• রাঙামাটি

  •  শনিবার, ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৩

নগর জুড়ে

রাঙামাটিতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান

পার্বত্য চট্টগ্রামে চাঁদাবাজি, অপহরণ-খুন এগুলোর কারণে মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়েছে

রাঙামাটি (সদর) প্রতিনিধিঃ-

 আপডেট: ১৭:০৪, ১৮ জানুয়ারি ২০২৩

পার্বত্য চট্টগ্রামে চাঁদাবাজি, অপহরণ-খুন এগুলোর কারণে মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়েছে
ছবিঃ আলোকিত রাঙ্গামাটি

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রামে চাঁদাবাজি, অপহরণ-খুন এগুলোর কারণে মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়েছে। গণশুনানিতে নানা জনের নানা মতের কথা শুনেছি। তবে এখনই হতাশ হওয়ার মতো অবস্থা হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।’

বুধবার (১৮ জানুয়ারি) রাঙামাটির ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনসস্টিটিউট সম্মেলন কক্ষে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের উদ্যোগে গণশুনানী অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১১টায় শুরু হয়ে গণশুনানি চলে দুপুরের পর পর্যন্ত।

গণশুনানি শেষে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ সংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।

এ সময় তিনি জানান, ‘পার্বত্য চট্টগ্রামে উন্নয়ন বিঘ্নিত হচ্ছে, সেটা আমরা উপলব্ধি করছি। এখানকার জনগণের কষ্টের কথাগুলো যথাযথ মাধ্যমে পৌঁছে দিয়ে পদক্ষেপ নিতে কাজ করবো।

চট্টগ্রাম মেডিকেলে ডায়ালাইসিস করতে বাড়তি টাকা নেয়ার প্রসঙ্গে চেয়ারম্যান বলেন, আমরা আইনী প্রক্রিয়ায় এগিয়েছি। আইনের মাধ্যমে এটা বের হবে। কেউ কোন দোষ করেছে কিনা। ইতোমধ্যে একটা প্রতিকার পাওয়া গেছে। যাকে আটক করা হয়েছিল তাকে জামিন দেয়া হয়েছে। যাকে আটক করা হয়েছে তার কোন দোষ ছিলো না। চট্টগ্রামে মেডিকেলে ডায়ালাইসিস করার টাকা যেটা বাড়ানোর কথা ছিলো। সরকার বিবেচনা করে আগের পর্যায় রেখেছে। আমি মনে করি এটা একটা বিরাট প্রতিকার। মামলাও চলবে, যিনি দোষী সব্যস্ত হবেন। তার বিচার আদালত করবে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের যুগ্ম সচিব নারাায়ন চন্দ সরকার, সার্বক্ষনিক সদস্য মো. সেলিম রেজা, কমিশনের সদস্য কাওসার আহমেদ, মো. আমিনুল ইসলাম, কংজরী চৌধুরী, রাঙামাটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, পুলিশ সুপার মীর আবু তৌহিদ ও তিন পার্বত্য জেলার বিভিন্ন স্তরের জনপ্রতিনিধি হেডম্যান-কার্বারীগণ।

গণশুনানিতে অংশ নেয়া সাধারণ মানুষ বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তিপ্রিয় পাহাড়ি-বাঙালি সবাই মানবাধিকার নিয়ে বাঁচতে চায়। কিন্তু শান্তিপ্রিয় সাধারণ মানুষ অবৈধ অস্ত্রের কারণে নিজ বাড়িতে থাকতে পারে না। নিজ বাড়িতে নিরাপদে বেঁচে থাকার অধিকার চাই। চুক্তির পর পাহাড়ে শান্তি না ফেরায় পাহাড়ে বসবাসকারী পাহাড়ি-বাঙালি উভয়ে অশান্তিতে বসবাস করছে। পাহাড়ে ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে শুরু করে সব ক্ষেত্র থেকে কয়েকটি দলকে চাঁদা দিতে হয়। চাঁদার মূল কারণ পাহাড়ে বিভিন্ন আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠনগুলো। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা না হলে পাহাড়ে কোনদিন শান্তি ফিরবে না।’

রাঙামাটি সিএনজি অটোরিক্সা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি পরেশ মজুমদার বলেন, ‘চুক্তির পরে চাঁদার কারণে আমাদের অনেক চালক ভাই নিখোঁজ হয়েছে। পরিবারের লোকজন এখনো নিখোঁজদের অপেক্ষায় আছে। অবৈধ অস্ত্রের কারণে পাহাড়ি-বাঙালি সবাই কষ্টে আছি। প্রতিবছর অস্ত্রের ভয়ে চাঁদা দিতে বাধ্য হচ্ছি। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার হলে, পাহাড়ে শান্তি বিরাজ করবে।’

বিকেলে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে কমিশন চেয়ারম্যানের সাথে জেলা মানবাধিকার প্রতিরোধ ও সুরক্ষা কমিটির সদস্যদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

মন্তব্য করুন: