• রাঙামাটি

  •  বৃহস্পতিবার, মে ২৬, ২০২২

সংগঠন সংবাদ

বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্বমানের উন্নীত করতে বদ্ধপরিকর: ড. সৌমিত্র শেখর

 প্রকাশিত: ১৭:১৫, ২ এপ্রিল ২০২২

বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্বমানের উন্নীত করতে বদ্ধপরিকর: ড. সৌমিত্র শেখর

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ষষ্ঠতম উপাচার্য অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখর।


জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ষষ্ঠতম উপাচার্য অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখর। ২০২১ সালের ১৯ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে যোগদান করেছেন। তার মুখোমুখি হয়েছিলেন আহসান হাবীব

উপাচার্য হওয়ার অনুভূতি... 
-অনুভূতি প্রকাশযোগ্য নয় বলে মনে হয়। ২০০৬ সালে চারটি বিভাগ নিয়ে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়। তখন জেনে খুব আনন্দিত হয়েছিলাম। এখানে উপাচার্য হিসেবে আসা হবে কখনো ভাবিনি। উপাচার্য একটি দায়িত্ব অনুভব করছি যেনো বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্বমানের গড়ে তোলা যায়। মূল কথা হচ্ছে ‘বেটারমেন্ট অব এডুকেশন’। এই বেটারমেন্টের জন্য সবার মতামত নিয়ে আমাদের যা করণীয়, সেটি করতে চাই।

প্রত্যাশা কী ছিলো?
-আমি বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের মানুষ। ত্রিশাল আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতিধন্য জায়গা। তিনি এই অঞ্চলে এসেছিলেন। তাই এখানে তার নামে একটি বিশ্ববিদ্যালয় হোক যেমন স্বপ্ন ছিলো, তেমনই প্রত্যাশা ছিলো এটি আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয় হোক।
 
ইনস্টিটিউট অব নজরুল স্টাডিজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে সামগ্রিক গবেষণার পরিবেশ নিয়ে কী ভাবছেন? 
-গবেষণা সবক্ষেত্রেই বৃদ্ধি করতে হবে। গবেষণা ক্ষেত্র অবারিত ও উন্মুক্ত করতে চাই। প্রথম কাজটি হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শক্তিশালী একটি ওয়েবসাইট তৈরি করা। যারা গবেষণা করবেন তারা শুধু বরাদ্দ নেবেন, গবেষণা করবেন, নিজের কাছে রাখবেন; এমনটি যেন না হয়। গবেষণার অ্যাবস্ট্র্যাক্টটি আমাদের রিসার্চ সেল যেটি আমরা গঠন করবো, সেখানে জমা দেবেন। সেটি আমাদের ওয়েবসাইটে দেব যাতে বিশ্বের যে কেউ আমাদের ওয়েবসাইটে ঢুকে গবেষণাগুলো দেখতে পারেন। এটি পড়ে যদি কারো আগ্রহ জন্মে এ গবেষণাটি তার কাজে লাগবে, তাহলে আমাদের রিসার্চ সেলে যোগাযোগ করে নিতে পারবেন। আমরা মনে করি আমাদের গবেষণা শুধুই আমাদের গবেষণা নয় এটি বিশ্ব জ্ঞানভাণ্ডারের অনুষঙ্গ। আমরা শুধু জ্ঞান নেব না, বিশ্বে জ্ঞান বিতরণও করব। ‘দিবে আর নিবে, মিলাবে মিলিবে, যাবে না ফিরে’ এটিই আমাদের প্রতিবাদ্য।

গবেষণার নকল এড়াতে কী কী পদক্ষেপ নেবেন? 
-গবেষণায় চৌর্যবৃত্তি এড়াতে আমাদের রিসার্চ সেল অত্যন্ত শক্ত অবস্থানে থাকবে। ওয়েবসাইটসহ অন্যান্য প্রযুক্তি থাকবে যেখানে দেখা যাবে গবেষণায় কোনো চৌযবৃত্তি হয়েছে কি না। অর্থাৎ আমাদের গবেষণাগুলোকে মৌলিক করতে সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নেয়া হবে। 

সেশনজট এড়াতে কী পদক্ষেপ নেবেন? 
-‘খ’ হচ্ছে গবেষণা, ‘ক’ হচ্ছে সেশনজট। অর্থাৎ দুটিই আমার এক নম্বর পদক্ষেপ হিসেবে থাকবে। ছয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলাম। অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, এ সমস্যাটি খুব দ্রুতই সমাধান করতে পারব। 

নতুন বিভাগ খোলার বিষয়ে কি কোনো ভাবনা আছে?
-নিশ্চয়ই। কারণ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিকাশ, পাশাপাশি বিজ্ঞানমনস্কতার বিকাশ এগুলো একটি সমাজের অগ্রগতির সবচেয়ে বড় নিয়ামক। বিজ্ঞান শিক্ষার প্রতি বর্তমান সরকারেরও প্রচুর আগ্রহ আছে। এ দিকটি অবশ্যই মনে রাখব। আর সবকিছু নির্ভর করবে পরিবেশের ওপর।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিধি বৃদ্ধিতে কোনো পরিকল্পনা...
-এই অঞ্চলের ভূ প্রকৃতি খুব ভালোভাবে জানা আছে। সরকারের সুদৃষ্টি পেলে এখানে টুইন ক্যাম্পাস (যমজ ক্যাম্পাস) তৈরি করা যেতে পারে। এই ধারণা শান্তিনিকেতন থেকে এসেছে। শান্তিনিকেতনের ক্যাম্পাসটি করেছেন রবীন্দ্রনাথের পিতা। রবীন্দ্রনাথ করেছেন শ্রীনিকেতন। আমরা যদি এমন চমৎকার একটি স্বপ্ন নিয়ে এগোতে পারি, তাহলে আমাদের সম্ভাবনা আছে। 

একাডেমিক গতি ত্বরান্বিত করতে পরিকল্পনা কী? 
-এরই মধ্যেই একাডেমিক ক্যালেন্ডার করেছি। আমাদের অবশ্যই বিস্তর পরিকল্পনা আছে। এ কাজটি আমাদের করতেই হবে টুডে অর টুমরো। যদি টুমরো হয়ে থাকে, তাহলে হোয়াই নট টুডে? 

বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিতে সামগ্রিক ভাবনা কী?
-এরই মধ্যেই আমার বক্তব্যে অনেকটা পরিষ্কার হয়েছে। আমি বলেছি আমাকে যদি একটা শান্তিপূর্ণ ক্যাম্পাস উপহার দিতে পারেন, তাহলে দুই বছরের মধ্যে এ বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্বমানে উন্নীত করতে বদ্ধপরিকর। নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় চলবে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন দ্বারা, অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন দ্বারা নয়। তাই অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে কে কী করলেন, সেটি মনে করে আমরা চিন্তা না করি আমরা চাই আমাদের গতিতে এগিয়ে যেতে।

গুচ্ছভুক্ত ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান কী হবে? 
-গুচ্ছভুক্ত ভর্তি পরীক্ষার বিষয়টি আমরা একক সিদ্ধান্ত নিতে পারি না। গুচ্ছভুক্ত ২০টি বিশ্ববিদ্যালয় মিলে একটি সভা হয়েছে। সেখানে ১৯টি বিশ্ববিদ্যালয় এই পদ্ধতিতে থাকার পক্ষে। আমরাও মত দিয়েছি। 

বিশ্ববিদ্যালয়ে র‌্যাগিং ও নির্যাতন বন্ধে পদক্ষেপ কী? 
-র‌্যাগিংয়ের ব্যাপারে আমাদের প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি পালন করছে। এরই মধ্যে সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনায় আমাদের সিদ্ধান্ত দেখেছেন। আমরা যাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি, তাদের অভিভাবকদেরও ডেকে ডেকে চা-কফির দাওয়াত দিচ্ছি। তাদের সঙ্গে কথা বলছি। আমরা র‌্যাগিং ও ড্রাগ এ ব্যাপারে সতর্ক এবং শক্ত অবস্থানে আছি। 

কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার আধুনিকীকরণ করা কতটুকু সম্ভব হয়েছে? 
-আমি এসেই গ্রন্থাগারে অনেক সংকট দেখেছি। তবে সবচেয়ে বড় সংকট হলো ‘পাঠক সংকট’। এক্ষেত্রে কী কী পরিকল্পনা গ্রহণ করলে বেশি বেশি পাঠক আসবে, সেটি নিয়ে চিন্তা করছি। আমরা বার্ষিক সেরা পাঠক নির্বাচন করে পুরস্কৃত করব। তাছাড়া আধুনিকীকরণের অগ্রগতি চলমান। আশা করি, শিগগিরই একটি সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার হবে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার।  

পরিবহন সংকট নিরসনে আপনার ভাবনা কী? 
- বিশ্ববিদ্যালয়ে আসলে তেমন পরিবহন সংকট নেই। তবে হয়তো কোনো একটি নির্দিষ্ট সময়ে একসঙ্গে বেশি শিক্ষার্থী শহরে যাচ্ছে কিংবা আসছে। এ কারণে এমনটি মনে হচ্ছে। এই বিষয়ে আমরা অবগত এবং এরই মধ্যে নতুন পরিবহন সংযোজনের উদ্যোগ নিয়েছি। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিতের বিষয়ে ভেবেছেন কী? 
-আমি এখানে এসেছি সবে তিনমাস হয়েছে। নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বপ্রথম ভেবেছি। এরই মধ্যেই সীমানা প্রাচীরের নির্মাণকাজ শুরুর অপেক্ষায় আছি।

বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রযুক্তিগতভাবে এগিয়ে নিতে কী ভাবছেন? 
-আমরা প্রস্তুতি নিয়েছি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি শক্তিশালী ওয়েবসাইট বানাব। এছাড়া ‘লালফিতার দৌরাত্ম্য’ যেন না থাকে, ই-ফাইলিংয়ের ব্যবস্থা করা যায় কি না এ বিষয়টিও ভাবছি।

মন্তব্য করুন: