• রাঙামাটি

  •  শুক্রবার, অক্টোবর ৭, ২০২২

লাইফস্টাইল

ক্যাফেইন আসক্তি দূর করুন

 আপডেট: ০০:০০, ৩০ নভেম্বর ১৯৯৯

ক্যাফেইন আসক্তি দূর করুন

দিনে ছয়-সাত কাপ কফি অনেকের রোজকার রুটিন।কিন্তু এই আসক্তির কারণ কি? অজান্তেই নিজের ক্ষতি করছেন না তো? জেনে নিন পুষ্টিবিদদের মতামত-

ঘুম থেকে উঠে এককাপ কফি শরীর সতেজ ও চাঙ্গা করে তোলে। নিমিষেই এনার্জি চলে আসে। সকালের ঘুম বা সারাদিনের ক্লান্তি দূর করতে এক কাপ কফিই যথেষ্ট! অনেকেরই ধারণা কফি মস্তিষ্কের তীক্ষ্ণতা এবং সতর্কতা বাড়াতে সাহায্য করে। এক কাপ কফিতে প্রায় ৬০-৭০ মিলিলিটার ক্যাফেইন থাকে। কিন্ত এটি যেমন উপকারে আসে তেমনি ক্ষতিও করে। অতিরিক্ত ক্যাফেইন পানে অ্যাংজাইটি, বিরক্তিভাব, রাগ, নিদ্রাহীনতা, জড়তা, প্যানিক অ্যাটাক ইত্যাদি বাড়িয়ে দেয়। এছাড়াও ক্যাফেইন মস্তিষ্কের স্বাভাবিক অবস্থায় বিঘ্ন ঘটায় বলে ‘ওয়েক-আপ-ইফেক্ট' দেখা দেয়। মস্তিষ্কের অ্যাড্রিনালিন হরমোনের লেভেল বাড়িয়ে দেয় বলে এমন অবস্থা দেখা দেয়। এ সকল কারণে কফির প্রতি ভালোবাসা ধীরে ধীরে আসক্তিতে পরিণত হয়। যত দিন যায় ততই কফির পরিমাণ বাড়তে থাকে। প্রতিদিনের চাহিদা পূরণ না হলে শরীরে ঝিমঝিম ভাব, মাথাধরা, মাথা ব্যাথা, চোখের চারপাশে ব্যাথা, দূর্বলতা অনুভব হয়।

১.ক্যাফেইন আসক্তি দূর করুন

অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণের ফলে শরীরের ওজন বৃদ্ধি পেতে পারে। কারণ অধিক ক্যাফেইন কার্টিসল নামক হরমোনের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। কার্টিসল শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণের সহায়তা করলেও এর হরমোন ওজন বৃদ্ধির জন্য দায়ী। গর্ভাবস্থায় ক্যাফেইন জাতীয় খাদ্যদ্রব্য এড়িয়ে চলা উচিত। তবে ২০০ গ্রাম কফি গর্ভবতী নারীর জন্য ক্ষতিকর নয়। কফি ছাড়াও প্রকৃতিতে আরো ৬০টি উদ্ভিদের মধ্যে ক্যাফেইন পাওয়া যায়। এর মধ্যে আছে কোকোয়া বিন, যা চকলেট তৈরির মূল উপাদান। প্রতিদিন কয় কাপ কফি ও কফির পুরো খরচ হিসাব করলেই পেয়ে যাবেন কতটা ক্যাফেইন আসক্ত। যদি প্রতিদিন ২ কাপের বেশি কফি পান না করেন তবে এটি সীমিত। কিন্তু যদি এর মাত্রা আরো বেশি হয় তবে বিপদে রয়েছেন। এই আসক্তি কফি খাওয়ার পরিমাণের পাশাপাশি বয়স, লিঙ্গ, কফির প্রতি সেনসিটিভিটি ইত্যাদিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

কিভাবে ক্যাফেইন আসক্তি কমাবেন?

এই মূহুর্তে যারা লেখা পড়ে ভাবছেন যে তিনি বিপদজনক অবস্থায় রয়েছেন তাদের জন্য ডায়েট একমাত্র ভরসা। এছাড়াও অভ্যাসের কিছু পরিবর্তন প্রয়োজন।

১) ক্যাফেইন জাতীয় পানীয় পানের বদলে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে। দিনে ৬-৮ গ্লাস পানি খাওয়ার চেষ্টা করতে হবে।

২) কফির বিভিন্ন সাবস্টিটিউট খেতে পারেন। হারবাল টি (গ্রিন টি, লেমন টি, আদার চা, তুলসি চা), ব্ল্যাক টি (এতে ক্যাফেইনের পরিমাণ কফির চেয়ে কম) খেতে পারেন।

৩) রেগুলার ডায়েট করুন। অ্যালকাইল ডায়েট খাওয়ার চেষ্টা করুন। সেদ্ধ সবজি, বেশি পরিামাণ সালাদ, স্যুপ, ফ্রেশ কর্ন, হোল গ্রেইন, সয়া প্রোডাক্ট, বাদাম, তাজা ফল, কিশমিশ, তিল ইত্যাদি ডায়েটে বেশি করে রাখুন। মাংস, চিনি, ময়দা জাতীয় খাদ্যের পরিমাণ কমাতে হবে।

৪) ভিটামিন এবং খনিজ লবণের যেন ঘাটতি না হয়। ভিটামিন বি, সি বেশি করে খাবেন। এগুলো এনার্জি জোগাবে ও শরীর সুস্থ রাখতে সহায়তা করবে।

৫) কফি পানের বদলে তাজা ফলের রস খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে।

আলোকিত রাঙামাটি

মন্তব্য করুন: