• রাঙামাটি

  •  বুধবার, মে ২৫, ২০২২

পার্বত্য সাহিত্য

কথাসাহিত্যিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুদিন আজ

 প্রকাশিত: ১৬:৪৮, ৩ ডিসেম্বর ২০২১

কথাসাহিত্যিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুদিন আজ

প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আজ মৃত্যুদিন। ছবি : সংগৃহীত


পদ্মা নদীর মাঝি উপন্যাসে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছিলেন ‘ঈশ্বর থাকেন ঐ গ্রামে, ভদ্র পল্লীতে- এখানে তাহাকে খুঁজিয়া পাওয়া যাইবে না।’ দারিদ্র আর দুঃখ-শোকে কাটা কুবের, মালা আর কপিলাদের জীবন নিয়ে লেখা পদ্মাপারের সেই কেতুপুর গ্রামের বর্ননা দিয়েছিলেন তিনি।

সেই প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আজ মৃত্যুদিন। ১৯৫৬ সালের ৩ ডিসেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

১৯০৮ সালের ১৯ মে বিহারের সাঁওতাল পরগনা, বর্তমান ঝাড়খণ্ড রাজ্যের দুমকা শহরে তার জন্ম। তার পৈতৃক বাড়ি ঢাকার বিক্রমপুরে। বাবা হরিহর বন্দ্যোপাধ্যায় তার নাম দেন, প্রবোধকুমার। আর ডাকনাম মানিক। তার মায়ের নাম নীরদাসুন্দরী দেবী।

হরিহর বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন তদানীন্তন ঢাকা জেলার সেটেলমেন্ট বিভাগের সাব-রেজিস্টার। বাবার চাকরিসূত্রে মানিকের শৈশব-কৈশোর ও ছাত্রজীবন কাটে বাংলা-বিহার-ওড়িষার দুমকা, আরা, সাসারাম, কলকাতা, বারাসাত, বাঁকুড়া, তমলুক, কাঁথি, মহিষাদল, গুইগাদা, শালবনি, নন্দীগ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, টাঙ্গাইল প্রভৃতি শহরে।

১৯২৬ সালে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় মেদিনীপুর জেলা স্কুল থেকে প্রবেশিকা পরীক্ষায় এবং ১৯২৮ সালে বাঁকুড়া ওয়েসলিয় মিশন কলেজ থেকে আইএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজে গণিত বিষয়ে অনার্সে ভর্তি লেখাপড়া করেন তিনি।

কলেজ ক্যান্টিনে একদিন আড্ডা দেওয়া অবস্থায় এক বন্ধুর সঙ্গে মানিক বাজি ধরেন তিনি তার লেখা গল্প বিচিত্রায় ছাপাবেন। সে সময় কলকাতায় বিচিত্রা পত্রিকা ছিল অত্যন্ত বিখ্যাত এবং কেবল নামকরা লেখকেরাই তাতে লিখতেন। বন্ধুর সঙ্গে বাজি ধরে মানিক লিখে ফেললেন তার প্রথম গল্প ‘অতসী মামী’ এবং সেটি বিচিত্রার সম্পাদক বরাবর পাঠিয়ে দেন।

গল্পের শেষে নাম স্বাক্ষর করেন মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় হিসেবে। সম্পাদক উপেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায় লেখাটি পাঠানোর চার মাস পর বিচিত্রায় ছাপেন। প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই গল্পটি পাঠকপ্রিয়তা পায়। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় নামটি পরিচিত হয়ে ওঠে বাংলা সাহিত্যাঙ্গনে। এরপর থেকে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় লেখা পাঠাতে থাকেন মানিক।

সাহিত্যচর্চায় মনোনিবেশের ফলে তার একাডেমিক পড়াশোনার ব্যাপক ক্ষতি হয়। শেষাবধি শিক্ষাজীবনের ইতি ঘটে। সাহিত্য রচনাকেই তিনি তার মূলপেশা হিসেবে বেছে নেন। পত্রিকার সহসম্পাদক হিসেবে কাজ করেন। ১৯৩৯ সালে তিনি একটি প্রেস ও প্রকাশনা সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন যা কিছুদিনের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায় । ১৯৪৩ সালে মানিক কয়েক মাস একটি সরকারি পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।

১৯৩৮ সালে সুরেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়ের মেয়ে কমলা দেবীর সঙ্গে তার বিয়ে হয়। ১৯৪৪ সালে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগ দেন। এ সময় থেকে তার লেখায় কম্যুনিজমের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। ১৯৪৬ সালে প্রগতি লেখক সংঘের যুগ্ম-সম্পাদক নির্বাচিত হন।

১৯৪৬ সালে ভারতের দাঙ্গা-বিরোধী আন্দোলনে ভূমিকা রাখেন এবং ১৯৫৩ সালে প্রগতি লেখক ও শিল্পী সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন।

জীবনের শেষদিকে তীব্র আর্থিক কষ্টে ভুগেছেন তিনি। দীর্ঘদিন রোগভোগের পর ১৯৫৬ সালের ৩ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।

আলোকিত রাঙামাটি

মন্তব্য করুন: