• রাঙামাটি

  •  মঙ্গলবার, জুলাই ৫, ২০২২

রাঙ্গামাটি

কাপ্তাইয়ে আম্রপালির ফলন কম হওয়ায় হতাশ কৃষক ও বিক্রেতারা

কাপ্তাই প্রতিনিধিঃ-

 প্রকাশিত: ১১:২৪, ২২ জুন ২০২২

কাপ্তাইয়ে আম্রপালির ফলন কম হওয়ায় হতাশ কৃষক ও বিক্রেতারা

কাপ্তাই উপজেলা সদরে ফল বিক্রি করছেন দুলাল মিয়া।


কাপ্তাই উপজেলা সদরের মৌসুমি ফল বিক্রেতা মোঃ দুলাল মিয়া টানা ১৬ বছর ধরে উপজেলায় ফলের ব্যবসা করছেন। বিশেষ করে জৈষ্ঠ মাস অর্থাৎ মধুমাসে তার দম ফেলার সময় থাকেনা। আম, লিচু, কাঠাল, আনারস এসব মৌসুমী ফল কেনার জন্য ক্রেতাদের উপচে পড়া ভীড় থাকে তার দোকানের সামনে। প্রতিদিন হাজার হাজার টাকার ফল বিক্রি হয় তার। কাপ্তাইয়ের বাইরে থেকে আগত প্রচুর পর্যটক এসব ফল নিয়ে যেত বানা প্রান্তে। বিশেষ করে কাপ্তাইয়ের আম্রপালি সারাদেশে বেশ সমাদৃত। বছরের জুন জুলাই মাসে প্রচুর আম্রপালি কাপ্তাই থেকে জেলার বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু এবার কাপ্তাইয়ে সেই আম্রপালির ফলন কম হওয়ায় হতাশ প্রান্তিক কৃষক এবং দুলাল মিয়ার মতো মৌসুমি ফল বিক্রেতারা। তাদের মুখে নেই হাসি।

বুধবার (২২ জুন) কাপ্তাই উপজেলা সদর বড়ইছড়িতে কয়েক জন মৌসুমী ফল বিক্রেতা রাশেদ, বেলাল, কালামসহ কয়েকজনের সাথে আলাপকালে তারা জানায়, এ বছর কাপ্তাইয়ে আম্রপালির ফলন অনেক কম হয়েছে। তবে রুপালী, রাংঙ্গু এবং মল্লিকা জাতের আমের মোটামুটি ফলন হয়েছে কাপ্তাইয়ে। এছাড়া আনারস, কাঠাল, লিচুসহ নানা মৌসুমী ফলে ভরপুর হয়ে আছে কাপ্তাইয়ের বিভিন্ন হাটবাজার। তবে গতবছরের তুলনায় দাম কম হওয়ায় তারা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।

তারা জানান, গতবছর যেখানে প্রতিকেজি আম্রপালি ১শ' টাকা দরে বিক্রি হয়েছে এবার একই জাতের দাম ৬০-৭০ টাকা। আবার যেসব আমের দাম ৫০ টাকা ছিল এবার তা ৩৫-৪০ টাকায় বিক্রি করছে তারা। অত্যন্ত সু-স্বাদু হওয়ায় আম্রপালির চাহিদা ক্রেতাদের কাছে সবচেয়ে বেশী বলে এই ব্যবসায়ীরা জানায়।

এদিকে, কাপ্তাইয়ের তালুকদার সবুজ খামারের প্রোপাইটার ওয়াগ্গা মৌজার হেডম্যান অরুন তালুকদার জানান, প্রতিবছরের মতো এবছরও তার বাগানে প্রায় ২০ একর জমিতে আম্রপালি এবং রাঙ্গু জাতের আমের চাষ করা হয়। বিগত কয়েক বছরের তুলনায় এ বছর তার বাগানে আম্রপালি জাতের আমের ফলন কম হলেও রাঙ্গু জাতের আমের ফলন মোটামুটি হয়েছে।

কৃষক আপাই মারমা, অজিত তালুকদারসহ অনেক কৃষক জানান, এ বছর তাদের বাগানে আম্রপালির ফলন খুবই কম হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কাপ্তাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সামসুল আলম চৌধুরী জানান, আবহাওয়া পরিবর্তন হওয়ার কারণে বিশেষ করে অত্যধিক গরমের ফলে এ বছর কাপ্তাইয়ে আম্রপালির ফলন কম হয়েছে। তবে রাঙ্গু জাতের আমের ফলন ভালো হয়েছে।

এই কৃষি কর্মকর্তা আরও জানান, উপজেলা কৃষি বিভাগের মাঠ পর্যায়ের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে উপজেলার প্রত্যেকটি ইউনিয়নে এ বছর মৌসুমী ফলের আশানুরুপ উৎপাদন হয়েছে। প্রত্যেকটি গাছে পোকা মাকড়ের আক্রমণ ছাড়া কৃষকরা আম, কাঠাল, আনারস, লিচু ঘরে তুলতে পেরেছে।

মন্তব্য করুন: