• ২৭ জানুয়ারি ২০২২ ||

  • মাঘ ১৪ ১৪২৮

  • || ২২ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

রাঙ্গামাটি

ছাগলের নতুন জাত ‍‍“মেড ইন কাপ্তাই” উদ্ভাবন

 প্রকাশিত: ১৭:৩৮, ১৩ জানুয়ারি ২০২২

ছাগলের নতুন জাত ‍‍“মেড ইন কাপ্তাই” উদ্ভাবন

কাপ্তাই লগগেইট এলাকায় আকিদুর রহমানের ছাগলের খামার।


মোঃ নজরুল ইসলাম লাভলু, কাপ্তাইঃ- কাপ্তাইয়ে ছাগলের খামার করে সফল হয়েছে কাজী আকিদুর রহমান। সখের বসে ঘরের নিচে গড়ে তুলেছে ছাগলের খামার। তার খামারে হরিয়ানা, তোতা ও বিটল প্রজাতির ছাগলের জাত রয়েছে। এছাড়া তিনি হরিমানা ও তোতা জাতের শংকরায়ন করে নিজস্ব একটি নতুন জাত বানিয়েছেন। যে জাতের নাম রেখেছেন “মেইড ইন কাপ্তাই”।

এই ছাগলের বৈশিষ্ট হলো- এরা ১১ মাসে ২ বার বাচ্চা দেয়। আবার ১৭ থেকে ২০ দিনের মধ্যে পুনরায় গর্ভধারণ করতে পারে। আর অন্য প্রজাতির ছাগলের জাতগুলো বছরে ১ বার গর্ভধারণ করে। তাছাড়া অন্য জাতের ছাগলগুলো ১৪ বা ১৫ মাসে ২ বার বাচ্চা দেয়।

খামারী কাজী আকিদুর রহমানের দু'জাতের ছাগলের সংমিশ্রণে বানানো নতুন জাতের ছাগল রয়েছে বর্তমান ৩২টি। আর পূর্বের হরিয়ানা ও তোতা জাতের ছাগল রয়েছে ৪টি।

তিনি ২০০২ সাল থেকে এই ছাগল পালন শুরু করেছেন। দীর্ঘ ২০ বছর ধরে কাপ্তাই লকগেইটে তার বাসার নিচে ছাগলের খামার গড়ে তুলেছেন। এই ছাগল লালন-পালনের মাধ্যমে প্রতি মাসে তিনি সব খরচ বাদ দিয়ে ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত মুনাফা পাচ্ছেন, যা বছর শেষে তার লাভ হয় ৭ লাখ টাকার উর্ধ্বে। তবে এই ছাগল পালনের জন্য এবং নতুন জাত উদ্ভাবনের জন্য তিনি উপজেলা প্রাণী সম্পদ বিভাগের কারো কাছ থেকে সহযোগিতা না নিয়ে একাই করেছেন খামারটি।

গত বুধবার আলাপকালে তিনি জানান, আমার কর্মের পাশাপাশি নিজেকে একজন উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ার স্বপ্ন ছিল। কিন্তু কি করব তা বুঝে উঠতে পারছিলাম না। হঠাৎ একদিন আমার মাথায় আসল অল্প পুঁজিতে ছাগলের খামার করা যায়। আমি ২০০২ সাল থেকে এ খামার করছি। দুই প্রজাতির ছাগলের সংমিশ্রণে একটি নতুন জাত তৈরি করেছি যেটির নাম দিয়েছি মেইড ইন কাপ্তাই। আমার বাৎসরিক আয় ৭ লাখ টাকার মতো। আমার এই খামার ভবিষ্যৎতে আরো বড় করার পরিকল্পনা রয়েছে। যদি সরকারি কোন জায়গা ব্যবস্থা হয়, তাহলে আরো বড় পরিসরে ছাগলের খামার করতে পারব। এই খামার থেকে তিনি গত ডিসেম্বর মাসে ১৪টি বাচ্চা পেয়েছেন এবং জানুয়ারী-ফেব্রুয়ারীতে আরো ২০-২৫ টি বাচ্চা পাবেন বলে আশা করছেন।

কাজী আকিদুর রহমান কাপ্তাই উপজেলার একজন ফুটবল খেলোয়ার হিসাবে সু-পরিচিত। তিনি চট্টগ্রাম ও ঢাকা প্রিমিয়ার লীগে বিভিন্ন ক্লাবের হয়ে অংশ নিয়েছেন। এই খেলার সুবাধে তিনি সেনাবাহিনীর একটি বেঙ্গলের ফুটবল কোচিং করাতে  যশোরে যান। সেখান থেকে হরিয়ানা ও তোতা-২ জাতের ছাগল এনে খামার শুরু করেন। এরপর তার ভাগ্যের চাকা ঘুরে যায়।

স্থানীয়রা বলেন, অল্প পুঁজি দিয়ে ছাগলের খামার শুরু করে আকিদুর রহমান এখন একজন আদর্শ খামারি। তার এমন পরিবর্তন এলাকায় একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তার চলা পথ অনুষরন করে অন্য যুবকরাও এ একাজে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে। 

এ প্রসঙ্গে কাপ্তাই উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ এনামুল হক হাজারী জানান, আকিদুর রহমানসহ এসব কাজে যারা এগিয়ে আসে আমরা সবসময় তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করে আসছি এবং করবো। তারা যেন, প্রাণী সম্পদ দপ্তরে যোগাযোগ রাখেন এ বিষয়ে অনুরোধ জানাচ্ছি।

আলোকিত রাঙামাটি

মন্তব্য করুন: