• রাঙামাটি

  •  শুক্রবার, অক্টোবর ৭, ২০২২

জাতীয়

উপকূলীয় ৭ উপজেলার উন্নয়নে মহাপ্রকল্প

নিউজ ডেস্কঃ-

 প্রকাশিত: ১৭:১০, ১৫ আগস্ট ২০২২

উপকূলীয় ৭ উপজেলার উন্নয়নে মহাপ্রকল্প

দেশের উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালী ও বরগুনার ৭ উপজেলা নিয়ে পরিবেশ ও পর্যটনভিত্তিক সমন্বিত মহাপ্রকল্প প্রণয়ন করেছে সরকার। এর আওতায় এসব এলাকার উন্নয়নমূলক কাজ হবে। এতে থাকছে সুনির্দিষ্টভাবে অবকাঠামোগত পরিকল্পনা এবং পরিবেশ ও প্রতিবেশ সমুন্নত রাখার বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা।

পরিকল্পা অনুযায়ী এ এলাকায় পর্যটন হাব তৈরি হবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। এজন্য ‘পায়রা বন্দর নগরী ও কুয়াকাটা উপকূলীয় অঞ্চলের পরিবেশ-পর্যটনভিত্তিক সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন’ নামে প্রকল্পটি হাতে নিয়েছে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের নগর উন্নয়ন অধিদফতর।

উন্নয়ন প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে- পায়রা তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র, পায়রা সমুদ্র বন্দর, সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশন, বানৌজা শের ই বাংলা নৌ ঘাঁটি, আলীপুর মহিপুর ফিস ল্যান্ডিং স্টেশন, কুয়াকাটাসহ বেশকিছু পর্যটন কেন্দ্র এবং মেগা প্রকল্প।

সম্প্রতি এ নিয়ে প্রকল্প এলাকার ৭ উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দিনব্যাপী কর্মশালাও অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রকল্প এলাকার জিওলজি ও হাইড্রোলজি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, পরিবহন, প্রকল্প এলাকার কৃষি-বন-পরিবেশ সংক্রান্ত প্রতিবেদন এবং উপজেলাভিত্তিক স্ট্রাকচার প্ল্যান ও আরবান এরিয়ার খসড়া প্ল্যান উপস্থাপন করা হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এ প্রকল্পের মাধ্যমে সবকিছু নির্ধারণ করা থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে- কোন স্থান পর্যটনের জন্য ভালো হবে, কোথায় আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে, কোথায় মাছের বাজার হবে, পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় কোথায় বনায়ন সৃষ্টি করতে হবে, কোথায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা হবে। এছাড়া কোন স্থানে ভারী শিল্প, কোন স্থানে মাঝারি শিল্প নির্মাণ করা সম্ভব এবং এগুলো কীভাবে ফলপ্রসূ হবে- সেসব বিষয়ে বিস্তারিত বিবরণ থাকবে। পাশাপাশি এ এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পর্কেও এ পরিকল্পনায় নির্দেশনা থাকছে।

কুয়াকাটা ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রুম্মান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, এখানে আগত পর্যটকরা ১-২ দিন থেকে এরপর আর কোথাও যাওয়ার সুযোগ পান না। তবে এ প্রকল্পে যে পরিকল্পনা রাখা হয়েছে, তাতে পূর্বদিকের সোনারচর থেকে পশ্চিমের হরিণঘাটা পর্যন্ত পর্যটকরা ঘুরতে পারবেন। ফলে কুয়াকাটা একটি সমৃদ্ধ পর্যটন এলাকা হিসেবে পর্যটকদের কাছে সমাদৃত হবে।

প্রকল্পের বিষয়ে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মো. আমিন উল আহসান বলেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী এসব উন্নয়ন কাজ শেষ হলে পুরো দক্ষিণ এলাকায় পর্যটন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন দিগন্তের সূচনা হবে। এখানকার পরিবেশ-প্রতিবেশসহ মানুষের জীবন জীবিকা সবকিছুই ঠিক থাকবে। কোনো সেক্টরের কারণে কোনো সেক্টর ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। এ পরিকল্পনা প্রণয়নে সরকারের ৪০টি সংস্থার বাস্তবায়নকৃত প্রকল্প সমূহের তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণসহ জিআইএস ডাটাবেজে তা চিহ্নিত করা হয়েছে।

পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক মোহম্মদ কামাল হোসেন বলেন, পদ্মাসেতুর কারণে ঢাকাসহ সারাদেশের সঙ্গে কুয়াকাটার এখন নিরবচ্ছিন্ন সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হয়েছে। ফলে কুয়াকাটায় পর্যটকদের উপস্থিতি অগের থেকে অনেক বাড়ছে। তবে ৭ উপজেলা নিয়ে যে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এর ফলে এখানকার পর্যটন ও ব্যবসা-বাণিজ্য হবে পরিকল্পিত। এতে দেশি-বিদেশি ব্যবসায়ীরাও এখানে বিনিয়োগে আগ্রহী হবেন।

মন্তব্য করুন: