• রাঙামাটি

  •  রোববার, অক্টোবর ২, ২০২২

রাজনীতি

বিক্ষোভ সমাবেশে আওয়ামী লীগ নেতারা

অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির সুযোগ দেওয়া হবে না

নিউজ ডেস্কঃ-

 প্রকাশিত: ১৪:৩৯, ১৮ আগস্ট ২০২২

অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির সুযোগ দেওয়া হবে না

দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ।

এখন থেকে বিএনপি-জামায়াত যেখানেই ‘সন্ত্রাস-নাশকতা’ করবে, সেখানেই প্রতিরোধ করা হবে। দলটির নেতারা বলেন, আজ অগ্নি-সন্ত্রাসীরা মাঠে নেমেছে। আমরাও আজ থেকে মাঠে নামলাম। পেট্রোল বোমা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করতে দেব না।

কাউকে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির সুযোগ দেওয়া হবে না। দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তারা বলেন, আপনারা প্রস্তুত তো? খেলা হবে। রাজপথে, আন্দোলনে, নির্বাচনে খেলা হবে। সেই খেলায় আমরাই জয়লাভ করব। বিএনপি গত নির্বাচনে ধরা খেয়েছে, এবারও ধরা খাবে। এজন্য আওয়ামী লীগের প্রত্যেক নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

সিরিজ বোমা হামলা দিবস উপলক্ষ্যে বুধবার বিকালে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সামনে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ আয়োজিত সমাবেশে বক্তারা এসব কথা বলেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আওয়ামী লীগের জন্ম এই দেশের মাটিতে। বন্দুকের নলে জন্ম হয়নি। ভয় দেখিয়ে লাভ নেই।

আন্দোলনকে আওয়ামী লীগ ভয় পায় না, আন্দোলনেই আওয়ামী লীগের জন্ম। তিনি বলেন, জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসের পৃষ্ঠপোষক বিএনপিকে রুখতে হবে। আজ আমাদের শপথ নিতে হবে-জঙ্গিবাদের ঠিকানা বাংলাদেশে হবে না। আগামী নির্বাচনে দেশের মানুষ আবারও আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে প্রমাণ করবে এই দেশ বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ।

দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে সেতুমন্ত্রী বলেন, আপনারা প্রস্তুত তো? আগামী নির্বাচনে খেলা হবে, সেই খেলায় আমরাই জয় লাভ করব। তবে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ কোনোদিন শ্রীলংকা ও পাকিস্তান হবে না।

বাংলাদেশকে নিয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনা ভাবেন। তিনি জেগে আছেন, আমরা যেন ঘুমাতে পারি। মঞ্চে মাত্রাতিরিক্ত নেতাকর্মী চলে আসায় বিরক্তি প্রকাশ করে সেতুমন্ত্রী বলেন, মঞ্চে এত নেতা? কোথায় থেকে এলো এত নেতা? নেতার ভিড়ে কর্মী চেনা দায়। সবাই নেতা। নেতারা কর্মীদের সঙ্গে বসবেন। নেতা একজন-শেখ হাসিনা। আমরা সবাই কর্মী।

সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, তারা ভেবেছিল সিরিজ বোমা হামলার ভয়ে মানুষ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থেকে সরে আসবে, তা হয়নি। তারেক-খালেদার পদক্ষেপের ঘৃণা প্রকাশ করছে। এই দেশ জঙ্গিবাদের নয়।

সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বিএনপি দেশে জঙ্গিবাদ কায়েম করেছিল। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের হত্যা করেছিল। ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করার জন্য গ্রেনেড হামলা করা হয়েছিল। উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে দেশের জনগণ আবারও আওয়ামী লীগকে ভোট দেবে। সভাপতিমণ্ডলীর আরেক সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, বাংলা ভাইয়ের নেতা দণ্ডিত তারেক রহমান দেশকে অস্থিতিশীল করার স্বপ্ন দেখে। দেশে শান্তি বিঘ্নিত করতে চায়। মির্জা ফখরুল-কিছু করার ক্ষমতা আপনাদের নেই। আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি এবং গণতান্ত্রিক ও বাক্স্বাধীনতা আছে বলেই যা খুশি বলেন। সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুর রহমান বলেন, যারা আওয়ামী লীগকে সন্ত্রাস বলে, তারা জানে না, আমরা এই মাটিতে জন্মেছি। পাঞ্জা ধরব, ওদের পরাজিত করে ছাড়ব। সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম বলেন, বিএনপি-জামায়াত বোমা হামলা ও সন্ত্রাসের রাজনীতি কায়েম করতে চায়। আজ আমাদের শপথ নিতে হবে। আজকের একটা নমুনা দেখালাম। এরপর বিএনপি-জামায়াতকে বঙ্গোপসাগরে ফেলব। সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেন, এরা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তি। এই অপশক্তিকে রাজনীতি থেকে বিতাড়িত করতে হবে।

যুগ্মসাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, বিএনপি-জামায়াত দেশকে অন্ধকারে নিয়ে গিয়েছিল। সেই বাংলাদেশকে আজ আমরা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। দেশকে তারা পাকিস্তান বানাতে চায়।

আরেক যুগ্মসাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, আজ অগ্নি-সন্ত্রাসীরা মাঠে নেমেছে। আমরাও আজ থেকে মাঠে নামলাম। পেট্রোল বোমা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করতে দেব না। কাউকে অশান্ত পরিস্থিতি তৈরির সুযোগ দেব না। যুগ্মসাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, বাংলাদেশে কোথাও সন্ত্রাস করতে দেব না। আজ আওয়ামী লীগ অনেক শক্তিশালী। আমরা প্রস্তুত। ঢাকা তো দূরের কথা-বাংলাদেশের যেখানে অন্যায় হবে, সেখানেই প্রতিবাদ হবে। সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন বলেন, এই রাজপথ সন্ত্রাসীদের নয়। এই রাজপথ জনগণের। ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমানের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, মির্জা আজম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু আহমেদ মন্নাফী প্রমুখ। বিক্ষোভ সমাবেশ সঞ্চালনা করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির ও মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এসএম মান্নান কচি। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশের সময় ছিল বিকাল ৪টায়। তবে দুপুরের আগে থেকেই সমাবেশস্থলে আসতে শুরু করে মানুষ। মিছিলে মিছিলে প্রক?ম্পিত হতে শুরু করে শাহবাগ থেকে প্রেস ক্লাব, মৎস্য ভবন থে?কে কাকরাইল। নেতাকর্মীদের ভিড়ে পুরো এলাকা জনসমুদ্রে রূপ নেয়। বিকাল সোয়া ৫টায় সমাবেশ শেষে মিছিলটি ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

মন্তব্য করুন: