• রাঙামাটি

  •  শনিবার, জানুয়ারি ২৯, ২০২২

রাঙ্গামাটি

জুরাছড়িতে সেতু আছে সড়ক নেই, চলাচল দুর্ভোগে স্থানীয়রা

 প্রকাশিত: ১৭:০৪, ২৯ নভেম্বর ২০২১

জুরাছড়িতে সেতু আছে সড়ক নেই, চলাচল দুর্ভোগে স্থানীয়রা

রাঙামাটি জুরাছড়ি উপজেলায় সীতারাম পাড়া হতে লুলাংছড়ি তিনটি সেতুর সংযোগ সড়ক না থাকায় চলাচলে দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে স্থানীয়দের। এসব সেতু চার বছর আগে নির্মিত হলেও সড়ক নির্মাণের কোন উদ্যোগ নেই উপজেলা প্রকৌশলীর। ২০১৭ সালে সেতুগুলো নির্মাণ করা হলেও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান সেতুর গাইড দেয়ালে মাটি ভরাট না করে সব বিল উত্তোলন করে নেয়। 

পরে স্থানীয়রা স্বেচ্ছায় মাটি ভরাট করে কোন রকমে চলাচলের উপযোগী করে। আর একটাতে দেওয়া হয়েছে সাঁকো। চার বছর ধরে সেই সাঁকো  ​ও জরাজীর্ণ রাস্তা দিয়েই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে তিন ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষ।

উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্পের (আরআইডিপি-১) আওতায় জুরাছড়ি ইউনিয়নের মিতিংগাছড়ি-লুলাংছড়ি সংযোগ রাস্তা উন্নয়নে তিনটি সেতু নির্মিত করা হয়। রাস্তার পূর্বে প্রথমটি ২২ ফুট, দ্বিতীয়টি ১৮ ফুট, তৃতীয়টি ১৬ ফুট। তিনটি সেতু নির্মাণে প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যয়িত হয়।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, জমির মধ্যে নির্মাণাধীন সেতুগুলো দাড়িয়ে আছে। সেতুর দুই দিকে নেই কোন সংযোগ সড়ক। একটি সেতুতে এক পাশে মই রাখা। পথচারীরা মই বেয়ে সে সেতুতে ওঠেন। সীতারাম পাড়া হতে লুলাংছড়ি সংযোগ রাস্তা দীর্ঘদিন থেকে সংস্কার বা পুনঃনির্মাণের উদ্যোগ না নেওয়াই রাস্তাটি নাজুক হয়ে পরেছে। ভাঙা রাস্তায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে যাত্রীদের। বিশেষ করে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের। বেহাল রাস্তা দিয়ে যাতায়াতে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের। প্রতিনিয়ত চরম ভোগান্তি আর ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন এই দুই এলাকার মানুষ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সীতারাম পাড়া হতে লুলাংছড়ি সংযোগ রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন শত শত মানুষ চলাফেরাসহ যানবাহন যাতায়াত করে। এই রাস্তা দিয়ে উপজেলার জুরাছড়ি, মৈদং ও দুমদুম্যা ইউনিয়নের যাতায়তের একমাত্র ভরসা।

স্থানীয় কার্বারী জ্ঞানেশ্বর চাকমা বলেন, এত টাকা দিয়ে সেতু নির্মিত হলো, কিন্তু চার বছরেও রাস্তা হলো না।

স্থানীয় ওয়ার্ড সদস্য কিরণ কুমার চাকমা বলেন, স্থানীয়রা ম্বেচ্ছাশ্রমে সেতুগুলোর দু-পাশে কোন রকমে কাচা রাস্তা তৈরী করেছে। এই রাস্তায় ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন ও মানুষ চলাফেরা করে।

উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ মতিউর রহমান বলেন, এই রাস্তাটি জনবান্ধন রাস্তা। সড়কটি নির্মাণে কতৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।

উপজেলা চেয়ারম্যান সুরেশ কুমার চাকমা বলেন, সংক্ষিপ্ত বরাদ্দের কারণে সড়কটি নির্মাণে উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। সড়কটি তিন ইউনিয়নের একমাত্র সড়ক। সুতরাং সড়ক নির্মাণে পার্বত্য উন্নয়ন বোর্ড ও রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের এগিয়ে আসার অনুরোধ জানান তিনি।

আলোকিত রাঙামাটি

মন্তব্য করুন: