• রাঙামাটি

  •  রোববার, অক্টোবর ২, ২০২২

খেলা

হিমালয়ের দেশ থেকে মাথা উঁচু করে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন

 প্রকাশিত: ১৬:৫৭, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২২

হিমালয়ের দেশ থেকে মাথা উঁচু করে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন

মানতেই হবে ফুটবলের সার্বিক উন্নয়নে বাফুফের হাজার ব্যর্থতা থাকলেও মেয়েদের এই কাঠমান্ডু জয়ে তাদেরও অবদান আছে। হ্যাঁ, মাঠে সাবিনা-কৃষ্ণা-মনিকারাই লড়েছেন, এ অর্জন তাদের লড়াইয়েরই সরাসরি সুফল, তবে এই সুফল ঘরে তোলার পথ রচনায় বাফুফের সুপরিকল্পনা নিশ্চয়ই সু-প্রযুক্ত হয়েছে।

রুপনা-ঋতুপর্ণা-মনিকা-আনাই-আনুচিং-সাবিনা-শামসুন্নাহার-কৃষ্ণাদের দারিদ্র্য, কুসংস্কার, পুরুষতান্ত্রিকতাসহ সমাজের নানা প্রতিবন্ধকতা পাশ কাটিয়ে হিমালয়ের দেশ থেকে মাথা উঁচু করে স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের এই ক্ষণে বাফুফেকে অবশ্যই ধন্যবাদ জানাতে হয়।

তবে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের এই সাফল্যকে পাটাতন করে আরো আরো সাফল্যের সৌধ রচনার প্রস্তুতিরও এখনই সময়। দেশের ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা দক্ষিণ এশিয়ার গণ্ডি ছাড়িয়ে স্বপ্নটাকে আরো বহুদূর প্রসারিত করার দায়িত্ব যেন ভুলে না যায়। রুপনা-ঋতুপর্ণা-মনিকা-আনাই-আনুচিং-সাবিনা-শামসুন্নাহার-কৃষ্ণাদের এখনো অনেক সুযোগ-সুবিধা দরকার, আরো নিরাপদ জীবনের নিশ্চয়তা দরকার, সব সময় তাদের পাশে থাকা দরকার – এ কথাও যেন বাফুফে ভুলে না যায়।

ভুলে যাওয়ার সুদীর্ঘ অতীত আছে বলেই এ আশঙ্কা।

দুই বছর আগে ক্রিকেটে অনূর্ধ-১৯ বিশ্বকাপ জিতেছে বাংলাদেশের ছেলেরা। প্রবল উচ্ছ্বাসে তখনো কেঁপেছিল দেশ। উড়েছে আশার সহস্র ফানুস। অথচ বিশ্বজয়ী সেই ক্রিকেটারদের পরিচর্যা ঠিকভাবে হয়েছে কিনা এ প্রশ্ন এখন খুবই সময়োপযোগী। না হলে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সেই দলের একাধিক খেলোয়াড়কে দেখার সম্ভাবনা হয়ত থাকতো। অনেক তরুণ জাতীয় দলের কড়া নাড়ছেন- এমনটিও আমরা হয়ত দেখতে পেতাম৷। 

ক্রিকেটেও কিন্তু মেয়েরা পিছিয়ে নেই। বাংলাদেশের মেয়েরা মালয়েশিয়ায় ভারতকে হারিয়ে এশিয়াসেরা হয়েছেন চার বছর আগে। কিন্তু তারপর? চার বছরে খুব বেশি কিছু বদলায়নি। এখনো সাকিব-তামিম-মুশফিক-মুস্তাফিজ আর  নিগার সুলতানা-শামীমা সুলতানা-সালমা খাতুন-সানজিদা আক্তার মেঘলারা যেন দুই ভূবনের বাসিন্দা। ট্রেনিং ফ্যাসিলিটিজ, বেতন, প্রাইজমানি, সামাজিক নিরাপত্তা- সবকিছুতেই কত পার্থক্য!

এই পার্থক্য যত দ্রুত সম্ভব সর্বোচ্চ চেষ্টায় দূর করতে হবে৷ মনিকা-আনাই-আনুচিং-সাবিনা-শামসুন্নাহার-কৃষ্ণারা যেন পরিবারের সদস্যদের অন্ন সংস্থানের চিন্তায় না জড়িয়ে ফুটবলে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে থাকতে পারেন- সেই ব্যবস্থা করতে হবে। এলাকায় ফিরে তারা যেন সগর্বে, নিঃসঙ্কোচে ফুটবলার হিসেবে নিজেকে আরো শানিত করার চেষ্টা জারি রাখতে পারেন সেদিকে সবার নজর রাখতে হবে।

সবটাই কিন্তু বাফুফের দায়িত্ব নয়। এখন যেমন সবাই সোৎসাহে স্বপ্রণোদিত হয়ে রুপনা-ঋতুপর্ণা-মনিকা-আনাই-আনুচিং-সাবিনা-শামসুন্নাহার-কৃষ্ণাদের স্যালুট জানাচ্ছেন, ভবিষ্যতেও যার পক্ষে যেভাবে যতটা সম্ভব তাদের পাশে  থাকাটা খুব জরুরি। তাহলে বর্তমানের এবং আগামীর মনিকা-আনাই-আনুচিং-সাবিনা-শামসুন্নাহার-কৃষ্ণারাও আমাদের স্যালুট জানাবেন।

মন্তব্য করুন: