• রাঙামাটি

  •  বুধবার, ডিসেম্বর ৭, ২০২২

পার্বত্য চট্টগ্রাম

জাতিসংঘে অগাস্টিনার বানোয়াট তথ্য, ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি পাহাড়ের শান্তিকামী মানুষদের

 আপডেট: ১০:১৬, ৩ মে ২০২২

জাতিসংঘে অগাস্টিনার বানোয়াট তথ্য, ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি পাহাড়ের শান্তিকামী মানুষদের

খবরটি প্রতিবাদের। নিন্দার। ফেসবুকে চলছে সমালোচনা। সবাই বলছেন, শান্তিপূর্ণ সম্প্রীতির বাংলাদেশের সুন্দর পরিবেশ অশান্ত করার এ নতুন চক্রান্ত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এই মুহুর্তে সব ধর্মের, বর্ণের, জাতির অধিবাসীরা সমান অধিকার নিয়ে বসবাস করছেন। যা অনন্য নজির। 

ঠিক সেই মুহুর্তে পিসিজেএসএস ও বিতর্কিত আদিবাসী প্রতিনিধি হিসেবে সরকার ও সেনাবাহিনীর' বিরুদ্ধে জাতিসংঘের মত গুরুত্বপূর্ণ জায়গাতে ভুয়া তথ্য দিয়ে বিশ্বকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছেন অগাস্টিনা চাকমা নামের এক পেইড প্রতিনিধি। শুধু কী তাই? বিশ্ব প্রতিনিধিদের কাছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার ব্যর্থ চেষ্টাও ধরা পড়ে গেছে সবার কাছে। 

সবাই প্রশ্ন তুলেছেন, এই পেইড প্রতিনিধির এমন বক্তব্য দেওয়ার দুঃসাহস হলো কীভাবে? এটি নিশ্চিত সরকারের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র। শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা।

জানা গেছে, পার্বত্য চট্টগ্রাম জন সংহতি সমিতি (পিসিজেএসএস) প্রতিনিধি 'পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ' এর কাছে ক্ষমতা ও কার্যাবলী হস্তান্তর করার জন্য জাতিসংঘের ইউএনপি এফআইআই এর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

জাতিসংঘের স্থায়ী ফোরাম অফ ইনডিজেনাস ইস্যুস (ইউএনপিএফআইআই) এর ২১তম অধিবেশন গত ২৫ এপ্রিল থেকে শুরু হয়েছে। যা ৬ মে ২০২২ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরে চলমান থাকবে।

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরে ব্যক্তিগতভাবে এবং অনলাইনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে আহ্বান করা হচ্ছে। ফোরামের একুশতম অধিবেশনের থিম- ‘আদিবাসী জনগণ, ব্যবসা, স্বায়ত্তশাসন এবং বিনামূল্যে, পূর্ব ও অবহিত সম্মতি সহ যথাযথ পরিশ্রমের মানবাধিকার নীতি’- এবং আদিবাসী ভাষার আন্তর্জাতিক দশক ২০২২-২০৩২ এর শুরুর সাথে অধিবেশনটি ছিল।

অগাস্টিনা চাকমার পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে, পিসিজেএসএর-এর পক্ষে প্রীতি বিন্দু চাকমা এবং বাংলাদেশ আদিবাসী মহিলা নেটওয়ার্কের পক্ষে চঞ্চনা চাকমা, যথাক্রমে অনলাইন এবং ব্যক্তিগতভাবে স্থায়ী ফোরামের অধিবেশনে যোগ দিয়েছেন বলে জানা যায়।

এই কথা সবাই জানেন, ৩৮ হাজার নিরস্ত্র বাঙ্গালী হত্যাকারী ও পার্বত্য চুক্তির মৌলিক শর্ত লঙ্ঘনকারী কুখ্যাত সন্ত্রাসী খুনি সন্তু লারমার সংগঠন পিসিজেএসএস। আর তার বিতর্কিত আদিবাসী প্রতিনিধি অগাস্টিনা চাকমা। 

৩ মিনিট ১০ সেকেন্ড বক্তব্যে অগাস্টিনা চাকমা বলেন, আদিবাসী জুম্ম জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ এবং তিনটি পার্বত্য জেলা পরিষদের কাছে রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতা ও কার্যাবলী হস্তান্তর করা জরুরি।

পার্বত্য চট্টগ্রামের স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বছরের পর বছর রক্তক্ষয়ী সংর্ঘষের পর ৩ পার্বত্য জেলায় এখন পাহাড়ি বাঙালিদের ভেতর সম্প্রীতি বিরাজ করছে। ১৯৯৭ সালে ঐতিহাসিক পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তিটি বাংলাদেশ সরকার এবং পিসিজেএসএস এর মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছিল। 

অগাস্টিনা চাকমা সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিবন্ধকতা তৈরির যে কথা বলেছেন, বাস্তবে তা সত্যি নয়। কেননা এই বাহিনী পাহাড়ে চাকমা, মারমা, ত্রিপুরাদের সেবায় দিনরাত নিয়োজিত। তাদের সুখে দু:খে পাশে রয়েছে। বরং পিসিজেএসএসসহ বেশ কয়েকটি সংগঠনের কর্মীরা পাহাড়ে নানা রকম ষড়যন্ত্রমূলক কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। এর প্রমান সন্তু লারমার কথাতেও পাওয়া যায়।

২০১১ সালে বেসরকারি টিভি চ্যানেল ইন্ডিপেন্ডেন্ট এর সাংবাদিককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, আমরা সরকারকে সম্পূর্ণ অস্ত্র জমা দিইনি। এখনো আমাদের কয়েকশো সশস্ত্র সদস্য রয়েছে। আমরা কিছুটা শিথিল করেছি কিন্তু সম্পূর্ণ অস্ত্র জমা দিইনি।

সন্তু লারমা সরকারের দূর্বলতা ভেবে এখন সমগ্র পার্বত্য চট্টগ্রামকে নরকে পরিণত করেছে। এখনো চুক্তির পূর্বেকার মত অবৈধ অস্ত্রবাজি, হানাহানি, খুনাখুনি ও অরাজকতা দেখা যায়। সাধারণ পার্বত্যবাসী হতে সন্তু লারমার সংগঠনসহ আরো কয়েকটি সংগঠন জাতির অধিকারের দোহাই দিয়ে চাঁদা উত্তোলন করে খাচ্ছে। যা সরকার ও পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের সঙ্গে ভাঁওতাবাজি করার শামিল।  

অগাস্টিনা চাকমার দেশ বিরোধী এমন বক্তব্যে সরকারকে জোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন ৩ পার্বত্য অঞ্চলের শান্তিকামি মানুষেরা। কেউ কেউ বলেছেন, এখনই অগাস্টিনাদের মতো পেইড প্রতিনিধিদের লাগাম টেনে না ধরলে হয়তো ষড়যন্ত্রের জাল আরও বিস্তৃত হবে। তাই তিনিসহ তার মদদদাতাদের খুঁজে বের করার এখনই সময়।

মন্তব্য করুন: