধুনিক একে-৪৭ অস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ সহ আটক ৩
  • মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ ||

  • আশ্বিন ১৫ ১৪২৭

  • || ১১ সফর ১৪৪২

সর্বশেষ:
রাঙামাটিতে নতুন করে আরো ২ জন করোনায় আক্রান্ত, মোট আক্রান্ত- ৮৯৮, মোট সুস্থ- ৮৫০, মোট মৃত্যু- ১৩ জন। রাঙামাটিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৪তম জন্মদিন পালিত সরকার তথ্য অধিকার আইন নিশ্চিত করার ফলে বর্তমানে জনগণকে তথ্য পেতে এখন আর কোন বাধা পেতে হয় না বলে মন্তব্য করেছেন রাঙামাটি জেলা প্রশাসক এ কে এম মামুনুর রশিদ।
১৬৩৩

রাঙামাটির টার্মিনালে প্রকাশ্যে চলছে জমজমাট মাদক ও জুয়ার আসর

আলোকিত রাঙামাটি

প্রকাশিত: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২০  


শেখ ইমতিয়াজ কামাল ইমনঃ- রাঙামাটির টার্মিনালগুলো সহ বিভিন্ন এলাকায় চলছে জমজমাট জুয়া ও মাদকের আসর। 

রাঙামাটি পৌর ট্রাক টার্মিনাল ও বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা যায় ট্রাক, বাস ও লেবার শ্রমিকরা কয়েকটি গ্রুপে বসে চলছে জমজমাট জুয়ার আড্ডা। এছাড়া কয়েকটি গ্রুপের মদ, ইয়াবা সহ বিভিন্ন মাদকের রমরমা ব্যবসা। এ নিয়ে ট্রাক টার্মিনালের শ্রমিকদের দিনরাত জুয়ার কারণে পারিবারিক অশান্তি বৃদ্ধি পাচ্ছে দিন দিন। রাঙামাটি কোতয়ালী থানা পুলিশের নিরবতায় এই কার্যক্রম আরো বেশী হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভূক্তভোগী পরিবার গুলো। তারা রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের মোবাইল কোর্ট প্রতিনিয়ত টার্মিনাল গুলোতে মনিটরিং এর দাবী জানিয়েছেন। 

রাঙামাটিতে বিভিন্ন স্থানে অবৈধ জুয়া ও মাদকের আসরের কারণে পারিবারিক অশান্তি বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিম্ন আয়ের মানুষেরা তাদের নিজেদের খামখেয়ালীর কারণে পরিবারকে যেমন সময় দিচ্ছে না তেমন ভরণ পোষণ করতে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে বলে অভিয়োগ পাওয়া গেছে।

টার্মিনাল এলাকার কয়েকজন সচেতন ব্যক্তি বলেন, শ্রমিকরা নিয়মিত আয় রোজগার করে। অনেক সময় শ্রমিকদের কাজ থাকে না, সে সময় পরিবারকে সময় দিতে পারে। কিন্তু পরিবারকে সময় না দিয়ে নিয়মিত জুয়া ও মাদক নিয়ে পড়ে থাকে। এই অবস্থা চলতে থাকলে টার্মিনাল ও পরিবার গুলোর মাঝে একটি বিশৃঙ্খল অবস্থার সৃষ্টি হবে। এখানে অনেক সময় রাতে বেলায় মাদকের জমজমাট ব্যবসা চলে। শ্রমিক ছাড়াও বাইরে থেকে সে অনেকই এখানে মাদক ও জুয়ার আসরে মেতে উঠে। অনেক শ্রমিক নিজ বাড়ী ঘরেও যায় না। বউ ছেলে মেয়েরও খবর নেয় না। বউ ছেলে মেয়ে এখানে এসে অনেক সময় তাদের সাথে ঝগড়ায় লিপ্ত হতেও দেখা গেছে। এই অবস্থায় প্রশাসনের জরুরী হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন নারী বলেন, তাদের স্বামী ট্রাক চালায় বা হেলফারী করে এবং মালামাল উঠনো নামানোর কাজ করে। আয় রোজগারও খারাপ না। কিন্তু জুয়ার নেশা ও মাদকের নেশায় ডুবে থাকার কারণে আমাদের খোঁজ খবর নেয় না।

এক শ্রমিকের মেয়ে কান্না জড়িত কন্ঠে অভিযোগ করে বলেন, আমার বাবা মদও জুয়ার কারণে আমাদের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। মাকে জোর করে সমিতি থেকে লোন নিতে বাধ্য করেছে। কিন্তু লোন নেয়ার পর তা শোধ করতে এখন মায়ের হিমশিম খেতে হচ্ছে। মা মানুষের বাড়ী বাড়ী কাজ করে। কিস্তির দিন আসলে আমার মা পাগল হয়ে যায়। বাবা এক সপ্তাহ দিলে আরেক সপ্তাহ দেয় না। টার্মিনাল গুলোর জুয়া ও মদের আসর যদি বন্ধ হতো তাহলে তাদের পরিবার আরো ভালোভাবে চলতে পারতো।

ভাসমান মৌসুমী পণ্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোঃ আব্দুর রহিম বলেন, রাতে বেলায় মাদক ও জুয়ার আসর বেশী চলে। মাদক সেবীরা আমাদের হলুদ চুরি করে নিয়ে গেছে। পরে অনেক খোঁজাখুঁজির পর তা উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি। শ্রমিক নেতারা যদি চাই তাহলে মাদক ও জুয়ার আসর বন্ধ করা সম্ভব। আমরাতো রাতে এখানে থাকি না তাই অনেক কিছু বলতে পারি না। 

ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক কিশোর চৌধুরী বলেন, শ্রমিকরা কোথায় যাবে। এখানে কোন জুয়ার আসর চলে না। একটি ট্রাকের ভাড়া হয় অনেক সময় পর। তাই তারা কোথায় যাবে। একটু বিনোদনের ব্যবস্থাও নেই। তাই বসে তারা সময় কাটায়।

রাঙামাটি জেলা ট্রাক-মিনিট্রাক মালিক শ্রমিক যৌথ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ সেকান্দর হোসেন চৌধুরী বলেন, মাদক ও জুয়া আমরা কখনোই সমর্থন করি না। তিনি বলেন, একটি সময় রাঙামাটি পুলিশ সুপারের সাথে যোগাযোগ করার পর তিনি কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দিয়েছে যে প্রতিনিয়ত পেট্রোল টিম যাতে টার্মিনালে মনিটরিং করে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে দেখছি তা করছে না। অনেক সময় শ্রমিকরা বেকায়দায় পড়ে সেটাও আমরা বুঝি তাদেরকে আমরা অনেক বোঝানোর পরও তারা বুঝতে চায় না। 

তিনি আরো বলেন, তারা পারিবারিক ভাবেও সমস্যায় পড়ে। আমরা চায় শ্রমিকরা সুখে শান্তিতে থাকুক। তাই পুলিশের একটি মনিটরিং টিম যাতে প্রতিদিন একটিবার ঘুরে যায় তাহলে এই জুয়ার আসর ও মাদকের আসর বন্ধ হবে।

রাঙামাটি কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ কবির হোসেন এর কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, সঠিক তথ্য পেলে আমরা অবশ্যই অভিযান চালাবো। কেউ আমাদেরকে কখনোই অভিযোগ করেনি, যদি কেউ করলে আমরা তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা নেবো।

তিনি বলেন, অভিযান দেয়াও অনেক দুরহ ব্যাপার। আমরা হঠাৎ অভিযান দিলাম দেখা যায়। পুলিশ দেখার সাথে সাথে কাচকি মাছের মতো এদিকে ওদিকে লাফ দেয়। তাহলে আরেক বিপদে পড়ে যায়। আবার কেউ পড়ে গুরুতর আহত হলেই আমাদের দোষ হয়ে যায়। তিনি বলেন, পুলিশ সব সময় সচেষ্ট আছে এবং থাকবে।

আলোকিত রাঙামাটি
আলোকিত রাঙামাটি
রাঙ্গামাটি বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর