• রাঙামাটি

  •  শুক্রবার, জুলাই ১, ২০২২

ইত্যাদি

কুমড়ো দিয়ে রূপকথার রাজ্য!

 আপডেট: ০০:০০, ৩০ নভেম্বর ১৯৯৯

কুমড়ো দিয়ে রূপকথার রাজ্য!

 শহরে নাকি সার্কাস দল এসেছে! তা আবার জার্মানির এক রূপকথার রাজ্যে। পাহাড়ের কোলঘেঁষা সবুজ ছোট্ট শহর কাইজারস্লটার্ন। সেখানকার কথাই বলছি। শহরের শেষ প্রান্তে এক বাগানের নাম গারটেনশাও। হেমন্তের নতুন ফসল ঘরে তোলার খুশিতে আমরা যেমন নবান্ন উৎসবে মেতে উঠি, ঠিক তেমনি জার্মানিতে সবাই মেতে ওঠে কুমড়ো উৎসবে। জার্মান ভাষায় এর নাম কুরবিস ফেস্টিভ্যাল।

জার্মানির কাইজারস্লটার্ন শহরে প্রতিবছরই সাজানো হয় রূপকথার কুমড়োরাজ্য। ১৫০ জাতের ৫০ হাজারেরও বেশি কুমড়ো দিয়ে সাজিয়ে তোলা হয় এই রূপকথার রাজ্য। বিভিন্ন আকৃতির মিষ্টিকুমড়োয় সাজানো হয় রূপকথার চরিত্রদের। 

শুধু জার্মানি নয়, মিষ্টি রোদের সোনালি হেমন্ত উৎসব আয়োজন করা হয় ইউরোপআমেরিকার বহু দেশে। কোথাও কোথাও ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত আবার একেবারে হ্যালোইনের আগের দিন পর্যন্ত চলে এই উৎসব।

সে কুমড়োরাজ্যের প্রবেশমুখে রং মেখে সঙ সেজে চাকা ঘুরিয়ে খেলা দেখাচ্ছিল। ভাবখানা এমন, যেন সে ডাকছে সবাইকে, খেলা দেখে যান বাবু। তার পরনে কমলারঙা কুমড়োর জামা আর হালকা সবুজ কুমড়োর পায়জামা আর মাথায় সবুজ টুপি।

পাথুরে পাহাড়ের দেয়াল ঘেঁষে সবুজ সমতলে উত্তুরে হাওয়ায় ঘুরে বেড়াচ্ছিল সার্কাস অন্য সবাই। কিছুদূর এগোতেই মেটে রঙা কুমড়োর পোশাকে লম্বা লাঠি হাতে প্রহরী। কুমড়োরাজ্যে কুমড়ো মেলায় ঘুরতে এসেছেন বড়ছোট সবাই। শুধু এই শহর নয়, আশপাশের শহর থেকে এসেছেন ছেলেবুড়ো সবাই।
প্রবেশপথে যাওয়ার পথেই নানা আকারের কুমড়ো প্রদর্শনী ছিল নান্দনিক সাজে সজ্জিত। পুতুল আর ফুলে পানির ফোয়ারার পাশে বিভিন্ন জাতের কুমড়োর চাষাবাদ, উৎপত্তি, প্রতীকী খামারের দৃশ্য ছিল মনোরম। 

পথের ধারে বিশাল বিশাল আকৃতির গোটা চারেক কুমড়ো রাখা। এদের কোনো কোনোটির ওজন ৫০০ কেজির কাছাকাছি। এদের বরং কুমড়ো না বলে মহাকুমড়ো বলা ভালো। চোখে না দেখলে এদের আকৃতি ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন!

আরও আছে সঙ মানব। মনে হলো তারা দুহাত তুলে ডাকছে সবাইকে নিজেদের কুমড়োরাজ্যে। এবারের কুমড়োরাজ্যের বিশেষ আকর্ষণ হলো সার্কাসের দলের নানা পরিবেশনা।  না না রক্তমাংসের মানুষের সার্কাস দল বলে আবার ভুল করবে না যেন। এরা সবাই কুমড়োমানব। কুমড়োর বাহারে যুক্ত হয়েছে নানা খেলা জাদুর ঝলক। পুরো কুমড়োরাজ্যে তাই সাজ সাজ রব পড়ে গেছে। দলেবলে লোকজন এসে জড়ো হয়েছে তাই দেখতে।

আলোকিত রাঙামাটি

মন্তব্য করুন: