• ২৭ জানুয়ারি ২০২২ ||

  • মাঘ ১৪ ১৪২৮

  • || ২২ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

পার্বত্য সাহিত্য

সৈয়দ শামসুল হকের ৮৭তম জন্মদিন আজ

 আপডেট: ১৮:১৮, ১৭ জানুয়ারি ২০২২

সৈয়দ শামসুল হকের ৮৭তম জন্মদিন আজ

তার জনপ্রিয় উপন্যাস ‘খেলারাম খেলে যা’


তাকে বলা হয় বাংলা সাহিত্যের সব্যাসাচী লেখক। তিনি একাধারে দাপিয়ে বেড়িয়েছেন উপন্যাস, গল্প, নাটক, প্রবন্ধ, অনুবাদ, চিত্রনাট্য, সংলাপ ও গীতি কবিতায়।

তার লেখকজীবন প্রায় ৬২ বছর। নিজেকে কবি পরিচয় দিতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেছেন। আজ ২৭ ডিসেম্বর।  ১৯৩৫ সালে এদিন কুড়িগ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।

সৈয়দ সিদ্দিক হুসাইন ও হালিমা খাতুন দম্পতির আট সন্তানের প্রথম সন্তান সৈয়দ শামসুল হক। বাবা সৈয়দ সিদ্দিক হুসাইন হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার ছিলেন। এক ছেলে ও এক মেয়ের গর্বিত বাবা সৈয়দ হক। তার স্ত্রী ডা. আনোয়ারা সৈয়দ হকও লেখালেখি করেন।

এই সুযোগে সৈয়দ শামসুল হকের কিছু বই পড়ে ফেলুন। মার্জিনে মন্তব্য- সৈয়দ শামসুল হক নিষিদ্ধ লোবান - সৈয়দ শামসুল হক নূরলদীনের সারাজীবন - সৈয়দ শামসুল হক খেলারাম খেলে যা - সৈয়দ শামসুল হক তিমির অবগুন্ঠনে - সৈয়দ শামসুল হক।

সৈয়দ হকের শিক্ষাজীবন শুরু হয় কুড়িগ্রাম মাইনর স্কুলে। সেখানে তিনি ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করেন। এরপর তিনি ভর্তি হন কুড়িগ্রাম হাই ইংলিশ স্কুলে। এরপর ১৯৫০ সালে গণিতে লেটার মার্কস নিয়ে ম্যাট্রিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।

পিতার ইচ্ছা ছিল, সৈয়দ শামসুল হককে ডাক্তারি পড়াবেন। পিতার এ দাবি এড়াতে ১৯৫১ সালে মুম্বাইয়ে পালিয়েছিলেন তিনি। পরে অবশ্য জগন্নাথ কলেজ থেকে পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হয়েছিলেন। পড়াশোনা অসমাপ্ত রেখে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেরিয়ে আসেন। সেই থেকে লেখালেখিকে তিনি একমাত্র ব্রত করে নিয়েছেন।

১৯৫৪ সালে প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘তাস’ প্রকাশের পর তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সাহিত্যাঙ্গনে স্থায়ী আসন করেন তিনি। এরপর একে একে প্রকাশিত হয় ‘শীত বিকেল’, ‘রক্তগোলাপ’, ‘আনন্দের মৃত্যু’, ‘প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান’, ‘জলেশ্বরীর গল্পগুলো’সহ তার বিচিত্র বিষয়ের গভীর জীবনঘনিষ্ঠ রচনা। 

১৯৫৯ সালে প্রকাশিত হয় তার প্রথম উপন্যাস ‘এক মহিলার ছবি’। প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘একদা এক রাজ্যে’ প্রকাশিত হয় ১৯৬১ সালে।

সৈয়দ হকের ভাষা আর আঙ্গিকের উজ্জ্বল নিরীক্ষার পরিচয় উৎকীর্ণ হয়ে আছে ‘বিরতিহীন উৎসব’, ‘অপর পুরুষ’, ‘বৈশাখে রচিত পঙ্ক্তিমালা’, ‘পরানের গহীন ভিতর’সহ বিভিন্ন কাব্যগ্রন্থে। 

তার গুরুত্বপূর্ণ উপন্যাসগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘নীল দংশন’, ‘খেলারাম খেলে যা’, ‘বৃষ্টি ও বিদ্রোহীগণ’, ‘তুমি সেই তরবারি’, ‘নিষিদ্ধ লোবান’। 

ছোটদের জন্য লেখা ‘সীমান্তে সিংহাসন’, ‘আবু বড় হয়’ ও ‘হাডসনের বন্ধু’ পেয়েছে বিপুল পাঠকপ্রিয়তা। তার অতুলনীয় কাব্যনাট্য ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’, ‘নূরলদীনের সারাজীবন’ ইত্যাদি। 

ম্যাকবেথসহ বিশ্বসাহিত্যের বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ রচনাও বাংলায় অনুবাদ করেছেন তিনি।

আলোকিত রাঙামাটি

মন্তব্য করুন: