• রাঙামাটি

  •  শুক্রবার, জুলাই ১, ২০২২

শিক্ষা

আন্তর্জাতিক বক্সিং প্রতিযোগিতায় প্রথম ঢাবির সুরো কৃষ্ণ

নিউজ ডেস্কঃ-

 প্রকাশিত: ১৫:১১, ২১ মে ২০২২

আন্তর্জাতিক বক্সিং প্রতিযোগিতায় প্রথম ঢাবির সুরো কৃষ্ণ

​​​​​​​দেশের প্রথম পেশাদার বক্সার হিসেবে এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে প্রথম হয়েছেন সুরো কৃষ্ণ চাকমা। ছবি: সংগৃহীত


‘সাউথ এশিয়ান প্রফেশনাল বক্সিং ফাইট নাইট- দ্য আল্টিমেট গ্লোরি’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক বক্সিং প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুরো কৃষ্ণ চাকমা। দেশের প্রথম পেশাদার বক্সার হিসেবে এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে প্রথম হয়েছেন সুরো কৃষ্ণ চাকমা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন এই শিক্ষার্থী ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষ ও জগন্নাথ হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ছিলেন। ২০১৮ সালে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি বক্সার আলী জ্যাকোর হাত ধরে পেশাদার জগতে যাত্রা শুরু হয়েছিল সুরো কৃষ্ণের।

গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর মিরপুরের শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ বক্সিং ফাউন্ডেশনের (বিবিএফ) আয়োজনে বাংলাদেশ, নেপাল ও ভারতের মোট ১৪ জন বক্সারের অংশগ্রহণে ‘সাউথ এশিয়ান প্রফেশনাল বক্সিং ফাইট নাইট- দ্য আল্টিমেট গ্লোরি’ প্রতিযোগিতাটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে ৪ চার রাউন্ডের খেলায় নেপালের মাহেন্দ্র বাহাদুর চান্দকে পরাজিত করে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে পেশাদার বক্সিং-এ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেন সুরো কৃষ্ণ চাকমা। 

এর মাধ্যমে বাংলাদেশও প্রফেশনাল বক্সিং জগতে প্রবেশ করল। এর মাধ্যমে মিলতে পারে বিশ্বের নামকরা সব বক্সিং প্রমোটারদের অধীনে কাজ করার সুযোগ। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ, খেলার মাঠ, জিমনেশিয়ামসহ হল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক বিষয় বর্তমান তাকে এই অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সুরো কৃষ্ণ। এই প্রতিযোগিতার জন্য তিনি নিজেকে প্রস্তুত করেছেন গত দুমাস ধরে। কঠোর পরিশ্রম, প্যাসন, ডিসিপ্লিন, খাবার, ট্রেনিংসহ একটা পূর্ণাঙ্গ প্যাকেজের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে তাকে। এগুলোর একটি অন্যটির অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং এটাকেই সাফল্যের পেছনের কারণ হিসেবে মনে করেন তিনি। 

অনুভূতি জানতে চাইলে সুরো কৃষ্ণ বলেন, প্রতিযোগিতার দুমাস আগ থেকে খুব ডিসিপ্লেনে চলতে হয়। সকালে উঠে দৌড়ানো, বিকেলে ফুটবল খেলা, নির্ধারিত খাদ্যাভাস ঠিক রাখতে হয়। আমি এগুলো চেষ্টা করেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে থাকতেও আমি এসব মেইনটেইন করতাম। সকালে উঠে দৌড়াতাম, বিকেলে হলের মাঠে ফুটবল খেলতাম, এভাবেই ফিটনেসটাকে ঠিক রাখতাম।

তিনি আরো বলেন, এর বাইরেও বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে গুলিস্তানে বক্সিং ফেডারেশন ছিলো সেখানেও হেঁটে যেতাম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জিমনেসিয়ামও আমাকে সাহায্য করেছে। পাঁচ বছর হলে ছিলাম, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ আমাকে বেশ ভালোই সাহায্য করেছে। এরকম মাঠ না থাকলে আমি ফিটনেসটাকে ধরে রাখতে পারতাম না। 

কৃষ্ণ চাকমার বক্সিং ক্যারিয়ারের শুরুটা হয় সপ্তম শ্রেণিতে থাকতেই। রাঙামাটির জুরাছড়ি উপজেলায় এই উদ্যমী ও মেধাবী শিক্ষার্থী ২০০৭ সালে বিকেএসপিতে কোচ আবু সুফিয়ান চিশতির অধীনে বক্সিং-এ ভর্তি হন। শুরু থেকে এখন পর্যন্ত তিনি প্রায় ১৫ জন কোচের অধীনে কাজ করেছেন।  

ছয় বছর কঠোর সাধনার পরে বক্সিং-এ ২০১৩ সালে বাংলাদেশ গেমসে গোল্ড মেডেল অর্জন করেন, ২০১৪ সালে দেশের মধ্যে ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়ন হন। নেপালে অনুষ্ঠিত ‘সাউথ এসিয়ান গেমস ২০১৯’- এ এমেচার বক্সিংয়ে ব্রোঞ্জ পদক পান। এছাড়াও ২০১৮ সালে ভারতের হরিয়ানা রাজ্যে দুটো খেলায় জয়লাভ করেন। তার নিজস্ব প্রথম আন্তর্জাতিক ইভেন্ট ছিল ২০১৪ সালের স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমস। এর বাইরেও ২০১৫ সালে দেশের মধ্যে সেরা বক্সার নির্বাচিত হয়ে লন্ডনে ছয়মাসের একটি ট্রেনিং করার সুযোগ পেয়েছেন।  

এতসব সাফল্যকে অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজে লাগিয়ে সামনের দিনগুলোতে দেশের জন্য কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন ঢাবির সাবেক এই শিক্ষার্থী।

মন্তব্য করুন: