• ২৭ জানুয়ারি ২০২২ ||

  • মাঘ ১৪ ১৪২৮

  • || ২২ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

রাঙ্গামাটি

সাহসী সেই তিন চালকের খোঁজ নিয়ে পাশে দাড়ালেন বিজিবি জোন কমান্ডার

 প্রকাশিত: ১৫:৩৩, ২৬ ডিসেম্বর ২০২১

সাহসী সেই তিন চালকের খোঁজ নিয়ে পাশে দাড়ালেন বিজিবি জোন কমান্ডার

ওমর ফারুক সুমন, বাঘাইছড়ি প্রতিনিধিঃ- মনে আছে ভয়াল সেই ১৮ই মার্চ ২০১৯ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের কথা? ভোট গ্রহণ শেষে ভোটের বাক্স নিয়ে ক্লান্ত শরীরে সাজেক কংলাক, মাচালং, বাগাইহাট কেন্দ্র থেকে চাঁদের গাড়ী করে ফিরছিলেন উপজেলা সদরে। ৯ কিলোমিটার এলাকায় আসতেই আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা ঘাতকদের কমপক্ষে ৫টি সক্রিয় সংগঠনের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা একে-৪৭ রাইফেল গর্জে উঠেছিলো নিরপরাধ সাধারণ মানুষকে বহণকারী তিনটি চাঁদের গাড়ীর দিকে। কিছু বোঝে উঠার আগেই সারাদিনের ক্ষুধার্ত ক্লান্ত নিরপরাধ মানুষগুলো বুলেটের আঘাতে ঝাঁজরা হয়েছিলো। দুই প্রিজাইডিং অফিসার সহ ৭ জন নিহত এবং আনসার, ভিডিপি, পুলিশ সহ ৩৩ জন মানুষ গুলিবিদ্ধ হয়ে মারাত্মকভাবে আহত হয়েছিলো। তাদের অনেকেই এখনো পঙ্গুত্ব কষ্ট আর যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে আছেন।

অতর্কিত হামলার পর নিজের ঘাড়ে ও শরীরে গুলি খেয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় পাহাড়ি সড়কের ৯ মাইল পথ গাড়ি চালিয়ে উপজেলা সদর হাসপাতালে পৌঁছে দিয়েছিলেন তিন যুবক। চাঁদের গাড়ীর চালক ইসমাইল, আল-আমীন ও রুবেল। সংবাদ কর্মী বা সম্মুখ সারির কর্মী হিসেবে সেদিন একদম শুরুতেই উপস্থিত হয়েছিলাম হাসপাতালে রক্তাক্ত মানুষের আর্তনাদের ভিড়ে আমার চোখ আটকে গিয়েছিলো গাড়ীর চালকের আসনে বসা তিন অদম্য সাহসী মানুষগুলোর দিকে। চরম ঝুঁকি ও বিপদের সময়ও নিজ দায়িত্ব ও কর্তব্য থেকে একবিন্দুত পিছপা না হয়ে ধীরতার সহিত সব মানুষকে হাসপাতালে পৌঁছে দিয়েছিলেন। পরে সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার উন্নত চিকিৎসার জন্য সিএমএইচে উড়িয়ে নেয়। আর এ কারণেই সেইদিন অনেকগুলো মানুষের তাজা প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হয়েছিলো। ঘটনার পর তাদের কৃতিত্ব ও সাহসীকতার কথা প্রকাশিত হয়েছিলো ৭১ টেলিভিশন সহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে।

পরে অনেক রথি-মহারথিদের আগমন ঘটে উপজেলায় সেই সাথে আহত ও নিহত পরিবারের সদস্য এবং অদম্য সাহসী তিন চালককেও পুরস্কারের ঘোষণার ফুলঝুরির আশ্বাস মিলে। নামমাত্র কিছু অর্থ বরাদ্দ দিয়েই। কিছুদিন যেতেই সবাই ভুলে যান তাদের কথা। কিন্তু একজন মানুষ ঠিকি মনে রেখেছেন তাদের; ২৭ বিজিবি মারিশ্যা জোনের মাননীয় জোন কমান্ডার লেঃ কর্ণেল আনোয়ার হোসেন ভুইঁয়া, পিএসসি, আর্টিলারী। দীর্ঘদিন পরে হলেও তাদের জোন সদরে ডেকে সকলের শারীরিক, মানসিক ও অর্থনৈতিক অবস্থার খোঁজ নেন এবং নিজের সাধ্যমত তাদের পাশে দাড়ানোর চেষ্টা করেন। এবং আগামীতেও পাশে থাকার অঙ্গীকার করেন।

এ সময় সেইদিনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পরেন তিন চালক এবং মারিশ্যা জোন কমান্ডারের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তাদের খোঁজ নেয়ার জন্য। এছাড়াও অন্যান্য আহত ব্যক্তিদের খোঁজ নেন জোন কমান্ডার। তাদের পাশে দাড়ানোর ঘোষণা দেন তিনি।

আলোকিত রাঙামাটি

মন্তব্য করুন: