• রাঙামাটি

  •  শুক্রবার, আগস্ট ১৯, ২০২২

জনদূর্ভোগ

জুরাছড়িতে রেলিংবিহীন ঝুঁকিপূর্ণ সেতু দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার

জুরাছড়ি প্রতিনিধিঃ-

 প্রকাশিত: ১২:৫১, ৪ আগস্ট ২০২২

জুরাছড়িতে রেলিংবিহীন ঝুঁকিপূর্ণ সেতু দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার

রাঙামাটি জুরাছড়ি উপজেলার বনযোগীছড়া ইউনিয়নের বেকাবক্যা খালের ওপর ঝুঁকিপূর্ণ সেতু দুই যুগেও মেরামতের উদ্যোগ নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সেতুর দু’পাশে রেলিং ছাড়াই ঝুঁকি নিয়ে সেতু পার হচ্ছে স্থানীয়রা। দীর্ঘ বছর ধরে এমন নাজুক অবস্থায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন। প্রতিবছর কেউ না কেউ এই ব্রীজে দুর্ঘটনার কবলে পরছে।

জানা যায়, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ ২০০১ সালে এই সেতু নির্মাণ করে। এই সেতু জুরাছড়ি উপজলা বনযাগীছড়া ইউনিয়নের ছোট পানছড়ি ও ডান পানছড়ি, বেকাবক্যায় মানুষের যোগাযোগের একমাত্র পথ এটি। শুধু এই তিনটি গ্রাম নয়, উপজেলা হতে বরকল উপজেলায় স্থলপথে একমাত্র পথ এটি। প্রতিদিন এই সেতু দিয়ে এলাকার উৎপাদিত কৃষিপণ্য পরিবহন করতে হয়। এছাড়াও ছোট পানছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ধামাই পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভুবন জয় সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের ভরসা একমাত্র এই পথ।

স্থানীয় কালাধন চাকমা ও পরিমল চাকমা বলেন, “র্দীঘ দিন ধরে সেতুটির রেলিং ভেঙে পরে আছে। এ সেতুর উপর দিয়ে প্রতিদিন শত শত মানুষ ও যান চলাচল করে। সেতুটি র্দীঘ সময়ও মেরামত করা হয়নি।”

এরাইছড়ি মৌজার হেডম্যান রিতেশ চাকমা বলেন, “রেলিং ভাঙা অবস্থায় র্দীঘ বছর ধরে পরে আছে। এতে সাধারণ মানুষ ও যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে গিয়ে প্রতি বছর কেউ না কেউ দুর্ঘটনায় কবলে পরে। সংশ্লিষ্ট্য কর্তৃপক্ষের কাছে সেতুটি পুনঃনির্মাণের জন্য আবেদন জানাচ্ছি।”

স্থানীয় কার্বারী আশু গাপাল চাকমা ও ওয়ার্ড সদস্য লাক বিদু চাকমা বলেন, সেতুতে রাতে কোন আলোর ব্যবস্থা নেই। মোটরসাইকেল যাত্রী ও ট্রোলিতে মালামাল নিয়ে গেলে প্রচন্ড কাপে। সেতুটি পাড় হতে বেশ বেগ পেতে হয়। কোন কারণে একটু ভুল হলেই অথবা সেতুর সাইড গাড়ী পড়লে নিশ্চিত বড় ধরনের ক্ষতি হবে।

বনযাগীছড়া ইউপি চেয়ারম্যান সন্তোষ বিকাশ চাকমা বলেন, “সেতুটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। এটি দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।”

উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী মো: মোতিউর রহমান বলেন, “বিষয়টি আমরা সরেজমিন পরিদর্শন করেছি। উপজেলা হেডকোয়ার্টার হতে বরকল সড়ক উন্নয়ন এই সেতু নির্মাণ করা হবে। ইতিমধ্যে প্রকল্প অনুমোদনের জন্য বিভাগীয় পর্যায় পাঠানো হয়েছে।”

উপজেলা চেয়ারম্যান সুরেশ কুমার চাকমা বলেন, “বিষয়টি আমাদের অবগত রয়েছে। আশা করি চলতি অর্থবছর এই সেতুটি পুনঃনির্মাণ কাজ শুরু হবে।”

মন্তব্য করুন: