• ২৭ জানুয়ারি ২০২২ ||

  • মাঘ ১৪ ১৪২৮

  • || ২২ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

ইত্যাদি

বুদ্ধিমত্তায় মানুষের কাছাকাছি অবস্থান কাকের

 প্রকাশিত: ১২:৫২, ১১ ডিসেম্বর ২০২১

বুদ্ধিমত্তায় মানুষের কাছাকাছি অবস্থান কাকের

কাক কর্ভিডি গোত্রের অন্তর্গত একজাতীয় পাখি। ছবি : সংগৃহীত


মানুষ নিজেকে বুদ্ধিমত্তার প্রাণী হিসেবে ভেবে এসেছে সবসময়। পাখিরা সবসময় পিছিয়ে থেকেছে সেই হিসেবে। অতটুকু মাথায় আর কতটাই বা বুদ্ধি থাকবে! তবে, এবার অবশ্য অন্যরকম কিছু ভাবছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের ভাবনা কাকের বুদ্ধিমত্তা নিয়ে। বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণে জানা গেছে, কাকের বুদ্ধি অতটাও কম নয় মানুষের চেয়ে।

কাক (ইংরেজি: Crow) কর্ভিডি গোত্রের অন্তর্গত একজাতীয় পাখি। উষ্ণমন্ডলীয় সব মহাদেশ (দক্ষিণ আমেরিকা ব্যতীত) এবং বেশ কিছু দ্বীপ অঞ্চলে কাকের বিস্তার রয়েছে। কাকের উদ্ভব ঘটেছে মধ্য এশিয়ায়। সেখান থেকে এটি উত্তর আমেরিকা, আফ্রিকা, ইউরোপ এবং অস্ট্রেলিয়া মহাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। বাংলায় কাক বলতে সাধারণত পাতিকাককে বোঝায়।

কাক কর্ভিডি গোত্রের অন্তর্গত একজাতীয় পাখি। ছবি : সংগৃহীত

কাককে পাখিজগতের সর্বাপেক্ষা বুদ্ধিমান পাখি বলে মনে করা হয়। শুধু তাই নয়, প্রাণীজগতের অন্যতম বুদ্ধিমান প্রাণী হিসেবে এদের গণ্য করা হয়। কাক যে ধূর্ত, তা আমরা জানি। তবে এর পাশাপাশিও মানুষকে চেনা, নতুন নতুন কৌশল শেখার মতো কিছু ইতিবাচক দিক আছে কাকের। আর এ ব্যাপারগুলো ভাবতে বাধ্য করেছে গবেষকদের।

কাকের বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কাজ করেন প্রাণী বিষয়ক গবেষক ম্যাকগোয়ান। ম্যাকগোয়ান বলেন, পাখি চেহারা চিনতে পারে, এমনকি কারো চেহারা দেখে ভয় পেতে পারে। এ ছাড়া, এদের মনে রাখার ক্ষমতা বা স্মৃতিশক্তিও রয়েছে। একেকজন মানুষ যে একেকরকম এবং তাদের সঙ্গে যে ভিন্ন ভিন্নভাবে ব্যবহার করা উচিত, এ নিয়ে এদের ভালো ধারণা রয়েছে।

কাক কর্ভিডি গোত্রের অন্তর্গত একজাতীয় পাখি। ছবি : সংগৃহীত

২০১৫ সালে বিহেভিয়রাল ইকোলজি এন্ড সোশিওবায়োলজি জার্নালে জানানো হয় যে, কাকেরা যাদের সঙ্গে আগে পরিচিত হয়েছে তাদের সঙ্গে পরবর্তী সময়ে যোগাযোগ করার সময় তুলনামূলকভাবে বেশি সহজ বোধ করে।

২০১৫ সালে প্রকাশিত আরেকটি জার্নাল অ্যানিমেল বিহেভিয়রে দেখানো হয় যে, নির্দিষ্ট একটি গবেষণায় একদল গবেষক মুখে মুখোশ পরে, কাকের মৃতদেহ নিয়ে ওয়াশিংটনের বিভিন্ন অংশে ঘুরে বেড়ান। পরবর্তী সময়ে একই মুখোশ পরে হাতে কোনো কাকের মৃতদেহ ছাড়া গেলেও এই গবেষক দলের উপরে আক্রমণ করে কাকেরা।

মানুষের পূর্ববর্তী বংশধর, বনমানুষদের মস্তিষ্কে একটি নির্দিষ্ট রকমের গঠন খুঁজে পাওয়া যায়। একে নিও-কর্টেক্স বলা হয়। এর মাধ্যমে উন্নত চিন্তা করা সম্ভব হয়। কিন্তু করভিড প্রজাতির মস্তিষ্কে এমন গঠন খুঁজে পাওয়া যায় না। তবে এই প্রজাতির মস্তিষ্কের যে গঠন, সেটিকেও খুব একটা কম বলা যায় না। এদের মস্তিষ্কের কিছু উল্লেখযোগ্য স্নায়ু রয়েছে, যেটি বেশ ভালোরকম মানসিক দক্ষতার প্রকাশ করে।

কাক কর্ভিডি গোত্রের অন্তর্গত একজাতীয় পাখি। ছবি : সংগৃহীত

কাকা খুব সহজে যেকোনো পরিবেশের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে। সমস্যা ও পরিবর্তন সামলে নিয়ে সমাধান খুঁজে বের করতে পারে। বিপদকে আগে থেকে টের পাওয়া বিশেষ ক্ষমতা রাখে কাক।

প্রাণীদের মধ্যে সবারই কম বেশি বুদ্ধিমত্তা রয়েছে। আর এই বুদ্ধিমত্তার তালিকায় সবচাইতে ওপরে আছে মানুষের নাম। ব্যাপারটা কিছুটা সত্যি। মানুষ অন্যান্য প্রাণীর চাইতে বেশি বুদ্ধিমত্তার চর্চা করে। তবে ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্রে কিছু প্রাণী মানুষের চাইতেও বেশি দক্ষতা প্রকাশ করে। মানুষ নিজের মস্তিষ্ককে বেশি ব্যবহার করছে, অন্যান্য প্রাণী কিছুটা কম। সবমিলিয়ে দেখা গেছে, বুদ্ধিমত্তায় মানুষের কাছাকাছি অবস্থান করছে কাক।

আলোকিত রাঙামাটি

মন্তব্য করুন: