• রাঙামাটি

  •  বৃহস্পতিবার, মে ২৬, ২০২২

জাতীয়

বাংলাদেশের অর্থনীতি শ্রীলঙ্কার অর্থনীতির চেয়ে বড় এবং বৈচিত্র্যপূর্ণ

শ্রীলঙ্কার মতো ঝুঁকিতে নেই বাংলাদেশ

নিউজ ডেস্কঃ-

 আপডেট: ১৫:২২, ১৪ মে ২০২২

বাংলাদেশের অর্থনীতি শ্রীলঙ্কার অর্থনীতির চেয়ে বড় এবং বৈচিত্র্যপূর্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশের অর্থনীতি শ্রীলঙ্কার মতো বিপর্যয়ে পড়বে’ আতঙ্ক সৃষ্টি করতেই একটি পক্ষ বিভিন্ন মাধ্যমে মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে। বাংলাদেশের অর্থনীতির ভিত অনেক গভীর ও মজবুত। স্বাধীনতাবিরোধী চক্র শ্রীলঙ্কার সাথে বাংলাদেশের তুলনা করে নতুন ষড়যন্ত্র রচনা করছে।

অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, অর্থনীতির আকার, পরিসংখ্যান, প্রকল্প বাস্তবায়নের দক্ষতা আর অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় শ্রীলঙ্কার সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবধান আকাশ পাতাল। তাই দেশের অর্থনীতিতে এমন বিপর্যয়ের আশঙ্কাকে উড়িয়ে দিচ্ছেন তারাও।

‘বাংলাদেশের শ্রীলঙ্কা হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। শ্রীলঙ্কার সঙ্গে আমাদের তুলনা করা যাবে না।’ এমন বক্তব্যের প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়েছে শ্রীলঙ্কার সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের প্রেক্ষাপটে। চাল, চিনি, চা কিংবা তেল কিনতে গেলেই অস্বাভাবিক অর্থ খরচ করতে হচ্ছে দেশটির নাগরিকদের। যদিও এর কোনো প্রভাব বাংলাদেশের অর্থনীতির আঙ্গিনায় নেই, তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো হচ্ছে ভীতি। বলা হচ্ছে বিপদে পড়বে বাংলাদেশও।

দেখা যাক বাস্তবের পরিসংখ্যান কী বলছে?

খাদ্য উৎপাদনে ঘাটতি নেই বাংলাদেশে, কখনোই উল্টো দিকে ঘোরেনি রফতানি আয় ও রেমিট্যান্সের চাকা। ৪৫ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের বিপরীতে শ্রীলঙ্কার রিজার্ভ ২ বিলিয়নেরও কম। দেশটির মাথাপিছু ঋণ এক হাজার ৬৫০ ডলার হলেও বাংলাদেশের তা মাত্র ২৯২ ডলার। এ ছাড়া বাংলাদেশের ৪১৬ বিলিয়ন ডলারের জিডিপি বিপরীতে শ্রীলঙ্কা জিডিপি মাত্র ৮৩ বিলিয়ন ডলার।

এদিকে, শ্রীলঙ্কার প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের উৎস হলো পর্যটন খাত। করোনা মাহামারির কারণে গত দুই বছর এই খাতে ব্যাপক ধস নামে। যার আঘাত লাগে সরাসরি রাজস্ব আয়ে। অপরদিকে, বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য নেওয়া বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক ঋণের কিস্তি ঠিকই পরিশোধ করতে হয় দেশটিকে। প্রসঙ্গত, শ্রীলঙ্কায় পর্যটক বাড়াতেই এসব প্রকল্প নেওয়া হয়। এর পাশাপাশি শিল্প উৎপাদনে ধস এবং রফতানি আয় ও রেমিট্যান্স প্রবাহও নিচের দিকে নেমে যায়। তার ওপর কর ও ভ্যাট কমায় দেশটির বর্তমান সরকার। এছাড়াও চাষাবাদে রাসায়নিক সারের ব্যবহার বাদ দিয়ে অর্গানিক খাদ্য উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ফলে সেখানে খাদ্য ঘাটতি দেখা দেয়। এমনকি এর প্রভাবে দেশটিতে চায়ের উৎপাদনও কমে যায় এসব কারণে শ্রীলঙ্কায় এই অর্থনৈতিক সংকট দেখা দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

অপরদিকে, বাংলাদেশের শ্রীলঙ্কার মতো পরিস্থিতিতে পড়ার বিষয়টি উড়িয়ে দিয়ে অর্থনীতিবিদ ড. মনসুর রিয়াজ বলেন, আমরা যদি অর্থনৈতিক উন্নয়ন বা অর্থনীতির আকার বা ক্ষমতা দেখি। তাহলে বাংলাদেশ গত ৮ থেকে ১০ বছরে শ্রীলঙ্কার চেয়ে অনেক দূর এগিয়ে রয়েছে। একই ভাষ্য ব্যবসায়ীদেরও। তারা বলেছেন, বিশাল কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী, বড় প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন আর প্রবাসী আয়ের প্রবৃদ্ধিই বাংলাদেশের বড় শক্তি।

মূলত অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার অদক্ষতার কারণেই শ্রীলঙ্কা সংকটে পড়েছে। এমন মত দিয়ে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম বলছেন, এটিকে পুঁজি করে একটি মহল দেশে আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করছে। এ আশঙ্কাটিকে অমূলক দাবি করে তিনি বলেন, যে তুলনাটি করা হচ্ছে, এটি মূলত করার জন্য করা হচ্ছে। অথবা একটি ভয় সৃষ্টির জন্য করা হচ্ছে। শ্রীলঙ্কার ক্ষেত্রে অব্যবস্থাপনা বলছি কারণ দেশটির মূল্যস্ফীতি কয়েকদিন আগেও ১৬ শতাংশ ছিল। এটি ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। আমাদের মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশ। তার মানে আমাদের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা অনেক সংহত। শ্রীলঙ্কার জিডিপি ৩ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে। সেখানে আমাদের জিডিপি ৩ দশমিক ৫১ শতাংশ বেড়েছে।

এ ছাড়া শ্রীলঙ্কায় কৃষিতে ব্যর্থতার বিপরীতে আমাদের ধারাবাহিক সফলতা। করোনায় দেশটির রফতানিতে ধসের উল্টো দিকে আমাদের অর্জন বিশাল প্রবৃদ্ধি। কলম্বোর ২ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্সের বিপরীতে প্রবাসী বাংলাদেশিরা পাঠাচ্ছেন ২৪ বিলিয়ন ডলার। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বিশ্বকে জানান দিচ্ছে, উন্নয়নের সড়কে সঠিক পথেই এগুচ্ছে ১৭ কোটি মানুষের এই সোনার বাংলাদেশ।

মন্তব্য করুন: