• ২৭ জানুয়ারি ২০২২ ||

  • মাঘ ১৪ ১৪২৮

  • || ২২ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

রাঙ্গামাটি

কাপ্তাইয়ে ১৭ মুক্তিযোদ্ধার হাতের ছাপ খচিত “মুক্তিসোপান”

 প্রকাশিত: ১১:৪৪, ২৪ ডিসেম্বর ২০২১

কাপ্তাইয়ে ১৭ মুক্তিযোদ্ধার হাতের ছাপ খচিত “মুক্তিসোপান”

কাপ্তাইয়ে নির্মিত মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভের সামনে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে নিয়ে কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনতাসির জাহান ও কাপ্তাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ নাসির উদ্দীন।


মুক্তিযুদ্ধকালীন বাঙ্গালি জাতির অর্জনকে তুলে ধরার প্রয়াসে দেশের বিভিন্ন স্থানে নির্মিত হয়েছে নানান স্থাপনা। কিন্তু কাপ্তাই উপজেলায় এই প্রথমবারের মতো মহান মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লক্ষ শহীদ ও ২ লক্ষ সম্ভ্রম হারানো নারীদের ত্যাগের মর্যাদা ধরে রাখার উদ্দেশ্যে কাপ্তাইয়ে নির্মিত হলো মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ “মুক্তিসোপান”।

এতে ১৭ জন জীবিত বীর মুক্তিযোদ্ধার হাতের ছাপ খচিত রয়েছে। সম্মুখভাগে রয়েছে বঙ্গোপসাগরের তীরে নদীমাতৃক বাংলাদেশের মানচিত্র। মনুমেন্টের বামপাশে রয়েছে ১১টি তারকা, যা দ্বারা মুক্তিযুদ্ধের ১১টি সেক্টরকে বুঝানো হয়েছে। তার নিচে যুদ্ধকালীন মুক্তিযোদ্ধাদের জেগে উঠার বার্তা “সদা জাগ্রত বাংলার মুক্তিবাহিনী” খচিত রয়েছে। মনুমেন্টের ঠিক উপরে স্টেইনলেস স্টিলের তৈরি আকৃতি, যেটি বেয়নেটের সুচালোভাগ বুঝানো হয়েছে।

কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনতাসির জাহানের ঐকান্তিক পরিকল্পনা ও উদ্যোগের ফসল এই মুক্তিসোপান। সরকারের দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অর্থায়নে টি আর প্রকল্প থেকে কাপ্তাই থানা সংলগ্ন নির্মাণাধীন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের পাশেই নির্মিত হয়েছে এই স্তম্ভ।

এ প্রসঙ্গে ইউএনও বলেন, এই স্মৃতিস্তম্ভের সাথে জড়িয়ে আছে আমার আবেগ ও দেশের প্রতি মায়া। এই উপজেলায় এ রকম কোনো স্থাপনা নেই। তাই যোগদানের পর থেকেই ইচ্ছা পোষণ করেছিলাম, একটা স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি করবো। যার ফসল আজকের এই “মুক্তিসোপান”।

গত ২০ ডিসেম্বর রাঙামাটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান এই মুক্তিসোপানের উদ্বোধন করেন। 

এ সময় প্রশাসনিক কর্মকর্তা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, জনপ্রতিনিধি এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

কাপ্তাই উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শাহাদাত হোসেন চৌধুরী জানান, আমরা মুক্তিযোদ্ধারা আজকে অনেক খুশি, দীর্ঘদিন পরে হলেও এরকম একটা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পরবর্তী প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরার ক্ষেত্রে মুক্তিসোপান ভূমিকা রাখবে বলে আমি মনে করি।

কাপ্তাইয়ের প্রবীন মুক্তিযোদ্ধা মোঃ রেফাত উল্লাহ তার আবেগ প্রকাশ করে বলেন, আমরা সেদিন জীবনের মায়া ত্যাগ করে বঙ্গবন্ধুর ডাকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম। আজ কাপ্তাইয়ে এই স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের মাধ্যমে কাপ্তাই উপজেলা প্রশাসন দেশের সূর্য্য সন্তানদের সম্মান জানিয়েছেন। 

কাপ্তাই উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সাধারণ সম্পাদক এ আর লিমন জানান, প্রথমবারের মতো কাপ্তাইয়ে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ নির্মিত হয়েছে। একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসাবে নিজেকে গৌরবান্বিত মনে করছি। কাপ্তাই উপজেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগকে আমি সাধুবাদ জানাই।

কাপ্তাই উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় টি আর প্রকল্প হতে এই স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছে। যার মাধ্যমে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানতে পারবে।

আলোকিত রাঙামাটি

মন্তব্য করুন: