• রাঙামাটি

  •  মঙ্গলবার, জুলাই ৫, ২০২২

রাঙ্গামাটি

আগামীকাল ৩১ মে, ঐতিহাসিক ভূষণছড়া গণহত্যা দিবস

আলোকিত রাঙ্গামাটিঃ-

 আপডেট: ১১:২৭, ৩০ মে ২০২২

আগামীকাল ৩১ মে, ঐতিহাসিক ভূষণছড়া গণহত্যা দিবস
ফাইল ছবি 

আগামীকাল ৩১ মে, ঐতিহাসিক ভূষণছড়া গণহত্যা দিবস। পার্বত্য চট্টগ্রামে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বৃহৎ এবং ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডটি হচ্ছে ভূষণছড়া গণহত্যা। ১৯৮৪ সালের ৩১ মে রাঙামাটি জেলার বরকল উপজেলার ভূষণছড়া ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার বাঙ্গালীরা এই নির্মম গণহত্যার শিকার হন।

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) এর অঙ্গ সংগঠন শান্তিবাহিনীর হাতে অসংখ্যবার পার্বত্য চট্টগ্রামের বাঙালিরা গণহত্যার শিকার হয়েছে। শান্তিবাহিনীর হত্যাকাণ্ডগুলোর মধ্যে রাজনগর গণহত্যা, পাকুয়াখালী ট্রাজেডি, মাটিরাঙ্গা গণহত্যা, ভূষণছড়া গণহত্যা উল্লেখযোগ্য। আর পার্বত্য চট্টগ্রামের কয়েক শত বছরের ইতিহাস ঘাটলেও ভূষণছড়া গণহত্যার মতো এত বড় ধ্বংসযজ্ঞের আর কোন নজির খুঁজে পাওয়া যাবে না। এমনকি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে পাকিস্তানী পাষণ্ডরাও এখানে এমন জঘন্যতম ঘটনার জন্ম দেয়নি। যে ঘটনার মাধ্যমে মাত্র কয়েক ঘন্টা সময়ে হত্যা করা হয়েছে চার শতাধিক নিরস্ত্র নিরীহ মানুষ । এবং আহত করা হয়েছে আরও সহস্রাধিক মানুষ। নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে একটি জনপদ।


স্থানীয় অনেকে জানান, ১৯৮৪ সালের ওই ঘটনায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে সহস্রাধিক পরিবার। পাহাড় ছেড়ে পালিয়ে যায় ১৬শ’ বাঙালি পরিবার। থেকে যাওয়াদের মাঝে বিরাজ করে আতঙ্ক। নজিরবিহীন হত্যাকাণ্ডের পরও কেউ মামলা করেনি ভয়ে। প্রশাসন জিডি করলেও ক্ষতিপূরণ পায়নি ক্ষতিগ্রস্ত কেউ।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হিসাবে, ১৯৯৭ সালে শান্তিচুক্তির আগ পর্যন্ত ভূষণছড়া ছাড়াও রাজনগর, পাকুয়াখালী ট্রাজেডিসহ পার্বত্য চট্টগ্রামে ২১টির অধিক গণহত্যার ঘটনা ঘটে। এতোদিন যেসব থেকে গেছে লোকচক্ষুর অন্তরালে।

উল্লেখ্য, ৩৮ বছর আগে গণহত্যায় নিহতদের স্মরণে প্রতি বছর ৩০ ও ৩১ মে নানা কর্মসূচি আয়োজন করে আসছে ভূষণছড়া গ্রামবাসী। দিবসটি উপলক্ষ্যে আগামীকাল মঙ্গলবার ভূষণছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে শোক ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।

এদিকে, নিহতের স্মরণ, হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে আগামীকাল মঙ্গলবার (৩১ মে) রাঙামাটি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করবে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ (পিসিএনপি)।

মন্তব্য করুন: