• ২৭ জানুয়ারি ২০২২ ||

  • মাঘ ১৪ ১৪২৮

  • || ২২ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

নগর জুড়ে

পৌষের সকালে রাঙামাটির উঁচু-নিচু পাহাড়ে ম্যারাথন

 প্রকাশিত: ১৬:৩২, ১৭ ডিসেম্বর ২০২১

পৌষের সকালে রাঙামাটির উঁচু-নিচু পাহাড়ে ম্যারাথন

প্রকৃতিতে এখন পৌষের হিমেল হাওয়া। পাহাড়ি জেলা রাঙামাটিতে পৌষের শীতকে উপেক্ষা করে ভোরের আলো ফোটার আগেই বিভিন্ন এলাকা থেকে ম্যারাথানে অংশ নিতে প্রতিযোগিরা এসে সমবেত হতে থাকে পৌর প্রাঙ্গণে। জড়ো হয়ে সকলেই গা গরমে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। ভোরের আলো ফুটতেই উদ্বোধনী বার্তা দিতে হাজির পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমা। অতঃপর বেলুন উড়িয়ে প্রতিযোগিতার সূচনা করেন তিনি।


পর্যটন শিল্পের বিকাশ এবং স্তন ও জরায়ু মুখে ক্যান্সার প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষে রাঙামাটিতে প্রথমবারের মত অনুষ্ঠিত হলো হাফ ম্যারাথন প্রতিযোগিতা। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কয়েকশ প্রতিযোগী এই আয়োজনে অংশগ্রহণ করে।

শুক্রবার (১৭ ডিসেম্বর) ভোর ৬টা ১০ মিনিটে পৌরসভা গেইট থেকে শুরু হয় এই হাফ ম্যরাথন। শহরে দৃষ্টিনন্দন আঁকাবাঁকা পথ ধরে ধীর গতিতে ছুটতে থাকা প্রতিযোগিরা উপভোগ করে বিশাল কাপ্তাই হ্রদের শান্ত নীল জল। কখন সমতল, কখন উঁচু নিচু পথে দৌড়াতে থাকা প্রতিযোগিদের চোখে মুখে ছিল না কোনও ক্লান্তির ছাপ। ম্যারাথনে ১০ কিলোমিটার ও ২১ কিলোমিটার এই দুই ইভেন্টে ২০০ প্রতিযোগি হ্রদ পাহাড়ের এই শহরের অলিগলিতে ছুটে চলে। পর্যটন শিল্পের বিকাশ এবং স্তন ও জরায়ু মুখে ক্যান্সার প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত অংশগ্রহণকারীরা ম্যারাথনে অংশ নিয়ে উচ্ছ্বসিত।


মৌলভীবাজার থেকে আসা এক প্রতিযোগী জানান, গত চার বছর আগে আমিও ভোরের সূর্যোদয় দেখি না, গত চার বছর ধরে আমি ভোরের সূর্য দেখছি, এতে আমার স্বাস্থ্য ভালো থাকে। রাঙামাটিতেও এই ধরনের আয়োজনের খবর জানতে পেরে অংশ নিলাম। পাহাড়ের উঁচু-নিচু রাস্তায় দৌড়াতে পেরে ভালো লাগছে।

ঢাকা থেকে আসা প্রতিযোগী দিলীপ রায় বলেন, আমি গত দশ বছরে এক কিলোমিটারও হাঁটি নাই। আর আজ আমি দশ কিলোমিটার দৌঁড়াছি। পাহাড়ি রাস্তায় এভাবে দৌড়াতে খুবই ভালো লাগছে। চেষ্টা করবো সামনের দিনগুলিতে প্রতিদিন সকালে উঠে যেন দৌড়াতে পারি।

রাঙামাটি মেডিসিন ক্লাবের সভাপতি তন্ময় চৌধুরী বলেন, পর্যটন শিল্পের বিকাশে এবং স্তন ও জরায়ু মুখে ক্যান্সার প্রতিরোধে সচেনতা বৃদ্ধিতে এই ধরনের আয়োজন করা হয়েছে।

রাঙামাটি রানার্সের এডমিন ত্রিদিব বাহাদুর রায় বলেন, আমরা সচেতনতা সৃষ্টিতে এই আয়োজন করেছি। ভবিষ্যৎ সহযোহিতা পেলে প্রতিবছর এমন আয়োজন করতে চায়।

সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার বলেন, সংগঠনগুলি এভাবে পর্যটন এবং স্বাস্থ্য সচেতনতায় এগিয়ে আসলে সকলেই উপকৃত হয়। ভবিষ্যতে এই ধরনের আয়োজনে পাশে থাকার কথা ব্যক্ত করেন তিনি।

আলোকিত রাঙামাটি

মন্তব্য করুন: