• রাঙামাটি

  •  মঙ্গলবার, জুলাই ৫, ২০২২

পার্বত্য চট্টগ্রাম

দুই গ্রুপের গোলাগুলি: জেএসএস’র সামরিক কমান্ডার রণকৌশল চাকমা নিহত!

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ-

 আপডেট: ১০:২০, ২২ এপ্রিল ২০২২

দুই গ্রুপের গোলাগুলি: জেএসএস’র সামরিক কমান্ডার রণকৌশল চাকমা নিহত!

বান্দরবানের রুমা উপজেলা ও রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার সীমান্তবর্তী বড়থলি ইউনিয়নে আঞ্চলিক দুই গ্রুপের গোলাগুলিতে জেএসএস (সন্তু)’র সামরিক কমান্ডার রণকৌশল চাকমা নিহত হয়েছে এমন খবর গত কিছুদিন ধরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচিত হলেও তিনি নিহত হয়েছেন নাকি জীবিত আছেন এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে পাল্টাপাল্টি আলোচনা।

জানা যায়, গত রবিবার (১৭ এপ্রিল) দুপুরে বান্দরবান জেলার রুমা উপজেলা ও রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার সীমান্তবর্তী বিলাইছড়ির বড়থলি ইউনিয়নের বিলপাড়া-সাইজাম পাড়া (তঞ্চঙ্গ্যা পাড়া) এলাকায় পার্বত্য চট্টগ্রামে নতুন আত্মপ্রকাশ করা কুকি-চীন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ) এর সামরিক শাখা কুকি-চীন ন্যাশনাল আর্মি (কেএনএ) এর সাথে জেএসএস (সন্তু)’র সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের মধ্যে ব্যাপক গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে জেএসএস (সন্তু)’র সামরিক কমান্ডার রণকৌশল চাকমা নিহতসহ হতাহতের খবরও শোনা যায়।

এদিকে, উক্ত ঘটনার খবর শোনার পর যৌথবাহিনীর একটি দল দূর্গম পথ পেরিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে কোন লাশ বা হতাহতের প্রমাণ পায়নি। তবে স্থানীয়রা নিরাপত্তাবাহিনীর কাছে গোলাগুলির খবর এবং একাধিক হতাহতের খবর নিশ্চিত করে।

এ বিষয়ে স্যোশাল মিডিয়ায় জেএসএস (সন্তু)’র সশস্ত্র শাখার অন্যতম শীর্ষ কমান্ডার ও প্রশিক্ষক রণকৌশল চাকমা নিহত হওয়ার খবর প্রকাশিত হলেও জেএসএস’র পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ধরণের খবরের কোনো জবাব দেয়া হয়নি। কিন্তু অপরপক্ষ কুকি-চীন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ) তাদের ফেসবুক পেইজে সরাসরি রণকৌশল চাকমাকে সরাসরি হত্যার দাবী করা হয়েছে।

তবে অনুসন্ধানে জানা যায়, এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে জেএসএস’র একজন কমান্ডার ঘটনাস্থলেই মারা যায় এবং অপর আরেকজন কোমরে গুলিবিদ্ধ পরে মারা যায়।

এদিকে, এ ঘটনার পর জেএসএস সমর্থিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল হিল ভয়েজে উক্ত ঘটনা সংক্রান্ত একটি রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে।

হিল ভয়েজে প্রকাশিত রিপোর্টটি পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলোঃ- 

রিপোর্টটিতে বলা হয়েছে, “কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি সমর্থকদের উপর বিশ্বাসঘাতকতামূলক এক অতর্কিত সশস্ত্র আক্রমণ চালিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এই হামলায় চুক্তি সমর্থক এক নিরীহ ব্যক্তি নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এই ঘটনাটি গত রবিবার ১৭ এপ্রিল ভোরের দিকে বান্দরবান জেলার রুমা উপজেলা ও রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলাধীন বিলাইছড়ি উপজেলার সীমান্তবর্তী বিলাইছড়ির বড়থলি ইউনিয়নের বিলপাড়া-সাইজাম পাড়া (তঞ্চঙ্গ্যা পাড়া) এলাকায় ঘটেছে বলে এলাকাবাসীর সূত্রে খবর পাওয়া গেছে। ঘটনায় নিহত ব্যক্তির নাম এ্যাকশন চাকমা বলে জানা গেছে।”

জেএসএস সমর্থিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল হিল ভয়েজে প্রকাশিত রিপোর্টের স্ক্রিনশট

রিপোর্টে বলা হয়েছে, ‘প্রতিপক্ষের কোনরূপ উস্কানী ছাড়াই বমপার্টি এই সশস্ত্র আক্রমণ চালায় বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চুক্তি সমর্থক স্থানীয় এক গ্রামবাসী জানান। কুকি-চীন ন্যাশনাল ফ্রন্ট নামে আবির্ভূত হতে না হতেই বমপার্টি এই হামলার মধ্য দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে আরেক সশস্ত্র সংঘাতের সূত্রপাত ঘটালো বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েকদিন আগে পার্বত্য চুক্তি সমর্থক কয়েকজন কর্মী রুমা উপজেলার সীমান্তবর্তী বিলাইছড়ির বড়থলি ইউনিয়নে সাংগঠনিক কাজ শুরু করেন। গত ১৬ এপ্রিল ২০২২ তারা বিলপাড়া গ্রামে জনৈক এক গ্রামবাসীর বাড়িতে রাত্রি যাপন করেন। ১৭ এপ্রিল ভোর প্রায় ৪:০০ টার দিকে বমপার্টির সশস্ত্র সদস্যরা কোনরূপ উস্কানী ছাড়াই চুক্তি সমর্থক কর্মীদের উপর অতর্কিত সশস্ত্র হামলা চালায়। এই হামলায় এ্যাকশন চাকমা নামে একজন কর্মী প্রস্রাব করার জন্য বাড়ি থেকে বের হলে গুলিবিদ্ধ হন। এতে তিনি ঘটনাস্থলে নিহত হন। ’

জেএসএস সমর্থিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল হিল ভয়েজে প্রকাশিত রিপোর্টের স্ক্রিনশট

রিপোর্টে আরো বলা হয়েছে, “পার্বত্য চুক্তির বিরোধিতা করলেও কোন উস্কানী ছাড়াই বমপার্টির সশস্ত্র সদস্যরা একতরফাভাবে চুক্তি সমর্থক কর্মীদের উপর এভাবে অতর্কিত সশস্ত্র হামলা করবে এটা তারা ভাবতে পারেনি বলে চুক্তি সমর্থক একজন কর্মী জানান। তিনি বলেন, বমপার্টি যে অধিকারের জন্য আন্দোলন করছে বলে দাবি করছে, সেই দাবি  তো সরকার থেকেই আদায় করতে হবে। তাই আন্দোলনরত আরেকটি গোষ্ঠীর উপর এভাবে এত শীঘ্রই সশস্ত্র আক্রমণ করবে তা ভাবা যায়নি।”

বমপার্টি (কেএনএফ)-এর দায় স্বীকার ও হুমকি:

‘এই উস্কানীমূলক হামলায় দায় স্বীকার করে ১৮ এপ্রিল কুকি-চীন ন্যাশনাল ফ্রন্ট তাদের ফেসবুক একাউন্টে উল্লেখ করে যে, ‘গতকাল রাত থেকে সারাদিন আমাদের কুকি-চীন ন্যাশনাল আর্মি (কেএনএ) এর “হেড হান্টার টিম” এর দক্ষ কমান্ডোগণ অপারেটিভ ছিল। ১৯ এপ্রিল আরেক স্টাটাসে কেএনএফ একইভাবে উল্লেখ করে যে, “আমাদের সুদক্ষ “হেড-হান্টার” কমান্ডোগণ দক্ষতার সাথে প্রতিপক্ষ জেএসএস’র জেএলএ নামক কমান্ডো ফোর্সকে পুরোপুরি সফলভাবে ঘায়েল এবং পরাস্ত করতে সক্ষম হয়েছে।.....বমপার্টি সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা কেবল সশস্ত্র হামলার দায় স্বীকার করেনি, সেই সাথে হুমকিও দিয়ে চলেছে। ১৯ এপ্রিল দেয়া আরেক ফেসবুক স্টাটাসে বমপার্টি সন্ত্রাসীরা হুমকি দেয় যে, “মাত্রাতিরিক্ত বাড়াবাড়ি করলে অতীতের ন্যায় পার্বত্য চট্টগ্রামে দূর্ধর্ষ কুকি বিদ্রোহ আবার শুরু হবে।”

জেএসএস সমর্থিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল হিল ভয়েজে প্রকাশিত রিপোর্টের স্ক্রিনশট

রিপোর্টে আরোও বলা হয়েছে, ‘কেএনএফ আবির্ভাব হওয়ার সাথে সাথে এই সংগঠনটি পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বিরোধী ও জনসংহতি সমিতির বিরুদ্ধে এবং চাকমা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক উস্কানীমূলক প্রচারণা শুরু করে। কুকি-চীন ন্যাশনাল ফ্রন্ট নামে বমপার্টির নিজস্ব ফেসবুক একাউন্টে ৩০ ডিসেম্বর ২০২১ তারিখে প্রচার করা হয় যে, ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম জুম্মল্যান্ড নয়, এটি কুকি-চীন টেরিটোরি।’

উক্ত ফেসবুক একাউন্টে আরো বলা হয় যে, ‘পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তিচুক্তি এবং তাদের গঠিত আঞ্চলিক পরিষদ কুকি-চীন জনগোষ্ঠীদের জন্যে নয়, এটা একটা চাকমা চুক্তি এবং চাকমা জনগোষ্ঠীদের উন্নয়নমূলক পরিষদ মাত্র।’

অপরদিকে, কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ) তাদের ফেসবুক পেইজে পোস্টের মাধ্যমে সরাসরি রণকৌশল চাকমাকে সরাসরি হত্যার দাবী করা হয়েছে।

ফেসবুক পেইজের পোস্টটি পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলোঃ-

পোস্টে বলা হয়েছে, ‘পার্বত্য চট্টগ্রামের সন্ত্রাসী দল জেএসএস (সন্তু লারমা) সংগঠনের নেতৃবৃন্দের পরিকল্পনা মোতাবেক এবং হাই-কমান্ডের নির্দেশে জেএসএস এর তথাকথিত কমান্ডো ফোর্স "জুম্মল্যান্ড লিবারেশন আর্মি (জেএলএ)" কেএনএফ এর অবস্থানে আক্রমণ করে পুরোপুরি নির্মূলের উদ্দেশ্যে রাঙামাটি জেলার বিলাইছড়ি থানার বড়থলি ইউনিয়নের জেএসএসপন্থী চাকমা গ্রাম বিলপাড়াতে আসে। এটি ছিল ১৬ তারিখ দুপুর। সম্ভবত তাদের উদ্দেশ্য ছিল পরদিন ১৭ তারিখ খ্রীষ্টানদের ধর্মীয় দিন ইস্টার সানডে দিনেই হয়তো কেএনএফদের আস্তানাতে ধ্বংসাত্মক হামলা চালাবে।’

কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট এর ফেসবুক পেইজে সরাসরি রণকৌশল চাকমাকে হত্যার দাবীকৃত পোস্টের স্ক্রিনশট।


কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ) হেডকোয়ার্টারস্, সিএইচটি এর তথ্য, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক লে. কর্ণেল সলোমন এর বরাতে পোস্টকৃত বার্তায় দাবি করা হয়েছে, “একটি বিশেষ সূত্রে জানা গেছে, নীল নকশাটি প্রণয়ন করা হয়েছিল রাঙামাটির জেএসএস এর কেন্দ্রীয় কমিটিগণ। সেই ধারাবাহিকতায়, সন্ত্রাসীরা শনিবারে বিকেলে কারবারীর মাধ্যমে তাদের কমান্ডার রণকৌশল চাকমা কেএনএফ এর কমান্ডারকে একটি চিঠি পাঠান। চিঠিতে এক সপ্তাহের মধ্যে কেএনএফ সদস্যেদের সবাইকে নিজ জন্মভূমি বাংলাদেশ ত্যাগ করতে হবে না হলে কেএনএফ এর সাথে যুদ্ধ করবে ইত্যাদি হুমকিস্বরূপ বাক্যগুলি তারা ব্যবহার করে। তাদের সংখ্যা ছিল প্রায় ৪০-৫০ জনের মতো, সবাই সশস্ত্র।”

পোস্টকৃত বার্তায় আরো উল্লেখ করা হয়েছে, ‘চিঠিটি পাওয়ার পরপরই চিঠির উত্তর দিতে কেএনএফ এর সুদক্ষ ১২ জনের একটি কমান্ডো স্কোয়াড "হেড-হান্টারস্ (Head-hunters)" কমান্ডোগণ বিলপাড়াতে যান। কেএনএফ আর্মিরা ভোর ৩ঃ১৫ মিনিটের দিকে পাড়াটিতে প্রবেশ করতেই অ্যাম্বুশের জন্যে উৎপেতে থাকা ডিউটিরত কেএনএফ কমান্ডোকে দেখে ফেলে এবং সাথে সাথে গুলিবর্ষণ শুরু করে। তারপর পরপরই দক্ষতার সাথে কুকি-চীন কমান্ডোরা যে যার মতো অবস্থান নেয় এবং প্রতিপক্ষ জেএসএস কমান্ডো ফোর্স (জেএলএ) দেরকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রামসহ ঘিরে ফেলে আর তুমূল সংঘর্ষের মাধ্যমে পুরো পাড়াটি নিয়ন্ত্রণে আনে। আর (জেএলএ) সন্ত্রাসীরা ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে বিভিন্ন ফন্দি এঁটে জনগণের সাথে মিশে গিয়ে গ্রামবাসী সেজে কয়েকজন গ্রাম থেকে অন্ধকারে বেরিয়ে যেতে সক্ষম হন। কেএনএফ কমান্ডোগণ বাকী ভেতরে থাকা সশস্ত্র গ্রুপদেরকে আক্রমণ করে। কয়েক ঘন্টার যুদ্ধে জেএলএ এর কোর্সের সিনিয়র প্রশিক্ষক রণকৌশল চাকমা (!) সহ তাদের ২০ জন ফোর্স গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান। আর গুলিবিদ্ধ বাকি ২০ জনের মতো আহতাবস্থায় পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। নিয়ন্ত্রণে আনার পর গ্রামে তল্লাশি চালিয়ে (জেএলএ) দের সামরিক সরঞ্জামাদি সহ অনেক কিছু পাওয়া গেছে।

বন্দুক যুদ্ধে জেএসএস’র খোয়া যাওয়া অস্ত্র, পরে যা কেএনএফ জব্দ করে নিজেদের হেফাজতে নেয়।

ঐদিন এভাবে কেএনএফ এর সুপ্রশিক্ষিত কমান্ডোরা সান্ত্রসীদের সফলভাবে দ্রুততম পর মধ্যে ঘায়েল এবং পরাস্ত করতে সক্ষম হন। কেএনএফ কমান্ডোগণের কেউ কোন রকমের হতাহত হয়নি। একটি গোপনসূত্রে জানা গেছে, আরো জেএলএ ফোর্সের কয়েকটি চাঁদা উত্তোলনকারী গ্রুপ থানচি ও রোয়াংছড়িতে এখনো অপারেটিভ আছে।’

এ ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে জড়িত একাধিক সূত্র এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছে, ‘সশস্ত্র উভয় দলের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা সত্য। এ ঘটনায় জেএসএস’র সামরিক কমান্ডার রণকৌশল চাকমা নিহত হওয়ার খবর তারাও শুনেছেন। তবে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে কোনো লাশ পাওয়া যায়নি।’

এদিকে, উভয় দলের পরস্পর বিরোধী দুটি বার্তাতেই বন্দুকযুদ্ধ ও হতাহতের ঘটনা স্বীকার করা হয়েছে।’

প্রসঙ্গত, ‘পার্বত্য চট্টগ্রামে আঞ্চলিক দলগুলোর মধ্যে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় হতাহত হলে দলগুলো তাদের নিজেদের হতাহত সদস্যদের গুম করে ফেলে। অনেক সময় লাশ গুম করার সুযোগ না পেলে লাশের দাবীও অস্বীকার করে থাকে।’
 

মন্তব্য করুন: