• রাঙামাটি

  •  মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ৬, ২০২২

নগর জুড়ে

প্রশিক্ষণার্থী বাছাইয়ে জাতীয় মহিলা সংস্থা রাঙামাটি শাখার বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িকতার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ-

 আপডেট: ২৩:০৩, ১৯ আগস্ট ২০২২

প্রশিক্ষণার্থী বাছাইয়ে জাতীয় মহিলা সংস্থা রাঙামাটি শাখার বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িকতার অভিযোগ
পিসিএমপি ও পিসিসিপি। লগো 

প্রশিক্ষণার্থী বাছাইয়ে জাতীয় মহিলা সংস্থা রাঙামাটি শাখার বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িকতার অভিযোগ তুলেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম মহিলা পরিষদ (পিসিএমপি) ও পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি)। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনের এ প্রতিষ্ঠান রাঙামাটি জেলা কার্যালয় পরিচালিত সেলাই ও এমব্রয়ডারির ৪৫তম ব্যাচের (জুলাই-অক্টোবর-২০২২) ২১-০৬-২০২২খ্রি: বাছাইকৃত ভর্তির নামের তালিকায় দুই শিফটে ১৫ জন করে ৩০ জন এমনকি অপেক্ষমান তালিকায় ২ জন করে ৪ জন এর নামের তালিকায় কোন বাঙালী প্রশিক্ষণার্থীর নাম না থাকায় ও প্রশিক্ষণার্থী হিসেবে শুধু মাত্র পাহাড়ীদের নাম থাকায় এই তালিকা করার সময় পাহাড়ী নারীদের প্রাধান্য দিয়ে বাঙালী নারীদের প্রতি বৈষম্যের অভিযোগ তুলে পার্বত্য চট্টগ্রাম মহিলা পরিষদ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ রাঙামাটি জেলা শাখা প্রতিবাদ জানিয়েছে।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে জাতীয় মহিলা সংস্থা রাঙামাটি জেলা কার্যালয় পরিচালিত সেলাই ও এমব্রয়ডারির ৪৫তম ব্যাচের (জুলাই-অক্টোবর-২০২২) ব্যাচের ট্রেডে ভর্তি আবেদনপত্র বাছাই  করে বৃহস্পতিবার  (২১ জুন ২০২২) প্রশিক্ষণার্থীদের চূড়ান্ত নামের তালিকা প্রকাশ করে। 

পার্বত্য চট্টগ্রাম মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক নারী নেত্রী মোরশেদা আক্তার বলেন, ‘সবগুলো ট্রেডে বাছাই করা উপজাতি নারী আর বাঙালী নারী প্রশিক্ষণার্থীর সংখ্যা হিসাব করলে দেখা যায়, বাঙালি নারী নামে মাত্র ২ জন প্রশিক্ষণের জন্য সুযোগ পেয়েছে, অন্যদিকে উপজাতিরা ৯৯% সুযোগ পেয়েছে। অথচ বাঙালী ৫০% ও উপজাতিরা ৫০% করে সমানভাবে সুযোগ পাওয়ার কথা ছিলো। এই বিষয়ে আমরা কথা বললে তারা বলে বাঙালী নারীরা আবেদন করে না।’

মোরশেদা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, ‘বাঙালী নারীরা আবেদন করে না, ‘এটা আসলে কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব এড়ানোর একটি কৌশল। আমরা বিভিন্নভাবে জানতে পেরেছি যে, বাঙালী নারীরা আবেদন করলেও তাদেরকে সেভাবে সুযোগ দেয়া হয় না। লবিং বা সুপারিশ ছাড়া তো কোনো বাঙালী নারী ভর্তি হওয়ারই সুযোগ পায় না, এছাড়াও উক্ত সংস্থাতে কর্মকর্তা ও কর্মচারী বেশীরভাগ উপজাতি হওয়াতে তারা বাঙালীদের সাথে বরাবরই বৈষম্য করে যাচ্ছে। আমরা এমন বৈষম্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আগামীতে প্রতিটি ট্রেডে সমানভাবে বাঙালী ও উপজাতি প্রশিক্ষণার্থীদের নেওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি।’

পার্বত্য চট্টগ্রাম মহিলা পরিষদের রাঙামাটি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও নানিয়ারচর উপজেলা মহিলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আসমা মল্লিক বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রামে ৫২% বাঙালীদের সাথে এমন বৈষম্য মেনে নেওয়া যায় না, আমরা যতটুকু জানতে ও বুঝতে পেরেছি জাতীয় মহিলা সংস্থার রাঙামাটি জেলার চেয়ারম্যান ফিরোজা বেগম চিনু উনি বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকান্ড নিয়ে ব্যস্ত থাকেন, উনার আড়ালে ও উনাকে বুঝতে না দিয়ে কতিপয় কিছু উপজাতি কর্মকর্তা বৈষম্য মূলক এসব কর্মকান্ড করে যাচ্ছে, উক্ত সাম্প্রদায়িক মনোভাব সম্পন্ন কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ প্রদক্ষেপ নিতে কর্তৃপক্ষের নিকট আহ্বান জানাচ্ছি।’

বাছাইকৃত প্রশিক্ষণার্থীদের তালিকায় শুধুমাত্র দুজন বাঙালী নারী তানিয়া আক্তার ও তুষ্টি দে’র নাম রয়েছে। ছবি:- সংগৃহীত

পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ রাঙামাটি জেলার সদস্য সচিব মামুনুর রশিদ মামুন বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রামে বাঙালী ছাত্রছাত্রীদের প্রতিটি ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হতে হচ্ছে। উপজাতীয় শিক্ষার্থীরা ভর্তি ও চাকরির ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা পাওয়া ছাড়াও বিভিন্ন সরকারি বৃত্তি পাচ্ছে। কেবল উপজাতীয় হওয়ার সুবাদে পার্বত্য জেলা পরিষদ, আঞ্চলিক পরিষদ, পার্বত্য মন্ত্রণালয়, উন্নয়ন বোর্ড, জেলা প্রশাসন থেকে বৃত্তির মোটা অংকের অর্থ পেয়ে থাকে তারা। এক্ষেত্রে বাঙালী শিক্ষার্থীরা তাদের থেকে যোগ্যতা সম্পন্ন ও দারিদ্রতার শিকার হয়েও উপেক্ষিত হচ্ছে।

মহিলা পরিষদ ও ছাত্র পরিষদের অভিযোগের বিষয় সম্পর্কে জানতে চাইলে, ‘জাতীয় মহিলা সংস্থা রাঙামাটি কার্যালয়ের জেলা কর্মকর্তা প্রমেশ চাকমা বলেন, বাঙালী নারীরা প্রশিক্ষণের জন্য তেমন আবেদন করে না, আর আবেদন করলেও ভূল থাকে। বাঙালী মুসলিম নারী না থাকলেও ৪৫ তম ব্যাচে বড়ুয়া ও হিন্দু বাঙালী নারীদের নাম তালিকায় রেখেছেন বলেন।’

মন্তব্য করুন: